• মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতের অনুষ্ঠানে ‘প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’

প্রকাশ:  ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:১১ | আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৫৪
সিলেট প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট আসছেন আগামী ৮ নভেম্বর। বিশ্বকবি রবি ঠাকুরের সিলেট ভ্রমণের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণোৎসবে যোগ দেবেন তিনি।

শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। আর এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়েছে বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন ‘খালেদা জিয়াকে’! একইসঙ্গে খালেদা জিয়াকে উল্লেখ করা হয়েছে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে।

এ উপলক্ষে সোমবার (২১ অক্টোবর) বিকালে রবীন্দ্র শতবর্ষ উদযাপন কার্যকরী পরিষদের আহ্বায়ক সাবেক মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন।

মুহিতের নিজ বাড়ি সিলেট নগরীর হাফিজ কমপ্লেক্সে এ প্রেসব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

স্মরণোৎসব অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন বলে জানান কমিটির আহ্বায়ক আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এরপর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম চৌধুরীকে কর্মসূচি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্য রাখার সময় আমিনুল ইসলাম লিটন বলেন, সময় যেহেতু আছে, সেজন্য আমরা সবার উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করছি না। কিন্তু এটা নিশ্চিত করছি যে, সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন।

তার এ বক্তব্যের পর হৈ-হুল্লোড় শুরু হয়ে যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাফিজ কমপ্লেক্সের কনফারেন্স হল।

আওয়ামী লীগ নেতারা এসময় যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে লিটনের নাম রাখা নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক বিজিত চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার জোর দাবি জানান।

আওয়ামী তাঁতি লীগ নেতা বাদশা গাজি বলেন, টাকা যেখানে, ওরা সেখানে। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে এদের রূপও বদলায়।

আমিনুল ইসলাম লিটন নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, ভুল মানুষের হয়। সবাই এত কথা বলছেন, যখন জনতার মঞ্চে যখন বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়, তখন সেখানে আমিনুল ইসলাম লিটন বদর উদ্দিন কামরানের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন। এ কারণে বিএনপি আমাদের পাঁচ বছরের জন্য গায়েব করেছিল। এখানে যারা আছেন অনেকেই জানেন বিএনপি আমাকে পাঁচ বছরের জন্য গায়েব করেছিল।

পরে হট্টগোল থামাতে অনুরোধ করেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

তিনি বলেন, দিস ওয়াজ এ গ্রেট মিসটেক, অফকোর্স। মানুষের ভুল সব সময় হয়। শেখ হাসিনার এখন থার্ড কনজিকিউটিভ টার্ম। তার আগেও একবার ছিলেন। এখন বোধ হয় শেখ হাসিনার প্রাইম মিনিস্টারশিপ খালেদা জিয়ার থেকে বেশি সময় হয়ে গেছে। সুতরাং, এটা আপনারা ক্ষমা করে দেন।

এসময় আওয়ামী লীগ নেতা বিজিত চৌধুরী দাঁড়িয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থার্ড টার্ম পার করছে। তাই খালেদার নাম আসার কোনো সুযোগ নেই। এটা বড় ভুল।’

এসময় লিটন বলেন, আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি আগেই বলেছি… বলার পর আবার হট্টগোল শুরু হলে সাবেক অর্থমন্ত্রী তাকে থামিয়ে দেন।

পরে মুহিত বলতে থাকেন, ‘ভুল মানুষের হয়। অনেক সময় মানুষের বড় বড় ভুল হয়ে যায়। আই সেড টেল ইউ অ্যাবাউট ওয়ান অব মাই মিসটেক।’

এ বিষয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশফাক আহমদ চৌধুরী বলেন, আমার কাছে আশ্চর্য লাগছে। টানা ১১ বছর থেকে প্রধামনন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায়। রাস্তাঘাটেও কিংবা সাধারণ মানুষের মুখেও এটা আসছে না। এখানে কি করে এত বড় একটা ভুল হলো!

উপস্থিত প্রগতিশীল সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যিনি মানপত্র উপহার দিয়েছিলেন, তিনি জাসাসের উপদেষ্টা ও বিএনপির মাস্টারমাইন্ড খ্যাত আমিনুল ইসলাম লিটন। আর তাকেই রাখা হয়েছে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক কমিটিতে। যেখানে কিনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন।

উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীরসহ ২৫ সদস্যের কমিটির নাম ঘোষণা করেন সাবেক এ অর্থমন্ত্রী। পরে ওই কমিটিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ ৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

সিলেট,সাবেক অর্থমন্ত্রী,আবুল মাল আব্দুল মুহিত,বিএনপি,খালেদা জিয়া
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত