• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

গভীর রাতে দরিদ্রদের ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিলেন পুলিশ সদস্যরা

প্রকাশ:  ২৯ মার্চ ২০২০, ২১:২৪
যশোর প্রতিনিধি

গভীররাতে হতদরিদ্র মানুষের দুয়ারে গিয়ে তাদের ঘুম ভাঙিয়ে চাল, ডাল, তেল, লবণ ও সাবান পৌঁছে দিলেন যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন। ঘুম ভেঙে এসব পেয়ে যারপরনাই খুশি করোনাভাইরাসের প্রভাবে কাজহারা মানুষগুলো। তাদের কাছে এটি স্বপ্ন মনে হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, জেলা পুলিশের উদ্যোগে তাদের এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আর দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি বিত্তবানদের প্রতিও আহবান জানিয়েছেন।

গোটাবিশ্বের মতো বাংলাদেশও করোনাভাইরাসের রোষানলে। এর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ইতোমধ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জনগণকে নিজবাড়িতে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। দেশের মানুষ কার্যত ঘরে বন্দি। এই বন্দিদশার কারণে সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন দিন এনে দিন খাওয়া হতদরিদ্র মানুষ। সরকার এই দরিদ্র মানুষদের জন্য ত্রাণ সহায়তা চালু করেছে কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। যে কারণে তাদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে যশোর পুলিশ বিভাগ। নিজেদের অর্থায়নে তারা শুরু করেছে খাদ্য সহায়তার কাজ। আর কাজটির জন্য তারা বেছে নিয়েছে রাতের আঁধারকে। রাতের শুনশান নীরবতাকে ভেদ করে তারা ছুটে চলেছে হতদরিদ্রদের ঘর থেকে ঘরে। দরজায় গিয়ে কড়া নেড়ে সেইসব মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন চাল ডালসহ ৫ প্রকারের সামগ্রী।

পুলিশ সুপার মুহাম্মাদ আশরাফ হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসে বাংলাদেশও আতংকিত। সরকারের আদেশে স্টে হোম- ঘরে থাকুন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু ঘরে থাকতে গিয়ে যারা রিকশা চালান, দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ তাদের অনেক দুরাবস্থা। কাজ না পেয়ে অনেকে না খেয়ে আছেন এমন সংবাদ আমাদের কানে এসেছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ অফিসাররা কিছু টাকা পয়সা একত্রে করে আমরা কিছু চাল, ডাল, লবণ, তেল, সাবান নিয়ে বিভিন্ন সমস্যাপ্রবণ এলাকায় গিয়ে বিতরণ করছি। দিনেরবেলায় অনেক মানুষ জড়ো হয়ে যায়, যে কারণে আমরা রাতে এসেছি। আগেই খোঁজ নিয়ে তালিকা করা কিছু পরিবারের সদস্যদের এই সহায়তা দিচ্ছি। যাতে স্টে হোম ও সোশাল ডিসটেন্সের নিয়ম রক্ষা হয়।

এদিকে, ঘুম ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব জিনিস পেয়ে মহাখুশি কাজহারা মানুষগুলো। নাজিম উদ্দিন নামে একজন ট্রাকচালক বলেন, এসপি সাহেব ঘরের দরজায় খাদ্য নিয়ে এসেছেন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি। কাজে বের হতে না পারায় গত তিনদিন ঘরে যা ছিল, তা শেষ। আজ চাল ডাল না পেলে ছেলে-মেয়ের খুব কষ্ট হত।

জুয়েল মিয়া নামে একজন রাজমিস্ত্রির হেলপার জানান, তিনদিন ধরে ঘরে বসে আছেন। এক টাকাও রোজগার নেই। এমন সময় পুলিশের পক্ষ থেকে চাল ডাল পেয়ে খুব খুশি হয়েছেন। পুলিশ রাতে বাড়ি এসে খাবার দিয়ে যাবে একথা কখনও চিন্তা করেননি। সকালে কাউকে বললে কেউ বিশ্বাস করবে বলেও মনে হয় না।

এদিকে, পুলিশ সুপার মুহাম্মাদ আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, তিনিসহ জেলা পুলিশের একাধিক টিম রাতের মধ্যেই ২শ’ পরিবারের ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেবেন।

প্রসঙ্গত, খাদ্যসহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, এক লিটার তেল, এক কেজি লবণ ও দু’টি সাবান।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

যশোর,পুলিশ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close