• শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬
  • ||

পুলিশের উপস্থিতিতে যুবককে মারধর, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ:  ২১ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৩
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় ধর্ষণ মামলায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে গিয়ে উল্টো পুলিশের সামনে প্রতিপক্ষের হাতে আব্দুল আলীম (৩৬) নামের এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলার ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে ভুক্তভোগী যুবকের অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তার ওপর হামলা হলেও তাকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসেনি। এদিকে ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, গেল বছরের ২০ ডিসেম্বর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় ২২ ডিসেম্বর সদর থানায় মালিগাছা ইউপি চেয়ারম্যান ও শরিফুল ইসলামসহ ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী নারীর পরিবার। এই মামলা তদন্ত করতে গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গাছপাড়া বাজারে যান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম।

সেখানে মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে স্থানীয় নুরপুর এলাকার যুবক আব্দুল আলীম। গাছপাড়া বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে আলীমসহ কয়েকজনকে মামলার বিষয়ে কথা বলছিলেন পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম। এ সময় ধর্ষণ মামলার আসামী ইউপি চেয়ারম্যানপক্ষের আরিফ, হেলাল, আশরাফ সহ তাদের সহযোগিরা অতর্কিত আলীমের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে। পরে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম ও কনস্টেবল। এরপরই হামলাকারীরা আলীমকে মারধর শুরু করে দুই পা ভেঙ্গে দেয়। পরে হামলায় আহত আলীমকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা।আহত আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন জানান, পুলিশ অফিসার আমার স্বামীকে সহযোগিতা করার জন্য মোবাইলে ডেকে নিয়ে যান। কিন্তু তার উপস্থিতিতে হামলা হলো অথচ তিনি কোনো ভূমিকা নিলেন না। হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান রুমা খাতুন।

এ বিষয়ে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম জানান, মামলার স্বাক্ষীর বিষয়ে কথা শেষ করে চলে আসার পর আলীমের ওপর হামলা হয়। কিছু দূরে যাওয়ার পর লোকজনের দৌড়াদৌড়ি দেখে তাৎক্ষনিক বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাই এবং আশপাশের মোবাইল টিমকে খবর দেয়। পরে আহত আলীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় স্থানীয় লোকজন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস পূর্বপশ্চিমকে জানান, ঘটনার পর অভিযানে নামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আহত যুবকের স্ত্রী রুমা খাতুন বাদী হয়ে ১০জনকে আসামী করে সোমবার রাতে মামলা দায়েরে করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের তেজেম প্রামানিকের ছেলে আশররাফ হোসেন (৪৫) ও দারোগ আলীর ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (৪২)।

গৌতম কুমার বিশ্বাস আরও জানান, এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ছিল কিনা সেটি তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) শামীমা আক্তারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এএম

পাবনা,ধর্ষণ,পুলিশ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close