• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
  • ||
শিরোনাম

পূজা মণ্ডপে আ’লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ

প্রকাশ:  ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৪০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে একটি পূজা মণ্ডপে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের পাকুণ্ডার গাবতলী এলাকায় লক্ষী পূজা মণ্ডপে হামলা চালিয়ে ৬টি প্রতিমা ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও প্রতিপক্ষের হামলায় ৫টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। এসময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তালতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আহসানউল্লাহ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার পর রাতে পাকুণ্ডা গাবতলী পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) মো. খোরশেদ আলম, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার, সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান, তালতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আহসান উল্লাহ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় লক্ষী পূজা উপলক্ষে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে যান নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপের) সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু। এসময় তার সঙ্গে উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন।

পূজা মণ্ডপে যাওয়ার পথে গাড়ি বহরে বাধা দেন জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি হুমাযুন কবির, তার ছেলে রুবেল মিয়া, রোমান মিয়া, শ্যালক রিপন মিয়াসহ ২৫-৩০ জনের একটি দল। এসময় হকস্টিক, লোহার রডসহ দেশী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালিয়ে যুবলীগ নেতা মোখলেছুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হোসেন, নাফি মিয়া ও জাহিদ হোসেনসহ কমপক্ষে ১০ জনকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে।

আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে ৪-৫ টি গাড়ি ভাংচুর করে হামলাকারীরা। হামলা ও বাধার মুখে ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু তার লোকজন নিয়ে পূজা মণ্ডপে না গিয়ে ফিরে আসেন।

পরে সন্ধ্যায় ক্ষিপ্ত হয়ে জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি হুমায়ন কবির ও তার লোকজন লক্ষী পূজা মণ্ডপে হামলা চালিয়ে ৬টি প্রতিমা ভাংচুর করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া জানান, পূজা মণ্ডপে পরিদর্শনে যাওয়ার পথে বিরুর গাড়ি বহরে হামলা ভাংচুর করে হুমায়ুন মেম্বারের লোকজন। এসময় উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমায়ুন মেম্বারের লোকজন প্রতিমা ভাংচুর করে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাবতলী পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি হরি সূধন বিশ্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন মেম্বারের নেতৃত্বে তার লোকজন পূজা মন্ডপে ভাংচুর করে। এসময় ৬টি প্রতিমা ভাংচুর করা হয়।

সোনারগাঁ উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার ভৌমিক জানান, আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে পূজা মণ্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ডা আবু জাফর চৌধুরী বিরুর সমর্থিত লোকজনই তার লোকজনদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। হামলায় তার পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছে। বিরুর লোকজন প্রতিমা ভাংচুর করে আমাদের লোকজনকে ফাঁসাতে চাইছে।

তালতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আহসানউল্লাহ জানান, ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার জানান, পাকুণ্ডা গাবতলী পূজা মণ্ডপে হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতিমা ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনা স্থলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এটা কোনো সাম্প্রদায়িক বিষয়ক নয়। রাজনৈতিক কোন্দলে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন রয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/আরএইচ

নারায়ণগঞ্জ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত