• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

সিরাজগঞ্জে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে প্রশাসনের তৎপরতা

প্রকাশ:  ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৩০ | আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৪১
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ধকল কাটতে না কাটতেই সিরাজগঞ্জে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) লবণের মূল্য বৃদ্ধি আতংঙ্ক বিরাজ হওয়ায় বাজারে ভিড় জমায় ক্রেতারা। জনগণও নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর জন্য এবং যে যার সাধ্যমত চেষ্টায় বেশি লবণ ক্রয় করেন।

দুপুরে সাধারণ মানুষের কাছে লবণ কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, শুনলাম লবণের দাম নাকি বেড়ে যাবে। তাই আমাদের প্রয়োজন মত লবণ ক্রয় করে রাখছি। এমনিতে পেয়াজের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় আমাদের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে। পেয়াজের মত যদি লবণের দাম বেড়ে যায় তাহলে তো আমাদের লবণ ছাড়া খাবার খাওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে। তাই লবণ কিনতে এসেছি।

সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা। একদিনেই জেলার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ১০০ টাকা কেজিতেও অনেক জায়গায় লবণ বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

একটি সূত্র জানায়, সকালে জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর বাজারে প্রথম ১০০টাকা কেজিতে লবণ বিক্রি করা হয় এবং বলা হয় লবণ পাওয়া যাচ্ছে না। দাম বাড়বে।

আরেকটি সূত্র জানায়, সদর উপজেলার মেছড়ার চরে ৮০টাকা কেজিতে লবণ বিক্রি করে একই কথা বলা হয় এই ভাবে জেলা সদরেও একই ঘটনা ঘটে। এরপর বাজার থেকে লবনের মজুদ কমতে থাকে। দোকানীরা বলতে থাকেন লবণ নেই মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ বাড়তি লবণ ক্রয় শুরু করেন। প্রথমে ৪০ থেকে শুরু করে ১০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়।

এদিকে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার সাথে সাথে জেলা প্রশাসক ড.ফারুক আহাম্মদ’র নিদের্শে এই কৃত্রিম সংকট এবং গুজব ঠেকাতে মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার সকল উপজেলার প্রত্যেক বাজারে বাজারে অভিযান শুরু করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা । সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হতে মাইকিং করা হয়।

এসময় কাজিপুরেও লবণ ক্রয়ের জন্য হিড়িক পরে উপজেলার মেঘাই, সোনামুখী ও সিমান্ত বাজারের প্রায় অর্ধশতাধিক পাইকারি ও খুচরা দোকানে লাইন দিয়ে খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের লবণ ক্রয় করতে দেখা গেছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ে নামতে হয়েছে।

হঠাৎ করে এভাবে লবণ ক্রয়ের কারণে অনেক ডিলার বা পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা এখন প্রতি কেজি ৬০ টাকা দামে লবণ বিক্রি করছি। দুপুুর থেকেই আমাদের দোকানে লবণ ক্রয়ের জন্য সাধারণ মানুষ ও খুচরা বিক্রেতারা ভীড় করে। সন্ধ্যার মধ্যে আমাদের দোকানের সমস্ত লবণ বিক্রি হয়ে যায়।

কাজিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম লুৎফর রহমান বলেন, লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজবের কারণে বিভিন্ন বাজারে লবণ ক্রয়ের হিড়িক পড়ে যায়। খবর পেয়ে আমরা দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাজারে ছুটে আসি। প্রত্যেক ডিলারকে বলে দিয়েছি পূর্বে তারা ব্যবসায়ীদের কাছে যে পরিমান লবণ বিক্রি করতো এখন সেই পরিমাণ বিক্রি করতে হবে। এ ছাড়া খুচরা বিক্রেতাদেরকে ১ কেজি থেকে ২ কেজির উপরে লবণ বিক্রি করতে নিষেধ করেছি।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, এ মুহূর্তে লবণের কোনও সংকট নেই। তাই দাম বৃদ্ধির কোনও সম্ভবনাও নেই। যদি কোনও ডিলার বা ব্যবসায়ী বাজার মূল্যর চেয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রি করে তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাংলাদেশে লবণের মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেনি। অসাধু কিছু ব্যবসায়ী লবনের মূল্য বৃদ্ধি করে অধিক মূল্যে বিক্রি করছে। লবণসহ বিভিন্ন সামগ্রী অতিরিক্ত মূল্যে। অতিরিক্ত বিক্রি রোধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া সিরাজগঞ্জ শহরে এই গুজব ছড়লে জেলা প্রশাসক মাইকিং থেকে শুরু করে শহরের বড় বাজার এলাকায় এবং লবণের দোকান গুলোতে একযোগে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেন এতে বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনায় জেলার সাধারণ জনগণ প্রশাসনের এমন তৎপরতাকে অভিনন্দন জানিয়ে, নিয়মিত বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রসাশনের এমন হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত