• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

১০.৮ ডিগ্রিতে কাঁপছে নওগাঁবাসী, বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশ:  ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ১০:২১
নওগাঁ প্রতিনিধি

সারাদেশের ন্যায় নওগাঁয়ও পড়েছে শীতের তীব্রতা। পৌষের কনকনে শীত আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যন্ত বিপর্যস্ত জনজীবন। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) নওগাঁয় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গ্রাম-বাংলার প্রবাদ আছে ‘মাঘের শীত বাঘের গায়ে’ মাঘ মাসে শীতের তীব্রতা এত বেশি থাকে যে, বাঘও কাবু হয়ে যায়। তাই মাঘ মাসের আগমনে কেমন শীতের প্রভাব পড়বে এমটিই ভাবছে শীতার্ত অসহায় গরীব মানুষ।

জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ খরকুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। কোন কোন এলাকায় সূর্যের আলো মিলছে না গত কয়েকদিন ধরেই। কোথাও কোথাও দিনের বেলা সূর্য দেখা দিলেও তা খুব স্বল্প সময়ের জন্য। কুয়াশার পাশাপাশি তীব্র শৈত্য প্রবাহ শীতের এ দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে আরও কয়েকগুণ।

জেলার ১১টি উপজেলার কয়েক হাজার শীতার্ত অসহায় গরীব মানুষ হাড় কাঁপানো কনকনে শীতের কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোর দোকান-পাটও তেমন একটা খোলেনি। লোকজনের চলাচলও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ছিল। তারপরও জীবন চলার তাগিদে তীব্র্র শীতকে উপেক্ষা করে জীবন সংগ্রামে কিছু শ্রমিক ঘর থেকে বেরিয়েছেন। তবে পর্যাপ্ত শীতের পোষাক না থাকায় নিম্ন আয়ের অনেকেই পড়েছেন বিপাকে। জেলার কোথাও কোথাও সরকারিভাবে শীত বস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করলেও তাও ছিল চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

জেলার আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের ভ্যান চালক জনি ও একই গ্রামের দিন মজুর ইয়াকুব আলী বলেন, আমরা ভীষণ কষ্টে আছি। কেউ আমাদের একটা কম্বল দিচ্ছেনা। আমরা কয়েক হাজার মানুষ কঠিন শীতের মধ্যে আছি।

আত্রাই উপজেলার চেয়ারম্যান মো. এবাদুর রহমান পূর্বপশ্চিমকে বলেন, উপজেলার অনেক শীতার্ত মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশের বিত্তবান লোকজনকে এগিয়ে আসার আহবান জানাই।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছানাউল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। এ অবস্থায় সরকারের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও সামাজিক সংগঠনের কর্ণধারদের সহযোগিতা কামনা করছি। অনেকেই শীতের কাপড় দিচ্ছেন। তবে আরও বেশি শীতের কাপড় দরকার বলে তিনি জানান। তিনি আহবান জানান, সমাজের যুব-সমাজ, স্কুল–কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদের অবস্থান থেকে এলাকার শীতার্ত অসহায় মানুষের পার্শ্বে দাঁড়ানো।

এছাড়া তিনি আরও জানান হঠাৎ করে তীব্র শীত ও শৈত্য প্রবাহ হওয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আরও শীতবস্ত্র ও কম্বলের জরুরিভাবে পাঠানোর জন্য চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে।

উপজেলার অধিকাংশ স্থানেই সূর্যের দেখা মেলেনি আজ সকাল পর্যন্ত। তীব্র শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে আত্রাই এলাকার মানুষ। গরম কাপড়ের অভাবে দূর্ভোগ বেড়েছে গরীব মানুয়ের। শীত বস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন আত্রাই নদী অঞ্চলের দুস্থ মানুষ ও আত্রাই ছিন্নমূলবস্তি এলাকার দুস্থ মানুষরা। তীব্র শীতে কয়েকদিন ধরেই দিনমজুরেরা ফসলের মাঠে কাজে যেতে পারেননি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ইমি

নওগাঁ,তীব্র শীত,বিপর্যন্ত জনজীবন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close