• সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

আখাউড়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ

প্রকাশ:  ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:০৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
মুহতামীম মাওলানা গাজীউর রহমান জিহাদী। ছবি: পূর্বপশ্চিম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মনিয়ন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক ও মনিয়ন্দ দক্ষিণ পাড়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামীম মাওলানা গাজীউর রহমান জিহাদী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌনাচরণের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় সর্বত্রই বইছে নিন্দার ঝড়।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভবাবক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার রেইনা ও আখাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শওকত আকবর এবং আখাউড়া থানার ওসি রসুল আহমেদ নিজামীর কাছে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা গাজীউর রহমান জিহাদী তার অপকর্মের দায় স্বীকার করেছেন। তিনি পূর্বপশ্চিমকে বলেন, ভুল মানুষই করে। আমিও মানুষ, আমার ভুল হয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছাত্রের সঙ্গে মনিয়ন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক গাজীউর রহমান জিহাদীর যৌনাচারণের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ঘটনাটি বেশ কিছুদিন আগের। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কুরুচি আর বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ গাজীউর রহমান জিহাদী বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ছোট শিশু-কিশোরদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। সুযোগ বুঝে সে তার কুরুচিপূর্ণ যৌনাচরণে লিপ্ত হয়। এক ছাত্রের সঙ্গে তার যৌনাচরণে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। যা কোমলমতি স্কুল, কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা মোবাইলে দেখছে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাঙ্গণের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। লম্পট ওই শিক্ষকের এহেন কর্মকান্ডে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিচালনা কমিটি অবগত থাকলেও সে স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় রহস্যজনক কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কিংবা ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে।

আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের ৬নং ওয়ার্ডের সভাপতি মো. আনিছ মিয়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি সফিকুল ইসলাম বাবুল মৃধা, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিন্টু মৃধা, স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন, জানু মিয়া, মুছা মিয়া, দুধু মৃধা, সাফিয়া বেগম জানান, আমাদের কোমলমতি ছেলে-মেয়েকে জ্ঞান অর্জনের জন্য শিক্ষাঙ্গণে পাঠাই। সে একজন শিক্ষক হয়ে অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে তা কোন ভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। সে শিক্ষক নামের কলঙ্ক।

বিদ্যালয় থেকে তার অপসারণ দাবি জানিয়ে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে এ লম্পট শিক্ষক গাজীউর রহমান জিহাদীকে বাঁচাতে এখনও তাকে যারা বহাল তবিয়তে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার রেইনা ও আখাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শওকত আকবর বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এমইউএম/কেএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া,শিক্ষক,ছাত্র,বলাৎকার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close