• বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

মণিরামপুরে লবণের কেজি ৮০ টাকা, বাজারে নেমেছে প্রশাসন

প্রকাশ:  ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৬
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

পেঁয়াজের পর এবার মণিরামপুরে বেড়েছে লবনের দাম। হঠাৎ করেই প্রতি কেজি লবণ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকায়। দোকানদাররা যে যেমন পারছেন দাম হাকাচ্ছেন। সকালেও যে লবণ ১৩-১৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে বিকেল গড়াতেই সেই লবনের দাম বেড়েছে তিনগুণ। বুধবার থেকে লবণের দাম বাড়বে এমন গুজবে বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমেছে। অপরদিকে পরে বেশি দাম পাবে এই আশায় অনেক দোকানদার লবণ বিক্রিও বন্ধ করে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খবর নিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সরেজমিনে মণিরামপুর বাজার ঘুরে ঈদের বাজারের মত ভিড় দেখা গেছে।

এদিকে লবণের দাম বাড়ার খবর পেয়ে মণিরামপুর বাজার মনিটরে নেমেছেন উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের সামনে দাম টিক থাকলেও তারা সরে যাওয়ার পর আবার বেশিদামে দোকানদারদের লবণ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

উপজেলার জলকর রোহিতা গ্রামের মেহেদী হাসান জানান, সন্ধ্যা থেকে রোহিতা বাজারে লবণ ৫০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিপ্রতি দাম ৩০০ টাকা হবে এমন খবর পেয়ে গ্রামের নারীরা লবণ কিনতে বাজারে যাচ্ছেন।

টেংরামারী বাজার এলাকার হোসেন আলী বলেন, দাম বাড়ার কথা শুনে তাড়াতাড়ি বাজারে আসি। কয়েকটি দোকান ঘুরে কোনো লবণ না পেয়ে এক দোকান থেকে ১০০ টাকা দিয়ে দুই কেজি খোলা লবণ কিনেছি।

রঘুনাথপুর গ্রামের নুরুজ্জামান বলেন, আমার কাছে টেংরামারী বাজারের এক দোকানদার খোলা লবণ ৬০ টাকা করে চেয়েছে কিন্তু আমি কিনিনি।

ইত্যা বাজারে খোলা লবণ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান মোশাররফ নামের এক ব্যক্তি।

শুধু গ্রামের বাজারে নয়, মণিরামপুর বাজারেও বেশি দামে লবণ বিক্রি হচ্ছে। মণিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল আলিম বলেন, বাজারের একটি দোকান থেকে ৭০ টাকা দিয়ে দুই কেজি খোলা লবণ কিনেছি।

এদিকে গুজব ঠেকাতে মণিরামপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি তুলসি বোস মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ২০ টাকা দরে লবণ বিক্রি শুরু করেছেন। ওই দোকানে ১০ কেজি লবণ কিনতে এসেছেন সরুপজান নামে এক নারী। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বাজারের বিসমিল্লাহ হোটেলে কাজ করি। আগামীকাল থেকে ১৪০ টাকা লবণের কেজি হবে শুনে একসাথে ১০ কেজি কিনতে এসেছি।

তুলসি বোস বলেন, বাজারে লবণের কোন সংকট নেই, দামও বাড়েনি, কেউ বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন না বলে সব দোকানদারদের বলে দেওয়া হয়েছে।

যদিও তার সাথে কথা বলার পর বাজারের মা কালি স্টোরে গিয়ে ৩০ টাকা কেজিতে খোলা লবণ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে বেশি দামে লবণ বিক্রির খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু,থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে নিয়ে সন্ধ্যায় মণিরামপুর বাজার মনিটরিং করেন ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী। এসময় তিনি দোকানমালিক ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলে তাদের সতর্ক করেন।

জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত লবণ মজুত আছে। খোলা লবণ ২০ টাকা ও প্যাকেট লবণ ৩৫ টাকা করে বিক্রির জন্য দোকানদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনগণকে সতর্ক করার জন্য এই ব্যাপারে মাইকিং করা হচ্ছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এস.খান

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত