Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

বরিশাল প্রেসক্লাবের সম্পাদকের ভবন ভাংচুরের চেষ্টা নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড

প্রকাশ:  ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্নার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার জেরে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের নির্মাণাধীন ভবন ভাংচুরের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) বিকেল চারটা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নগরীর ২০ নং ওয়ার্ডের কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ কিছু জানতেন না বলে জানিয়েছেন। এমনকি ভবন ভাঙ্গারও কোন নির্দেশ সিটি কর্পোরেশন থেকে দেওয়া হয়নি। দুই দফায় ভবন ভাংচুরের চেষ্টা চালালেও র‌্যাব ও পুলিশের হস্তক্ষেপে ভাংচুর করতে পারেনি মান্নার অনুসারীরা। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিন্দনীয় বলেও জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে সাংবাদিক নেতার বাসভবন ভাংচুরের অপচেষ্টার বিষয়ে মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেতারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ করেই সিটি কর্পোরেশনের দুটি ময়লা বহনের গাড়ি ও একটি বুলড্রেজার কলেজ রোড এলাকায় প্রবেশ করে। ময়লা বহনের একটি গাড়ি আরিফ মেমোরিয়াল হসপিটালের পূর্ব পাশের মোড়ে, অন্যটি কলেজ রোডের পূর্ব মাথায় অবস্থান নিয়ে যান ও মানুষের চলাচল আটকে দেয়। রোড ইন্সপেক্টর অনিক ও মোঃ সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনের বাসা ভাঙার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। খবর পেয়ে এসএম জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে এসে উচ্ছেদের নির্দেশপত্র দেখতে চান রোড ইন্সপেক্টরদের কাছে।

কিন্তু কোন ধরণের উচ্ছেদের নির্দেশপত্র দেখাতে না পারায় বুলড্রেজার দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটি না ভাঙ্গতে অনুরোধ করেন। তখন রোড ইন্সপেক্টররা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং দফায় দফায় ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্নার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে থাকেন। কলেজ রোডে বুলড্রেজার দেখে এলাকাবাসী জড়ো হলে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া, কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নূরুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মোঃ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ ফোর্স।

পুলিশ কর্মকর্তারা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ও স্থানীয়দের উত্তেজিত না হতে অনুরোধ করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া উচ্ছেদের নির্দেশনামা দেখতে চান।

সিটি কর্পোরেশনের রোড ইন্সপেক্টররা নির্দেশপত্র দেখাতে না পেরে জানান, বিষয়টি কাউন্সিলর মান্না জানেন। তখন বিধানমতো নোটিশ দিয়ে ভবন ভাঙ্গার অনুরোধ করেন উপপুলিশ কমিশনার। একইসঙ্গে সবাইকে চলে যেতে বলেন। এরপরই উপ-পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে বুলড্রেজার ও ময়লা বহনের গাড়ি নিয়ে কলেজ রোড এলাকা ত্যাগ করেন নগর ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, সবাই চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাঈদ আহম্মেদ মান্না। তিনি অকথ্য ভাষায় গালি দিতে দিতে বলেন, তাদের হাত ভেঙ্গে ফেলবো যারা সিটি কর্পোরেশনের স্টাফদের মারধর করেছে। মান্নার পরপরই মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শতাধিক ছাত্রলীগকর্মী।

মান্না মোবাইলে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েল, স্টেট অফিসার দীপক লাল মৃধা ও বিভিন্ন পদমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তাদের ডেকে আনেন। একইসাথে আরও দুটি বুলড্রেজার, ময়লা বহনের চারটি গাড়ি আনেন। উত্তেজিত কাউন্সিলর মান্নার হুংকারে আবারও এলাকাবাসী জড়ো হন। মান্না বুলড্রেজারের ওপর দাড়িয়ে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনের নির্মাণাধীন ভবন ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

দ্বিতীয় দফায় এসএম জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে না থাকলেও তার ভাই হায়দার মিয়া, স্ত্রী, সন্তানরা মেয়রের নির্দেশ ছাড়া ভবন ভাংচুর না করার অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতেও মান্না শান্ত না হয়ে উল্টো দ্রুত ভবন ভাঙার জন্য বলেন। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আবারও উপস্থিত হন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া, কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নূরুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মোঃ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ ফোর্স। উপ-কমিশনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশপত্র থাকলে ভবন ভাঙতে বলেন। তাতে পুলিশ সহায়তা করবে। কিন্তু বিধি মোতাবেক না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তার দায় পুলিশ নিবে না বলে জানান। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পর পুলিশ সবাইকে চলে যেতে বললে মান্নার অনুসারীরা অভিযোগ করেন, সিটি কর্পোরেশনের রোড ইন্সপেক্টরকে মারধর করা হয়েছে। এমন অভিযোগ এনে কলেজ রোড এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে থাকেন মান্না।

এ পর্যায়ে উপপুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া ও কোতয়ালীর ওসি সবাইকে শান্ত হতে বলেন। হ্যান্ডমাইকে মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া তৃতীয় দফায় ভবন ভাঙ্গতে মেয়রের নির্দেশপত্র চান কাউন্সিলর মান্নার কাছে। তিনি তার জবাব না দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের স্লোগান দিতে বলেন। একপর্যায়ে উপপুলিশ কমিশনারের কাছে ‘কর্মচারী মারধরের’ অভিযোগ আনেন।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, উপপুলিশ কমিশনার নিজেই মান্নাকে বলেছেন, আমি ঘটনার শুরু থেকেই ছিলাম। কিন্তু কারও ওপর হামলার ঘটনা ঘটতে দেখিনি। সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের কেউ মারধর করবে আর পুলিশ তা নিরবে দেখবে-এমনটা বলা অযৌক্তিক। তখন শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্না পিছু হটেন। তবে ছাত্রলীগ নেতারা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বসিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে বলেন।পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রথমে অস্বীকার করলে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বসিয়ে মারধরের অভিযোগ এনে শ্লোগান দিতে থাকে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিপুল সংখ্যক র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন প্যানেল মেয়র-১ গাজী নঈমুল ইসলাম লিটু, প্যানেল মেয়র-২ অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন ও মহানগর আওয়ামী লীগের মৎস ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল। তারা সড়কে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টাকারীদের দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার জন্য বলেন। এরপর পৌনে ৯টার দিকে সড়ক ছেড়ে বুলডোজার, ময়লা বহনের গাড়ি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা চলে যান।

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পদক এসএম জাকির হোসেন জানান, আমার নির্মাণাধীন ভবনের যে চেষ্টা চালানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ ব্যক্তি আক্রোশে। আমি নিয়ম মেনেই ভবন নির্মাণ করেছি। তারপরও কোথাও সমস্যা হলে বিধানমত লিখিতভাবে জানাতে পারতো। কিন্তু তা না করে একজন কাউন্সিলর আমার ওপর প্রতিশোধ নিতে এই কাজ করেছেন।

এ বিষয়ে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, কোন কর্মকর্তা ছাড়া প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন ভাংচুরের চেষ্টা চালানোটা অবৈধ বলে মনে করি। এটি আরও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত।

শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু আইন প্রয়োগ করাটা নিয়ম মাফিক হওয়া উচিত। নিয়ম মেনে নোটিশ দিয়ে ভবন ভাঙ্গার প্রক্রিয়ায় এগোলে দৃষ্টি কটু হতো না। কিন্তু নিয়ম না মেনে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের বাসা ভাঙ্গার চেষ্টা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।

বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি পুলক চ্যাটাজী বলেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের ভবনের বর্ধিতাংশ যদি সড়কের ওপর পরে তাহলে তাকে নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা উচিত ছিল। তাছাড়া বলা যেত যেন নিজ দায়িত্বে ভেঙ্গে ফেলেন। তারপরও যদি বর্ধিতাংশ না ভাঙ্গত তখন সিটি কর্পোরেশন ভাঙ্গতে পারতো। কিন্তু তা না করে যে চেষ্টা চালানো হয়েছে তাতে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করি।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে ২৫০০ পিস ইয়াবা ও নগদ এক লাখ টাকাসহ দুইজনকে ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্নার বাসার চতুর্থ তলা থেকে আটক হয়। এই সংবাদ ১৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক মতবাদে প্রকাশ হওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ হন কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্না। সেই ক্ষোভ থেকে মান্না সোমবার তার অনুসারী স্টাফদের দিয়ে ভবন ভাংচুরের চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

বরিশাল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত