• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

‘হয় কাজ, না হয় খাবার দেন ”

প্রকাশ:  ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০৩
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

‘প্রায় ১০-১৫ দিন হলো বাড়িতে বসে, ফ্যাক্টরি বন্ধ। জমানো টাকা টুকুনও শেষ। ধার-দেনা করে চললাম। তবে এখন আর কেউ ধারও দেয় না। কবে কাজ শুরু হবে তাও জানি না। এভাবে বসে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে রোগে নয়। তাই হয় আমাদের কাজ করতে দেন, না হলে খাবারের ব্যবস্থা করে দেন।’

কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম বেজগ্রামের আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির নারী শ্রমিক স্বামী হারা লাইলি বেওয়া(৫৫)।

দেড় শতক জমিতে দুই ছেলেকে নিয়ে অভাবের সংসার লাইলি বেগমের। তাও আবার দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকেন। ছেলেরাও ওই ফ্যাক্টরির শ্রমিক। তাদেরও একই অবস্থা। বিড়ি তৈরি করে যা পেতেন তাই দিয়েই সংসার চলতো। করোনাভাইরাসের কারনে ফ্যাক্টিরি বন্ধ। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন লাইলি বেগম।

শুধু লাইলি বেগমই নন মাজেদা বেওয়া(৫০), সদর আলী(৬০) ও আব্দুর রশীদের মত ওই ফ্যাক্টরিতে কর্মরত প্রায় ৫০০ পরিবার। বর্তমানে তারা সবাই খেয়ে না খেয়ে কোনও রকম দিনাপাত করছেন। কাজ বন্ধ থাকার পরেও তারা প্রতিদিনিই ফ্যাক্টরির গেটে এসে বসে থাকেন। এই ভেবে যে কাজ শুরু হবে।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সরজমিনে ওই বিড়ি ফ্যাক্টরির সামনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন শ্রমিক ফ্যাক্টিরির গেটে হাতাশাগ্রস্ত মনে বসে আছেন। গাড়ি নিয়ে ঢুকতে দেখলেই ছুটে আসছেন। মুখে না বললেও তাদের দেখেই বোঝা যায় তাদের এগিয়ে আসা ত্রাণের আশায়। এমনকি এখন অবদি সরকারি-বেসরকারি কোনও ধরনের সহায়তা পাননি। কোনও জনপ্রতিনিধিও তাদের খোঁজখবর নেননি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

এ সময় ওই বিড়ি ফ্যাক্টরির শ্রমিক সদর আলীর(৬০) সাথে কথা হলে তিনি জানান, দুই ছেলে ও চার মেয়েকে নিয়ে অভাবের সংসার তার। ওই বিড়ি ফ্যাক্টিরিতে কাজ করে যা পেতেন তাই দিয়ে কোনও রকম সংসার চলতো। তবে ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকার পর থেকেই অনেক কষ্টে আছেন। জমানো কিছু টাকা ছিল তাও শেষ। মাথায় ঋনের বোঝা থাকায় কোনও ধার-দেনা করতে পারছেন না। তাই প্রতিদিনই ফ্যাক্টরির সামনে আসেন কাজের আশায়।

একই কথা বলেন নারী শ্রমিক মাজেদা বেওয়া। তার সংসার চলতো বিড়ি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। কিন্তু তা বন্ধ থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মাজেদা বেগমও। যদি বাইরে থেকে কোনও সহযোগীতা পেতো তাহলে হয়তো কিছুটা কষ্ট কমে আসতো।

এ বিষয়ে ওই বিড়ি ফ্যাক্টরির ম্যানেজার শ্যামল কুমার সাহা জানান, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখতে বলেন।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন জানান, কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের সহযোগীতা করা উচিত। আমরা চেষ্টা করছি তাদের জন্য কিছু করা যায় কি-না।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

করোনাভাইরাস,লালমনিরহাট,খাবার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close