• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

ভারতে হবিগঞ্জের যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ৪ দিনেও লাশ ফেরত দেয়নি

প্রকাশ:  ২৮ মে ২০২০, ১৬:৫১
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

গরুচোর অপবাদ দিয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার লোকমান হোসেন (৩২) নামের এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয় নাগরিকরা। এঘটনার চার দিনেও লাশ ফেরত দেওয়া হয়নি।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে বাংলাদেশের মোহনপুর নামকস্থানে ১৯৯৪/৪ এস পিলারে নিকট বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক হয়। এসময় ভারতের পক্ষে বিএসএফের ১২০ব্যাটালিয়নের মোহনপুর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার ইন্সপেক্টর শশি কান্ত ও বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৫৫ বিজিবির ধর্মঘর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার দেলোয়ার হোসেন। ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরা রাজ্যের মোহনপুর সীমান্ত দিয়ে লাশ হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু ভারতীয় পুলিশ ময়না তদন্ত, সুরতহাল রিপোর্ট আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র ছাড়া লাশ হস্তার করতে চায়। এতে বাংলাদেশের বিজিবি-পুলিশের প্রতিনিধিরা অস্বীকৃতি জানায়।

এর আগে গত ২৪ মে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মোহন এলাকায় তার ফুফুর বাড়ি যাচ্ছিলেন লোকমান হোসেন। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের গোপালনগর পৌঁছাতেই একদল ভারতীয় নাগরিক তাকে পথরোধ করে গরুচোর সন্দেহে এলোপাতাড়ি পিটাতে থাকে। এসময় লোকমান বেড়াতে এসেছে এমন আকুতি বার বার জানালেও তারা শুনেনি। পিটুনিতে এক পর্যায়ে সে মারা যায়।

এই সংবাদটি ভারতীয় কয়েটি গণমাধ্যমে লোকমানের আকুতির ভিডিও প্রচার হয়েছে। তবে গরু চোর সন্দেহ গণপুটুনীতে তার মৃত্যুর খবর ত্রিপুরার গনমাধ্যম সম্প্রচার করেছে। মৃত ভেবে ভারতীয়রা লোকমানকে বাংলাদেশ সীমান্তের অদূরে একটি জঙ্গলে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা রাজ্যের সিধাই থানা পুলিশ মূমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে লোকমানের মৃত্যু হয়। নিহত লোকমান মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের মাল পুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে।

নিহতের পরিরার সূত্র জানান, লোকমান বাড়ি পাশ দিয়ে অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মোহনপুরে তার ফুফুর বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের রোষানলে পরে নির্মমভাবে খুন হন।

লোকমানের মৃত্যুর খবর জানার পর তার লাশ দেশে ফিরে আনার ব্যাপারে দু দেশের সীমান্ত রক্ষীদের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা শেষে সকল প্রকার আনুষ্টানিকতা শেষে বুধবার বিকেল মোহনপুর সীমান্ত দিয়ে লোকমান মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তুু ভারতের পশ্চিম ত্রীপুরার সিধাই থানা পুলিশ লোকমান মিয়ার মৃত্যু সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে আসেনি। তারা হত্যাকাণ্ডকে অপমৃত্যু বলছে।

সিধাই থানা পুলিশ ও মাধবপুর থানার কাসিমনগর পুুুলিশ ফাঁঁড়ির ইন্সপেক্টর মোরশেদ আলম এবং এসআই কামরুল হাসান মৌখিকভাবে অবগত করেন বাংলাদেশি নাগরিক লোকমানকে সিধাই থানার গোপাল নগর গ্রামে আহত অবস্থায় পাওয়া যায় পরে তাকে আগরতলা জিবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

ইন্সেফেক্টর মোরশেদ আলম এবং এসআই কামরুল হাসান ময়না তদন্ত রিপোর্টসহ আনুসাঙ্গীক কাগজ পত্রসহ লাশ ফেরত চান। কিন্তুু কাগজপত্র ছাড়া লাশ হস্তান্তর করতে চাইলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা কাগজ ছাড়া লাশ গ্রহণে অনিহা প্রকাশ করায় ভারতীয়রা লাশ ফেরত দেয়নি।

নিহতের ছোট ভাই হুমায়ুন মিয়া বলেন, আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। অথচ কাগজপত্র ছাড়া লাশ ফেরত দিতে চায়। আমরা বাংলাদেশের বিজিবি ও পুলিশের মাধ্যমে কাগজপত্রসহ লাশ ফেরত চাই।

৫৫-বিজিবির সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/আরএইচ

হবিগঞ্জ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close