• শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

যন্ত্রণা থেকে বাচঁতে মৃত্যুকেই বেছে নিয়েছে কলেজছাত্রী তোহা

প্রকাশ:  ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১০:৪০ | আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১০:৫১
মহিউদ্দিন মিশু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তানজিনা আক্তার তোহা (২১) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ঊঠেছে, আখাউড়ার এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ভাতিজার যন্ত্রণা থেকে বাচঁতে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুকেই বেছে নিয়েছেন তোহা। শুক্রবার পৌরশহরের দেবগ্রাম উত্তরপাড়া স্টীল ব্রীজ এলাকায় বসত বাড়ির নিজ শয়ন কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আখাউড়া থানা পুলিশ। ওই কলেজছাত্রী মৃত জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। তবে ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা সঠিক তথ্য জানাতে আখাউড়া থানার ওসি অনুসন্ধানে নেমেছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

অবশ্য এ ঘটনায় তোহার পরিবারের সদস্যদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। নিহত তানজিনা আক্তার তোহার মা জ্যোৎস্না আক্তার দাবি করছেন গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু তানজিনা আক্তার তোহার বড় বোন পপি আক্তার দাবি করছেন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

তোহা একটি কলেজের একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। আখাউড়ার এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির বড় ভাইয়ের ছেলে রানার প্রতিনিয়্ত উত্যক্তের শিকার হয়েছেন কলেজছাত্রী তোহা। সেই অবস্থা থেকে নিস্কৃতি পেতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে সে। এমন আলোচনার পাশাপাশি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে বলেও লোকমুখে আলোচনা রয়েছে। সে কারণে কলেজছাত্রী তোহার মৃত্যু একইসাথে রহস্য ও জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রানা নামে ওই যুবক তার বখাটে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি দিনের বেলায় তোহাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে রক্তাক্ত জখমসহ লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ মেয়েটি উদ্ধার করে আখাউড়া থানায় নিয়ে যায়। সে সময় থানায় রানার নির্যাতনের বর্ণনা দেন কলেজছাত্রী তোহা ও তার বান্ধবী। রানার পরিবারের কাছে একাধিকবার নালিশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তোহা। শেষবার ওই প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির কাছে নালিশ নিয়ে যাওয়ার পর রানার বড় ভাই তোহার পিঠের চামড়া তুলে নেয়ার হুমকী দেয় বলেও জানিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তোহার মা থানায় অভিযোগ দায়ের করার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে অদৃশ্য কোন শক্তির হুমকীতে কোন অভিযোগ না দিয়ে বিষয়টি চেপে যায়।

নিহত তানজিনা আক্তার তোহার বড় বোন পপি আক্তার জানান, কয়েকদিন ধরে তোহার সঙ্গে বাসায় পৌরশহরের তারাগন গ্রামের তার এক বান্ধবী রাতে থাকেন। ঘটনার রাতেও দু’জনে এক সঙ্গে রুমে ছিলেন। ওই বান্ধবীর বরাত দিয়ে পপি বলেন, রাত প্রায় দেড়টার দিকে তোহা ঘরের বাইরে যায়। ওই মেয়েটি তোহাকে বাঁধা দিলেও সে এড়িয়ে বাইরে চলে যায়। মেয়েটি ঘুমিয়ে যাওয়ার পর কী ঘটেছে তা সে জানে না বলে পপি জানায়।

তানজিনা আক্তার তোহার মা জ্যোৎস্না আক্তার এ প্রতিদেককে জানান, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে ঘুম ভেঙ্গে দেখতে পান তার মেয়ে তোহার রুমে আলো জ্বালানো এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করে কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। পরে দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে দেখতে পায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে তোহা। এসময় ফাঁস থেকে নামিয়ে মরদেহ মেঝেতে রাখা হয়। তবে একাধিক প্রতিবেশী জানান, তোহার মৃত্যুর ঘটনা রহস্যজনক। স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ভয়ে তোহার পরিবার মৃত্যুর আসল কারণ লুকানোর চেষ্টা করছে। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব বলে মনে করেন প্রতিবেশীরা।

আখাউড়া থানার ওসি রাসুল আহামদ নিজামী বলেন, মৃত্যুর বিষয়ে তার মা মুখ খুলছেন না। ওই মহিলা মামলা দিতেও রাজি নন। তিনি আমাদেরকে বলছেন মেয়ে অত্মহত্যা করেছে, এটা সেটা। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ঘরের দরজা ভাঙ্গা দেখতে পেয়েছি। গলায় দাগ আছে। তোহার মোবাইল নাম্বার ট্র্যাকিং করে দেখা হচ্ছে। কি হয়েছে সেই সত্য বের করতে আমরা তদন্ত করছি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close