• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

ফেনীর ৫ হাসপাতালে কয়েক বছর ধরে এক্স-রে সেবা বন্ধ

প্রকাশ:  ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩১
ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর ৫ হাসপাতালে কয়েক বছর ধরে এক্স-রে সেবা বন্ধ। ছবি: পূর্বপশ্চিম

ফেনীর তিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫ সরকারি হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনগুলো বছরের পর বছর অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে করে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ। এতে করে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে, সরকারি হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনগুলো অকেজো হওয়ায় দরিদ্র রোগীরা বেশি টাকা খরচ করে বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র ও ক্লিনিক থেকে এক্স-রে করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে পকেট ভারি হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকের মালিকদের।

সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ থেকে ১৫ বছর এক্স-রে বিভাগ বন্ধ রয়েছে। ফুলগাজীতে এক্স-রে চালু থাকলেও জনবল না থাকায় সেবা দেয়া যাচ্ছেনা। এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সবগুলোতেই গত ডিসেম্বর মাসে নতুন ডিজিটাল এক্স-রে প্রদান করা হলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় এগুলো সচল করা যাচ্ছে না। আবার কোন কোন উপজেলায় বৈদ্যুতিক সমস্যা ও প্রয়োজনীয় কক্ষ না থাকায় এসব যন্ত্র এখনো স্থাপন করা হয়নি।

ফেনীর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ছাড়াও ফেনীর পাঁচ উপজেলায় রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এছাড়াও একটি বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও একটি ট্রমা সেন্টারে মানুষ সেবা নিয়ে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে ২ জন টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে ছাগলনাইয়া ও পরশুরামে এক্স-রে যন্ত্র সচল রাখা হয়েছে। বাকি ৩ উপজেলাতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর যাবৎ রোগীরা এক্স-রে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন।

এসব উপজেলায় পুরনো এক্স-রে যন্ত্র থাকার পরেও বিগত ডিসেম্বরে সেবার মান বাড়াতে নতুন ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র দেয়া হয়েছে। তবে এসব যন্ত্র পরিচালনার জন্য দেয়া হয়নি টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় জনবল। যার কারণে শুধুমাত্র ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাড়া বাকি উপজেলায় এখনো বাক্সবন্দি রয়ে গেছে এসব মূল্যবান এক্স-রে শেশিন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান অফিস সহকারি আবদুল মান্নান জানান, বিগত ডিসেম্বরে ফেনীর ৬টি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে ৬টি নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়া বাকিরা এখনো এটি স্থাপন করতে পারেনি। কারণ হিসেবে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরবরাহ না থাকা ও জনবল না থাকায় এসব সেবা সেন্টারে এখনো এক্স-রে যন্ত্রগুলো স্থাপন করা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, জেলায় এক্স-রে টেকনিশিয়ানের পদ রয়েছে ৭টি। এরমধ্যে ছাগলনাইয়া ও পরশুরামে দুই জন কর্মরত রয়েছেন। ফুলগাজীতে এক্স-রে যন্ত্রটি সচল থাকার পরেও দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেপুটিশনে কর্মরত থাকায় সেবা দেয়া যাচ্ছে না। বাকি সোনাগাজী, দাগনভূঞা, বক্ষব্যাধী ক্লিনিক ও ট্রমা সেন্টারে এখনো টেকনিশিয়ান পদায়ন করা হয়নি। যার ফলে অযেত্নে অব্যবহৃত অবস্থায় এনালগ ও ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনগুলো এখনো অকেজোই পড়ে আছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে টেকনিশিয়ান আক্তারুজ্জামান জানান, সরকারি হাসপাতালে প্রকার ভেদে এনালগ এক্স-রে ৫৫ টাকা থেকে মূল্য শুরু। আর ডিজিটাল যন্ত্রের এক্স-রে ২’শ টাকা নেয়া হয়। অথচ বেসরকারি ক্লিনিকে এক্স-রে করাতে খরচ পড়ে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।

ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, এ হাসপাতালে এক্স-রে বিভাগের সবকিছু ঠিক আছে। শুধুমাত্র টেকনিশিয়ান না থাকায় এক্স-রে বিভাগ বন্ধ রয়েছে। এতে করে আমাদের ১০-১২ কিলোমিটার দূরে জেলা শহরে গিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এক্স-রে করতে হয়। একদিকে নষ্ট হয় সময়। অন্য দিকে বাড়ে অতিরিক্ত ব্যয়।

ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, গত প্রায় ৩ বছর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে শেশিন দু’টি পড়ে রয়েছে। এক্স-রে বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্টকেও ঢাকার একটি হাসপাতালে প্রেষণে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। টেকনোলজিস্ট না থাকায় সব কিছু ঠিকঠাক থাকার পরেও আগত রোগীদেরকে এক্স-রে সুবিধা দিতে পারছিনা।

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল আলম বলেন, গত ১০ বছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন দুটি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টও নেই এ হাসপাতালে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি।

দাগনভূঞা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালেদ মাহমুদ বলেন, এক্স-রে মেশিন দুটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই। একই অবস্থা ফেনীর ট্রমা সেন্টার ও বক্ষব্যাধী ক্লিনিকেরও। এসব ক্লিনিকে গত ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত এক্স-রে বিভাগ বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র টেকনোলজিস্ট শুন্যতায় একদিকে মূল্যবান সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে; অন্যদিকে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান জানান, ফেনীর ৫টি ক্লিনিকে নতুন করে এক্স-রে মেশিন দেয়া হয়েছে। কিন্তু জনবল না থাকায় এগুলো স্থাপন ও সচল রাখা যাচ্ছে না। জেলায় আমাদের ৫০ জনেরও অধিক জনবল শূণ্য রয়েছে। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/পিআই

ফেনী,চিকিৎসা সেবা,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,এক্স-রে
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত