• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

করোনা জয়ের অভিজ্ঞতা জানালেন ডা. গৌতম রায়

প্রকাশ:  ২২ মে ২০২০, ১৫:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাস যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতাল (করোনা হাসপাতাল) তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায়। তিনি এখন করোনাভাইরাস মুক্ত এবং সম্পূর্ণ সুস্থ। গত ১৮ মে করোনা যুদ্ধে জয়ী এই চিকিৎসক হাসপাতালে তার নিজ দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণ করেন। নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত ১৪ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষায় তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।

করোনা জয়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ডা. গৌতাম রায় বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে সিলেটে বসবাস করে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে আমি একাই নারায়ণগঞ্জে আসি এবং হাসপাতাল সংলগ্ন কোয়াটারে অবস্থান করি। হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে আমি করোনা আক্রান্ত হই। আমার পরিবার যখন জানতে পারে আমি করোনা আক্রান্ত, তারা ভীষণ ভয় পেয়ে যায়। তাদের ভয় পাবার মূল কারণ ছিল নারায়ণগঞ্জে আমার একা থাকাটা। অসুস্থ অবস্থায় আমি একা কিভাবে ম্যানেজ করবো সেটা নিয়েই তারা চিন্তিত ছিল। তার উপর মৃত্যু ভয় তো রয়েছেই। তবে আমি তাদের আশ্বস্থ করার পর তারা বিষয়টা সহজভাবে নিতে সমর্থ হয়।’

তিনি বলেন, ‘সবাই মনে করে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেই মৃত্যু নিশ্চিত। বিষয়টি আসলে তা না। অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, কিছু মারা যাচ্ছেন। তবে এদের মধ্যে অধিকাংশ সুস্থ হয়ে উঠছেন। আতঙ্ক নয়, মনোবল ও সচেতনতার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে ও চিকিৎসকের পরামর্শে যে কেউ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।’

গৌতম রায় জানান, করোনা শনাক্ত হবার ২৫ দিন পর আইসোলেশনে থাকার পর সুস্থ হয়ে উঠেন তিনি। এরমধ্যে আক্রান্ত হবার পর গত ২৯ এপ্রিল প্রথম দফায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে আইইডিসিআর এ নমুনা প্রেরণ করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ৪ মে আবার নমুনা প্রেরণ করা হয়। কিন্তু দুই নমুনা পরীক্ষার কোনোটার রিপোর্টই পাননি তিনি। পরবর্তীতে ৬ মে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থপনের পর ৭ মে প্রথম ফলোআপ ও ১০ মে দ্বিতীয় ফলোআপ পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তার। তবে দুর্বলতার কারণে আরো ৭দিন বিশ্রামে থাকতে হয় তাকে।

তিনি আরও জানান, আইসোলেশন থাকা অবস্থায় সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন তিনি। একই সঙ্গে নিয়মিত ঔষধ গ্রহন, ব্যায়াম ও গরম পানির ব্যবহার করেছেন। আইসোলেশনে থাকাবস্থায় কাশি ছাড়া অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি তার। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়নি। গৌতম রায় বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব নিয়ে যেটা মেনে চলেছি সেটা হলো দূরত্ব নিশ্চিত করা ও গরম পানির ব্যবহার। আইসোলেশনে থাকাবস্থায় প্রতিদিন গরম পানির ব্যবহার করেছি এবং কারো সংস্পশে আসিনি। আমি একা বসবাস করি তাই বাইরে থেকে আমাকে খাবার দিয়ে আসা হত। এ ক্ষেত্রেও আমি সকলের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলেছি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে আমার কক্ষের সামনে খাবার রেখে যেত। আমি পরে গিয়ে সে খাবার নিয়ে আসতাম।’

গৌতম রায় জানান, ‘কিছু জটিলতার কারণে আমার সুস্থ হয়ে উঠতে একটু সময় লেগেছে। তবে এখন আমি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং গত চারদিন যাবৎ হাসপাতালে নিজ দায়িত্ব পালন করছি।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও আক্রান্তদের পরিবারের উদ্দেশ্যে এই চিকিৎসক বলেন, ‘করোনাভাইরাস মানে মৃত্যু নয়। আতঙ্কিত, ভীত না হয়ে ধীর মনোবলের সঙ্গে করোনার মোকাবেলা করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে যে কেউ সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন। সতর্ক থাকুন, নিজে সুস্থ থাকুন এবং পরিবারকে সুস্থ রাখুন।’

প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জবাসীর কাছে গরিবের ডাক্তার খ‌্যাত গৌতম রায়ের কাছে কখনো কোনো মানুষ চিকিৎসা চেয়ে ফিরে আসেননি। অমায়িক বিনয়ী এই চিকিৎসক গভীররাতেও মানুষের বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

সুনামগঞ্জ,ডা. গৌতম রায়
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close