• রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

খুনি মাজেদের লাশ তুলে মেঘনায় ভাসিয়ে দেওয়ার ঘোষণা

প্রকাশ:  ১৩ এপ্রিল ২০২০, ২৩:১০ | আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ২৩:১৪
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রায় সাড়ে চার দশক আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণের দায়ে আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় রোববার (১২ এপ্রিল)। জন্মস্থান ভোলায় নয়, শ্বশুরবাড়ি এলাকা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকায় ওই দিন ভোরে মরদেহ দাফন করা হয়।

লাশ তুলে না নিলে এলাকার মানুষ লাশ মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে এলাকাবাসী। হোসেনপুর এলাকায় মাজেদের মরদেহ দাফনের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার মরদেহ সেখান থেকে অপসারণের দাবিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন।রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকায় বিক্ষোভ করেন তারা।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনের লোকজন এলাকাবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। শম্ভুপুরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফও ঘটনাস্থলে হাজির হন। গোপনে বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের মরদেহ সোনারগাঁয়ের মাটিতে দাফন করা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের সহায়তায় মাজেদকে সোনারগাঁয়ে দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এ নিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অনেকে ফেসবুকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মরদেহ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। মাজেদের মরদেহ অপসারণ করা না হলে কবর থেকে তুলে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এলাকার শত শত মানুষ ঘোষণা দিয়েছেন, হয় লাশ তুলে নিন নইলে মেঘনায় ভাসিয়ে দেব। শম্ভুপুরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রিয়াজুল হক টিটু বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি মাজেদের মরদেহ কীভাবে সোনারগাঁয়ে দাফন করা হলো বুঝতে পারছি না। মাজেদের মরদেহ অপসারণের জন্য এলাকাবাসী বিক্ষোভ করছে।

আমরা মাজেদের মরদেহ সোনারগাঁয়ে থাকতে দিব না। যেকোনো উপায়ে মরদেহ অপসারণ চাই।

শম্ভুপুরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, মরদেহ অপসারণ করতে হলে প্রশাসনের মাধ্যমে করতে হবে। সে বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছি।

প্রসঙ্গত, ১০ বছর আগে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ৫ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়। দীর্ঘ বিরতির পর হলেও কলঙ্ক মোচনে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি বরখাস্ত ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ ২৫ বছর ধরে ভারতে পালিয়ে ছিলেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে সেখান থেকে গত ২৬ মার্চ ময়মনসিংহ সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

বঙ্গবন্ধু,ত্মস্বীকৃত খুনি,ক্যাপ্টেন,আবদুল মাজেদের মৃত্যুদণ্ড,নারায়ণগঞ্জ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close