• সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

সন্ত্রাসী নিয়ে ক্লাসে ঢুকে সহকর্মীকে পেটালেন কলেজশিক্ষক

প্রকাশ:  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:০৩ | আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:১৩
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়া সদর উপজেলায় জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমানের হাতে আলমগীর কবির পলাশ নামে আরেক খন্ডকালীন শিক্ষক মারধরের শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরতলির গোদারপাড়ায় জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদে ছাত্রীরা কলেজের সামনে বগুড়া-নওগাঁ সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনে। আহত ওই শিক্ষক বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, শিক্ষক মিজানুর রহমান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম রায় জানান, ওই হামলার ঘটনা কলেজের অভ্যন্তরীন বিষয়। তার দলের কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজের সভাপতি নিয়োগের চিঠি আনতে গিয়েছিলেন।

কলেজের শিক্ষক-কর্মচারিরা জানান, ডিগ্রি শাখায় নিয়োগকৃত ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান গত ৩-৪ মাস ক্লাস নেন না। শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে মাসিক দুই হাজার টাকা বেতনে আলমগীর কবির পলাশ নামে একজনকে খন্ডকালীন শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষক মিজানুর রহমান মঙ্গলবার বেলা ১০টার দিকে কলেজে আসেন। বেলা ১২টার দিকে ১০-১২ টি মোটরসাইকেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকে। মিজানুর তাদের নিয়ে দোতলায় ক্লাস চলাকালীন শ্রেণীকক্ষে ঢোকেন। তখন তিনি খন্ডকালীন শিক্ষক পলাশকে গালিগালাজের পর মারধর করেন।

এ সময় ক্লাসে থাকা ছাত্রীরা ভয়ে চিৎকার করতে থাকেন। তখন শিক্ষক মিজানুর রহমান তার সঙ্গিদের নিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান। এর প্রতিবাদে ছাত্রীরা কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম তাদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক কর্মচারি বলেছেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম রায় জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হতে না পেরে তার সংগঠনের সাবেক কর্মী শিক্ষক মিজানুর রহমানের পক্ষ নেন।

এ প্রসঙ্গে কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক জামায়াত-বিএনপির। গত ১৬ বছর বেতন ছাড়াই চাকরি করছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত হওয়ায় তাকে সরিয়ে জামায়াত সমর্থক সাবেক শিবির নেতা, জামায়াত পরিচালিত ইউনিক কোচিং সেন্টারের শিক্ষক আলমগীর কবির পলাশকে কলেজে ঢোকানের চেষ্টা করে আসছেন। এছাড়া অধ্যক্ষ তাকে কলেজ না আসতে হুমকি দেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে বাধা দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ক্লাস নেবার জন্য রুমে গেলে সেখানে সাবেক শিবির নেতা আলমগীর কবির পলাশকে দেখতে পান। তখন পলাশ তার সাথে দুর্ব্যবহার করলে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়েছে। এ সময় তার সাথে ছাত্রলীগের কেউ ছিল না।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম রায় জানান, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান তাকে জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হতে ডিও লেটার দেন। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে বগুড়া সদর আসনে বিএনপি দলীয় এমপি জিএম সিরাজকে সভাপতি করেছে। এ সংক্রান্ত চিঠি আনতে তিনি মঙ্গলবার দুপুরে তার সংগঠনের কয়েকজনকে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে পাঠিয়েছিলেন। শিক্ষককে মারপিটের ঘটনা কলেজের অভ্যন্তরীন। এর সাথে ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

আহত শিক্ষক আলমগীর কবির পলাশ জানান, তিনি কখনও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করতেন না বা এখনও করেন না। দুপুরে কলেজে ক্লাস নেবার সময় এক ব্যক্তি তার উপর হামলা করেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা বেশ কয়েকজন সেখানে ছিলেন। পরে জেনেছেন, হামলাকারী কলেজের ইংরেজি শিক্ষক মিজানুর রহমান ও তারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, কলেজ থেকে মামলা দিলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এএম

বগুড়া,শিক্ষক,মারধর,জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close