• রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

মাসকালাইয়ের রুটি বেচে চলে আলিয়ার সংসার

প্রকাশ:  ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:২১
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য মাসকালাইয়ের হাতের রুটি তৈরি ও বিক্রি করে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের হিলির আলিয়া বেগম। বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে তার এই বেচাকেনা। মাসকালাই রুটি বিক্রি করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন।

দেখা গেছে, হিলির মহিলা কলেজ সংলগ্ন জয়পুরহাট বাসস্ট্যান্ডে তৈরি করছেন তিনি মাসকালাইয়ের রুটি। দোকানের সামনে রাখা বেঞ্চে বসে কয়েকজন বাসযাত্রী তার হাতের তৈরি রুটি খাচ্ছেন। তাদের খাওয়ার গতি দেখে অনুমান করা যাচ্ছে, তারা মনে হয় অনেকদিন ধরে এই খাবার খুঁজে আসছিলেন।

এক সময়ের রুটির দেশ কুষ্টিয়া জেলায় এই রুটির প্রচলন ছিলো। এখন আর আগের মত শোনা বা দেখা যায় না। তবে রাজশাহী জেলার অনেক স্থানে এই মাসকালাইয়ের রুটি বিক্রি করতে দেখা যায়।

কথা হয় ৬০ বছর বয়সী এক বাসযাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, মাসকলাইয়ের রুটি বানানো দেখে আমি আর লোভ সামলাতে পারলাম না। অনেক আগে যখন মা বেঁচে ছিলেন তখন তিনি মাঝে মধ্যে মাসকালাইয়ের রুটি বাড়ীতে তৈরি করতেন। এখনও সেই মায়ের হাতের রুটির স্বাদ অনুভব করি। আজ এই মহিলার হাতের বানানো মাসকালাইয়ের রুটি খেয়ে আমার মায়ের কথা মনে পড়ে গেলো।

জহিরুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতা জানান, বেশ কয়েক বছর যাবত প্রতিদিন দুইটা করে রুটি খাই। তার হাতের রুটি না খেলে আমার পেট ভরে না।

আলিয়া বেগম (৫০) জানান, আমি প্রায় ১৮ বছর ধরে মহিলা কলেজ এবং এই বাসস্ট্যান্ডে মাসকালাইয়ের রুটি তৈরি করে আসছি। চাউল ও মাসকালাইয়ের ডাল মিলে প্রতিদিন ৫ কেজি করে আটা তৈরি করি। তা থেকে প্রায় ৫০টি রুটি হয়। প্রতিটি রুটি ১০ টাকা করে বিক্রি করি। রুটির সাথে শুকনা মরিচ পেঁয়াজের চাটনি ও ধনাপাতার ভর্তা দিই। প্রায় সময় ক্রেতার এতো ভিড় হয় আমি রুটি তৈরি করতে হিমশিম খাই। প্রতিদিন এ থেকে দুই থেকে আড়াই’শ টাকা আয় হয়। এই আয় দিয়ে এক ছেলে দুই মেয়েকে নিয়ে আমার সংসার চলছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

দিনাজপুর,হিলি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close