• শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬
  • ||

জেএমবি সাজানোর ভয় দেখিয়ে ইমামকে গ্রাম ছাড়া করলেন কাউন্সিলর!

প্রকাশ:  ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৪২
ফেনী প্রতিনিধি
মনির আহম্মদ। ছবি: পূর্বপশ্চিম

ফেনী পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনির আহম্মদের তোপের মুখে পড়ে রাতের আঁধারে অব্যহতিপত্র দিয়ে ফেনী ছাড়লেন পৌরসভার পশ্চিম রামপুর আনু কাজী বাড়ীর দরজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুল আজিজ। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লি ও মসজিদ কমিটিসহ এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।

দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত সুনামের সাথে মসজিদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ইমাম আবদুল আজিজ। তবে তাকে জেএমবি সাজিয়ে পুলিশে দিয়ে হয়রানীসহ ভয়ভীতি দেখিয়ে রাতের আঁধারে অব্যাহতিপত্র দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে কাউন্সিলর মনির আহম্মদের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা আবদুল আজিজ দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর যাবত পশ্চিম রামপুরের আনু কাজী বাড়ীর দরজার জামে মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে সুনামের সাথে নামাজ পড়াতেন। এ সুবাধে এলাকার সাধারণ মানুষসহ আশপাশের এলাকার লোকজন তার বয়ান শুনে মুগ্ধ হয়ে দিন দিন মসজিদের মুসল্লির সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং মসজিদটিও আধুনিক-উন্নত হয়। বিগত কয়েক মাস পূর্বে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় কাউন্সিলর মনির আহম্মদ কোন কারণ ছাড়াই মসজিদের নতুন ইমাম ও খতিব নিয়োগের প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের একটি অংশ বিরোধিতা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। মসজিদ কমিটি তিন দফা বৈঠকে বসলেও কোন সুরাহ হয়নি। বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য ইমামের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় কাউন্সিলর মনিরের প্রস্তাবটি পাশ হয়নি।

পরবর্তীতে কাউন্সিলর মনির কটুকৌশলের আশ্রয় নিয়ে ঘোষণা দেয় উক্ত ইমাম পনের দিনের মধ্যে এলাকা না ছাড়লে তাকে মসজিদের পিলারের সাথে বেঁধে অপমান করা হবে এবং জেএমবি বলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হবে। কটুকৌশল বাস্তবায়নে কাউন্সিলর মনির লালপোল ছিলোনিয়া মাদরাসার পরিচালক মুফতি আহম্মদ উল্যাহর দারস্থ হয়। মুফতি আহম্মদ উল্যাহর ইমাম সাহেবকে ডেকে বলেন আপনি স্বসম্মানে অব্যহতিপত্র দিয়ে চলে যান। নচেৎ আপনাকে জেএমবি সাজিয়ে পুলিশে দিয়ে হয়রানী করবে।

তখন ইমাম আবদুল আজিজ- মুসল্লী ও মসজিদ কমিটিকে না বলে কিভাবে যাবো প্রশ্ন করলে মুফতি আহম্মদ উল্যাহ তাকে একটি অব্যাহতিপত্র লিখে মসজিদের মিম্বরে রেখে রাতের আঁধারে চলে যেতে বলেন। ইমাম আজিজ সম্মানের কথা ভেবে গত ৪ ডিসেম্বর রাতে স্থানীয় এক মুসল্লীর কাছে অব্যাহতিপত্র রেখে বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়েন। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে মুসল্লী, এলাকাবাসী ও মসজিদ কমিটির মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তোজনা বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুসল্লীরা জানান, ইমাম সাহেব একজন ভালো মানুষ। তাকে পুলিশ দিয়ে হয়রানীর ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করায় নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। এ বিষয়ে মুসল্লী সাধারণ ক্ষোভে ফুসে আছে। সেই সাথে এলাকায় তীব্র উত্তোজনা বিরাজ করছে।

জানতে চাইলে পশ্চিম রামপুর আনু কাজী বাড়ীর দরজায় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুল আজিজ বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত সুনামের সাথে মসজিদে দায়িত্ব পালন করেছি। আমাকে জেএমবি সাজিয়ে পুলিশে দিয়ে হয়রানীসহ ভয়ভীতি দেখিয়ে রাতের আঁধারে অব্যাহতিপত্র দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। আমি মুসল্লী ও মসজিদ কমিটি থেকে বিদায় নিতে পারিনি।

ইমামকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার বিষয়ে জানতে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল হাই মুঠোফোনে জানান, ইমাম সাহেব ইকবাল সাহেবের কাছে অব্যাহতিপত্র রেখে চলে গেছে। ইকবাল আমাকে ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার সেই চিঠি দিয়েছেন। জুমার নামাজের পূর্বে সাধারণ সম্পাদক মনির আহম্মদকে আমি বলি চিঠিটি পড়ে শুনিয়ে দিতে, পাল্টা সাধারণ সম্পাদক মনির আমাকে চিঠি পড়ে শুনাতে বলেন। আমি পড়ে শুনিয়েছি। তোপের মুখে পড়ে রাতের আঁধারে চলে যাওয়ার কথা মুখে মুখে এলাকায় প্রকাশ হয়েছে। তবে সেটা আমি জানি না। ৭ ডিসেম্বর ইমামের মেয়ের পরীক্ষা ছিলো শুনেছি তাকে সে সুযোগও দেওয়া হয়নি।

ফেনী পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির আহম্মদের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইমাম সাহেবের নামে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। কমিটির ৩৫ জনের ভোটাভুটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এনিয়ে জুমার নামাজে কতিপয় মুসল্লী আমার উপর চড়াও হয়। এ সময় সুজন, সোহাগ, জহির আমার গায়ে হাত তোলে। ঘটনার বিষয়ে আপনারা খোঁজ খবর নিয়ে রিপোর্ট করেন। আমার বাবা মসজিদের জন্য ৮ ডিসিমেল জায়গা দিয়েছে। আবদুল হাই’র শতকে শতকে জায়গা কই তারাতো এক ডিসিমেল মসজিদকে দেয়নি। কোন অনুদানও দেয়নি তারা কেন মসজিদ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করবে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/পিআই

ফেনী,মসজিদের ইমাম,হুমকি,জেএমবি,পৌর কাউন্সিলর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close