• শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

জাটকা রক্ষায় অভয়াশ্রম কর্মসূচি

ভিজিএফ সুবিধাবঞ্চিত কমলনগরের ৫৩ ভাগ জেলে

প্রকাশ:  ২১ মার্চ ২০২০, ১২:৩৯
বেলাল হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর

জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে জাটকা রক্ষায় অভয়াশ্রম কর্মসূচি চলছে। ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। এই দুই মাস মেঘনায় সব ধরনের জাল ফেলা, মাছধরা ও ক্রয়-বিক্রয় সরকারিভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। এ সময়ে পুনর্বাসনের লক্ষে খাদ্য সহায়তা হিসেবে জেলে পরিবারকে ভিজিএফ সুবিধা দেওয়ার কথা। কিন্তু বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় মেঘনা উপকূলীয় এ উপজেলার নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে মাত্র ৪৭ ভাগ এই সুবিধার আওতায় আসছেন। যে কারণে, সুবিধাভোগীদের তালিকায় নাম অন্তুর্ভুক্ত না হওয়ার আশঙ্কায় জেলে পরিবারের মাঝে এখন ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় মাছ ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষায় ও ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধিতে চাঁদপুরের ষাটনল হতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার নৌ-সীমাকে সরকার ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এ অভয়াশ্রম এলাকায় মার্চ-এপ্রিল এ দুই মাস সকল প্রকার মাছধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মওজুদ ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যে কারণে, অভয়াশ্রম এলাকার জেলেরা যাতে নদীতে না নামে এজন্য সরকার প্রতি বছর এক মাস আগে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৪০ কেজি করে খাদ্যশস্য (চাল) ভিজিএফ সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ দেয়। কিন্তু মেঘনা তীরবর্তী এ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ১৪ হাজার ৯৮ জন নিবন্ধিত জেলে থাকলেও ভিজিএফ সহায়তার বরাদ্দ এসেছে মাত্র ছয় হাজার ৬৭২ জনের জন্য। যা চাহিদার মাত্র ৪৭ ভাগ। এতে করে জেলে ও জনপ্রতিনিধিসহ মৎস্য সংশ্লিষ্টদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সরেজমিন উপজেলার পাটারীরহাট, চরফলকন, সাহেবেরহাট ও চরকালকিনি ইউনিয়নের মেঘনা তীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীতে মাছ শিকার নিষিদ্ধ হওয়ায় জেলেরা অলস সময় পার করছেন। যে কারণে, এখন জেলে পরিবারগুলোর দিন কাটছে অভাব-অনটনে। তাদের মধ্যে কেউ অর্ধাহারে; কেউ অনাহারেও দিন কাটাচ্ছেন।

হাশেম মাঝী, কামাল মাঝী, মো. রফিক ও মাকসুদ আলমসহ কয়েকজন জেলে জানান, নদীতে মাছ শিকারই তাদের পেশা। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকার যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন সেটা মেনে তারা মাছ শিকারে যাচ্ছেন না। আয়-রোজগার না থাকায় ছেলেমেয়ে নিয়ে তারা অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন।

তারা জানান, সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তার কথা বলা হলেও বরাদ্দ অর্ধেক হওয়ায় সুবিধাভোগীদের তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যে কারণে, তারা নিবন্ধিত সকল জেলের নামে ভিজিএফ’র চাল বরাদ্দের দাবি জানান।

উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার ছায়েফ উল্যাহ জানান, তার ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে তিন হাজার ৪৫৪ জন। এর বাইরে প্রকৃত জেলে হয়েও নিবন্ধন করতে পারেননি এমন লোকও রয়েছে। কিন্তু তার ইউনিয়নে ভিজিএফ বরাদ্দ হয়েছে মাত্র এক হাজার ৭৬৫ জন জেলের নামে।

তিনি পূর্বপশ্চিমকে বলেন, এ কারণে অর্ধেকেরও বেশি জেলে ভিজিএফ সুবিধাবঞ্চিত হবেন। ওই সময় তারা সীমিত বরাদ্দের বিষয়টি না বুঝে উল্টো চাল না পাওয়ার জন্য আমাদেরকে দায়ী করবেন।

পাটারীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম নুরুল আমিন রাজু জানান, তার ইউনিয়নে দুই হাজার ৫৬১ জন নিবন্ধিত জেলে থাকলেও চাল বরাদ্দ হয়েছে মাত্র এক হাজার ১৫০ জনের জন্য। এ কারণে সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

তিনি পূর্বপশ্চিমকে বলেন, এ অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে আমাদেরকে তালিকা প্রস্তুতে বিতর্কিত হওয়াসহ চাল বিতরণের সময় বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। তাই আমরা নিবন্ধিত সকল জেলের জন্য চাল বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল কুদ্দুস পূর্বপশ্চিমকে জানান, নিবন্ধিত জেলের তুলনায় এ উপজেলায় বরাদ্দ অনেক কম আসার বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। নিবন্ধিত সকল জেলে যাতে খাদ্য সহায়তা পান সে ব্যাপারে তাদের চেষ্টা রয়েছে বলে তিনি জানান।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

লক্ষ্মীপুর,ভিজিএফ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close