• সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

বুড়িমারী স্থলবন্দরে দায়সারাভাবে করোনা পরীক্ষা

প্রকাশ:  ১০ মার্চ ২০২০, ২০:৪৪
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

চীনসহ বিভিন্ন দেশে মহামারী আকার ধারণ করা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সারা দেশের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, নৌ ও বিমান বন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে করোনা শনাক্ত মেডিক্যাল টিম বসানো হয় গত ২৭ জানুয়ারি। সেখানে যাত্রীদের নামমাত্র স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। শুধুমাত্র জ্বর মাপা হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার যন্ত্র ছাড়া তেমন কিছু নেই মেডিক্যাল টিমের কাছে। ওই অভিবাসন চৌকির উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দুইটি দল কাজ করছেন।

এদিকে ভারত থেকে পাসর্পোট যাত্রীদের বাংলাদেশে আসার সময় তাদের ভারতে অভিবাসন চৌকিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশে ঠিকমতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা না হলে ভারত থেকে আসা পাসর্পোট যাত্রীর মাধ্যমে করোনা বাংলাদেশেও প্রবেশ করতে পারে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হবার পর থেকে তারা শুধু বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশে প্রবেশ করা পাসর্পোট যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে। প্রতিদিন বুড়িমারী স্থলবন্ধর দিয়ে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ পণ্যবাহী গাড়ী যাতায়াত করে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোলযাত্রা (হোলি) উপলক্ষে ভারতের চ্যাংরান্ধা শুল্ক স্টেশন ও ভারতীয় আমদানি-রপ্তানি অ্যাসোসিয়েশন তাদের পণ্যবাহী ট্রাক এক দিন বন্ধ রেখেছে বুড়িমারী স্থলবন্দরে।

এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশ, ভারত, ভূটান নেপাল থেকে গড়ে পাঁচ শতাধিক পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেন। তবে সোমবার এ স্থলবন্দর দিয়ে ২০১ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী ও ৩৫৭ জন ভারতীয় ট্রাক চালক এ দেশে প্রবেশ করেছেন।

শুরু থেকে কেবল থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপা হলেও গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে।

ভারত থেকে আসা পাসর্পোট যাত্রী শেরপুর জেলার বাসীন্দা মলয় চাকী ও গোবীন্দ চন্দ্র সাহা জানান, ভারত থেকে আসার সময় তাদের ভারতে কোন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি। বাংলাদেশে ইমিগ্রেশনে কত্যর্বরত চিকিৎসক জিজ্ঞেস করেন কোথায় থেকে এসেছি, জ্বর ছিল কিনা এবং তাপমাত্রা মেপে দেখেছে।

দুপুরে সরেজমিনে বুড়িমারী স্থলবন্দরের আর্ন্তজাতিক অভিবাসন চৌকির (আইসিপি) গিয়ে দেখা গেছে, অভিবাসন চৌকির প্রবেশ মুখে অভিবাসন কাস্টসম কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি কক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মো. রাসেল আহমেদসহ তিন স্বাস্থ্য কর্মী মুখে মাস্ক দিয়ে বসে রয়েছে।

এ সময় ভারত থেকে আসা কয়েকজন পাসর্পোট যাত্রীদের শরীরে জ্বর, মাথা ব্যথা, ঠান্ডা কাঁশি, সমস্ত শরীর ব্যথা অনুভবসহ রোগের উপসর্গ রয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। এ ছাড়াও তারা কোথায় থেকে এসেছেন কোথায় থাকেন সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয় ও হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে।

পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মো. রাসেল আহম্মেদ জানান, আজ ভারতীয় ট্রাক স্থলবন্দর প্রবেশ না করায় শুধুমাত্র পাসর্পোট যাত্রীদের মাত্রারিক্ত জ্বর, কাশি, স্বর্দি ,শ্বাসকষ্ট ,গল ব্যথা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা ও যাত্রীদের হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, যদি কারও মধ্যে করোনার উপসর্গ পাওয়া যায় তাহলে তাকে বিশেষ সতর্কতার সাথে উপজেলা বা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পযর্বেক্ষণে রাখা হবে। এরপর ভাইরাস শনাক্ত করতে প্রয়োজনে ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইডিসিআর) পাঠানো হবে। তবে গতকাল পযর্ন্ত এ ধরণের কাউকে পাওয়া যায়নি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

পরীক্ষা,করোনাভাইরাস,বুড়িমারী,স্থলবন্দর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close