• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত গিটারিস্টের নির্মম মৃত্যু

প্রকাশ:  ১০ এপ্রিল ২০২০, ১৭:২৫ | আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২০, ১৭:২৮
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে সর্দি জ্বর, ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যাওয়া গিটারিস্ট হিরো লিসান (৩০) করোনাভাইরাসেই আক্রান্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন জেলা করোনা ফোকাল পারসন এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর এ পাঠানো হয়। পরে তারা বৃহস্পতিবার আমাদের করোনাভাইরাস পজেটিভ এর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বেস গিটারিস্ট খাইরুল আলম হিরু নারায়ণগঞ্জের সঙ্গীত জগতে হিরো লিসান নামে ব্যাপক পরিচিত মুখ তিনি। বাসা শহরের দেওভোগ চেয়ারম্যান বাড়ি (কৃষ্ণচূড়া মোড়) এলাকায়। গত ২৬ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে নারায়ণগঞ্জের মেডিনোভা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের সেবা নেয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। পরে নিজ থেকেই আইইডিসিআর এর হটলাইনে দু’দিন চেষ্টা করেও করোনা ভাইরাসের টেস্টের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এক পর্যায়ে সোমবার (৭ এপ্রিল) রাতে হিরুর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত এ্যাম্বুলেন্স করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার জন্য এ্যাম্বুলেন্স আনে।

কিন্তু বাঁধা দেয় এলাকাবাসী। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এলাকা থেকে এ্যাম্বুলেন্স বের হতে দেয়া যাবে না অজুহাতে প্রায় ১ ঘন্টা এ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে তারা। কখনো ফতুল্লা থানা পুলিশ আবার কখনো সদর থানা পুলিশের অনুমতি নিতে নিতেই রাত ১টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে হিরু। ফলে মৃতদেহ পড়ে থাকে বাড়ির গেটের ভেতরেই। এমন অভিযোগ নিহত হিরুর বড় ভাই আবু নাঈমের।

তিনি বলেন, গত ২৬ মার্চ থেকে জ্বর, ঠান্ডা, গলা ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। পরে নারায়ণগঞ্জের মেডিনোভা, ঢাকা মেডিকেলসহ বেশ কজন চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিলেও তারা কেউ করোনাভাইরাসের পরীক্ষার পরামর্শ দেয়নি আমার ভাইকে।

আবু নাঈম মঙ্গলবার বলেছিলেন, মৃত্যুর পর ১২ ঘন্টা আমার ভাইয়ের লাশ বাড়ির সামনে মেঝেতে পড়ে ছিল। কেউ দাফনের জন্য আসেনি। দাফনের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানানো হলে তিনিও ফোন কেটে দেন। ডিআইটি মসজিদ দাফন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়ে দেন, করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে মারা যাওয়া কাউকে তারা দাফন করেন না। এলাকাবাসী বা প্রশাসন নিজেরাও কিছু করছে না, আমাদেরও কিছু করতে দিচ্ছে না। বাড়িতে তিনজন নারী ও একটি শিশু ছাড়া কেউ নেই। এ অবস্থায় কী করব, কোথায় যাবো?

পরে জেলা সিভিল সার্জন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে দাফন করা হয়।

ওই পরিবার ও বাড়ির সকলকে আপাতত হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বেস গিটারিস্ট হিরো লিসানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার সহকর্মীদের মাঝে। শোকে মু্হ্যমান পরিবারের সদস্যা। নিহত হিরোর স্ত্রী ও এক বছরের এক সন্তান রয়েছে।

হিরোর লাশ যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন স্বজনদের কেউ ছিল না পাশে। বিদায় বেলায় শেষবারের মতো তার মুখটাও দেখতে পারেনি তারা। হায়রে মৃত্যু! কি নির্মম।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

নারায়ণগঞ্জ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close