• শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

জনশূন্য বেনাপোল ইমিগ্রেশন 

প্রকাশ:  ১৫ মার্চ ২০২০, ২০:০৪
বেনাপোল প্রতিনিধি

বাংলাদেশের পাসপোর্টযাত্রীদের প্রবেশে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারি ও ভিসা স্থগিতের পর ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস ও খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস বন্ধে বেনাপোল এখন জনশূন্য। খাঁ খাঁ করছে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট এলাকা। নেই কোনও কোলহাল। অলস সময় কাটাচ্ছে বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারের লোকজনসহ ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, বন্দর, চেকপোস্টের ব্যাংক বুথ, আনসার সদস্যরা। নেই কুলিদের হাকডাক। সর্বত্র নীরব সুনসান। এ যেন অচেনা এক চেকপোস্ট।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকাল থেকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত সরকার। তাতে বিপাকে পড়েন অসহায় রোগী ও ব্যবসায়ীরা।

স্বাধীনতার পর থেকে দু‘দেশের মধ্যে এক ঘণ্টার জন্যও পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত বন্ধ হয়নি। এমন একটি ভাইরাস রোগে (করোনা) সারা পৃথিবীর সাথে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিয়েছে বেনাপোল চেকপোস্টকে।

বাংলাদেশি পাসপোর্টযাত্রীরা ভারতে যেতে না পারলেও ভারতীয়সহ অন্যান্য দেশের পাসপোর্টযাত্রীরা বাংলাদেশে আসছেন নির্বিঘ্নে। অথচ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে করোনাভাইরাস ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের বনগাঁ শহরে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ায় বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে ওপারের বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে।

এদিকে পণ্য আমদানি-রফতানির উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা না থাকায় দু’দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক গতিতে চলছে। তবে যেকোনও সময় এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

হঠাৎ করে বাংলাদেশি ভিসায় ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারিতেও বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও এখন পর্যন্ত তার কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে এক মাস ভারতে প্রবেশ বন্ধ থাকলে শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহতের পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য-সামগ্রীর বাজারে মূল্য বাড়ারও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার পাসপোর্টধারীযাত্রী দু’দেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকেন। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ ট্রাক বিভিন্ন ধরণের পণ্য ভারত থেকে আমদানি হয়। ভারতে রফতানি হয় দেড়শ থেকে ২শ’ ট্রাক বাংলাদেশি পণ্য।

প্রতিবছর এ বন্দর থেকে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা আমদানি পণ্য থেকে ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক। ব্যবসায়ীরা ভারতে যেতে না পারলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যও বন্ধ হতে পারে। এক মাসেরও বেশি সময় চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। আবার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও বেড়ে যাবে। বাণিজ্যিক বিষয়ে যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চালুতে সরকারের এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব বলেন, ভারতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোন বাংলাদেশি পাসপোর্টযাত্রী ভারতে যেতে দেয়া হয়নি। ভারতীয় পাসপোর্টযাত্রীদের প্রবেশে সরকারের কোনও নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তাদেরকে বাংলাদেশে প্রবেশে ও ভারতে যেতে অনুমতি দেয়া হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

জনশূন্য,বেনাপোল,ইমিগ্রেশন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close