• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

আইসোলেশনে থাকা ৭ মাসের শিশুকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়

প্রকাশ:  ২৬ মার্চ ২০২০, ১৬:২৯
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
ফাইল ছবি

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত সন্দেহে সাত মাস বয়সী শিশুকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিকেলে শিশুটিকে আইসোলেশন থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হবে।

এদিকে দুপুরে ওই শিশুর মা–বাবাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। একতলাবিশিষ্ট বাড়িটি ‘লকডাউন’ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আরএমও বলেন, গত ২৩ মার্চ শিশুটিকে তার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সে সময় শিশুটির জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ছিল। ওই দিন তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের পরিবারের কেউ সম্প্রতি বিদেশ থেকে আসেননি কিংবা কোনো প্রবাসীর সংস্পর্শে যাননি। সেদিন শিশুটিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

তাপস কুমার বলেন, শিশুটিকে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার তার অবস্থা অবনতি হয়। বিষয়টি আইইডিসিআরকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসকরা পুনরায় ওই পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় ওই পরিবারের এক আত্মীয় জানান, অসুস্থ শিশুটির বাবা গত ৯ মার্চ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এসেছেন। কোয়ারেন্টিনে না থেকে তিনি পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশেছেন। এ তথ্য জানার পর শিশুটিকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, শিশুটির বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। শিশুর পরিবারের বাকি সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুরে অবস্থিত ওই প্রবাসীর বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে।

তাপস কুমার বলেন, শিশুটির শরীরে করোনার সব রকম উপসর্গ দেখা গেছে। বিকেলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। সেখানে পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, সে করোনায় আক্রান্ত কি না। পজিটিভ এলে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সকে কোয়ারেন্টিনে দেওয়া হতে পারে।

শিশুটির পরিবারের এক আত্মীয় জানান, শিশুটির বাবা ৯ মার্চ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ছিলেন। এ তথ্য জানার পর শিশুটিকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া শহরে ওই প্রবাসীর বাড়িতে পুলিশ নিয়ে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। ওই প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলে পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়।

ইউএনও জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘দুপুরে বাড়িতে লাল নিশান টাঙানো হয়েছে। বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে।’

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, ওই পরিবারের সব সদস্যকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনে বাড়িটিকেও লকডাউন করা হবে। সেখানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেনসহ পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

পরিবারটি কুষ্টিয়া শহরে থাকে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে যে নার্স ও চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়েছিলেন, তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালটিতে ২০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট আছে এবং আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরজ্ঞাম (পিপিই) রয়েছে। শিশুর বিষয়টি আইইডিসিআরকে জানানো হয়েছে। তারা নমুনা সংগ্রহ করবে।’

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Latest news
close