• রোববার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

অবশেষে চাকরিতে যোগ দিলেন সেই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে

প্রকাশ:  ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৭ | আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৪১
দিনাজপুর প্রতিনিধি

অবশেষে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন দিনাজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমাইল হোসেনের ছেলে নুর ইসলাম। দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের গাড়িচালক পদে তিনি যোগদান করেছেন। গত ২৩ অক্টোবর দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একবুক অভিমান নিয়ে মারা যান মো. ইসমাইল হোসেন।

নুর ইসলামের যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শিবেশ সরকার। তিনি বলেন, গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইসমাইল হোসেনের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তার ছেলে নুর ইসলামকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে চাকরি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

গত ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জিপ গাড়িটি দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে এসে পৌঁছায়। হুইপের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী ১ নভেম্বর নুর ইসলামকে গাড়িচালকের চাকরি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নুর ইসলাম বলেন, চাকরি ফিরে পেয়েছি এটা আমার জন্য যেমন আনন্দের তেমনি, বেদনারও। আমার বাবার প্রতি প্রশাসনের অবহেলা এবং আমার মায়ের সঙ্গে প্রশাসনের যে আচরণ তা কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না। আমার জন্য মৃত্যুর পরও বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধার সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ তার শেষ যাত্রার কফিনে গ্রহণ করেননি। মাকে বৃদ্ধ বয়সে অপমানিত, লাঞ্ছিত ও পায়ে আঘাত পেতে হয়েছে। আমি এই ঘটনারও সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করছি। যাতে আর কোনো মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারকে এই পরিণতির শিকার হতে না হয়।

উল্লেখ্য, এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা অবস্থায় হুইপ ইকবালুর রহিম বরাবর একটি চিঠি লেখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হঠাৎ যদি আমার মৃত্যু হয়, আমাকে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করা হয়। কারণ এসিল্যান্ড, ইউএনও, এডিসি, ডিসি যারা আমার ছেলেকে চাকরিচ্যুত, বাস্তুচ্যুত করে পেটে লাথি মেরেছে, তাদের সালাম/স্যালুট আমার শেষ যাত্রার কফিনে আমি চাই না। ভুল ত্রুটি ক্ষমা করিও’।

সেই চিঠি লেখার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই ২৩ অক্টোবর মারা যান ইসমাইল হোসেন। এরপর ২৪ অক্টোবর লিখে যাওয়া অসিয়ত অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অফ অনার) ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয় তার। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। সেই খবর জানতে পেরে ওইদিনই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অবহেলা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়া দাফনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেন বিভাগীয় কমিশনার। গত ২৬ অক্টোবর কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেন তদন্তে আসেন।

এরপর গত ২৭ অক্টোবর জেলা সদরের এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার ভূমি) আরিফুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার মহসেন উদ্দিনকে দিনাজপুর থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা জেলা প্রশাসককে ওএসডি করার দাবি জানান। অন্যথায় তারাও গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/পিআই

দিনাজপুর,বীর মুক্তিযোদ্ধা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত