• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

বরগুনার জেলা প্রশাসক আমফান মোকাবেলায় অনন্য উদাহরণ

প্রকাশ:  ২১ মে ২০২০, ১০:১৬
বরগুনা প্রতিনিধি

চারিদিকে ভারী দমকা হাওয়া, ঘুটঘুটে অন্ধকার। সাইক্লোন আমফানের ১০ নম্বর সতর্ক সংকেত। অপরদিকে জনে জনে করোনার আশঙ্কা। এরই মধ্যে রাতভর এক আশ্রয় কেন্দ্র থেকে আরেক আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটে বেড়ান বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। তার কঠোর নির্দেশনায় জেলার ছয়টি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ছুটে বেড়ান সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে সুপার সাইক্লোন আমফানের প্রস্তুতি। দফায় দফায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডেকে জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি পৃথক দল এবং জরুরি বিদ্যুৎ সমস্যা নিরসনের জন্য আরও চারটি পৃথক দল তৈরি করে দেন তিনি।

এছাড়া জেলার ৪২টি ইউনিয়নের জন্য ৪২টি মেডিকেল টিম গঠন করে জেলার ৬১০টি আশ্রয় কেন্দ্রের জন্য খাবারের ব্যবস্থা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা এসবই সামলেছেন তিনি নিজ বুদ্ধিমত্তায়। এসব কাজে বরগুনা জেলা পুলিশ, নৌবাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের অনুজ সহকর্মীরা তাকে সহযোগিতা করেছেন সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে। দিনরাত পরিশ্রম করেছেন এবং করছেন সবাই।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি সিপিপির ছয় শতাধিক কর্মীবাহিনীসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীদের তিনি কাজে লাগিয়েছেন সুপরিকল্পিতভাবে।

বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নূর হোসেন সজল বলেন, যতই দিন যাচ্ছে ততই যেন কঠিন সময় ভর করছে। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ স্যার করোনা দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকে আজ অবধি একদিনও বিশ্রাম নিতে পারেননি। একদিনও ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারেননি আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণও। আর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হিসেবে পুরো পরিস্থিতি সমন্বয় করতে হয়েছে আমাকে।

বরগুনা জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান বলেন, বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ স্যারের কাছ থেকে আমরা সবাই নতুন করে দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হচ্ছি প্রতিনিয়ত। শিখছি মৃত্যুঝুঁকি নিয়েও দেশের এমন দুঃসময়ে কিভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করা যায়। ২০২০ সালের এই মে মাসের এসব কর্মযজ্ঞ হয়তো আমাদের সারা জীবনের জন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে।

বরগুনা জেলা এনজিও উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব মৃধা বলেন, দেশের এই মহা সংকটকালে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তা সত্যিই একটি অনন্য উদাহরণ। এছাড়াও জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর অনেক সৃজনশীল কাজ ইতোমধ্যেই বরগুনাবাসীর নজর কেড়েছে।

আব্দুল মোতালেব মৃধা আরেও বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল যেতে না যেতেই আসে খাগদন ভাড়ানি খাল উচ্ছেদের কাজ। স্থানীয় প্রভাবশালীদের উচ্চ আদালতে মামলার হুমকি উপেক্ষা করেও দিনের পর দিন তিনি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অর্ধশত বছরের বেদখল হওয়া বরগুনার খাগদন ভাড়ানি খালটি উদ্ধার করেন। বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাড. সঞ্জিব দাস বলেন, বরগুনায় আধুনিক কালেক্টরেট মার্কেট এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পট্টির সংস্কার করে জেলা প্রশাসক সর্বমহলের প্রসংশা কুড়িয়েছেন।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, এসবই আমার দায়িত্ব। আমার দায়িত্বটুকুই শুধু আমি যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করছি। এর থেকে বেশি কিছুই নয়। তিনি আরও বলেন, বরগুনা মানেই বাংলাদেশ। আমি বরগুনা ও বরগুনার মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই তা পুরো বাংলাদেশের জন্য করা হবে। দলমত নির্বিশেষে তিনি সকল সচেতন মানুষকে একযোগে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহবান জানান।

পূর্বপশ্চিমবিডি/আরএইচ

বরগুনা,আমফান,ডিসি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close