Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

আবরারের শেষ জানাজায় মানুষের ঢল, জড়িতদের শাস্তি দাবি

প্রকাশ:  ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২৫
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের তৃতীয় নামাজের জানাজা তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় সম্পন্ন হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন হাজারো মানুষ।

এদিকে, হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানবন্ধন করছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রায়ডাঙ্গা গোরস্থানে তার তৃতীয় ও শেষ জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে ফাহাদের দাফন হয়।

এর আগে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফাহাদের মরদেহবাহী গাড়িটি কুষ্টিয়ার পিটিআই রোডস্থ বাড়িতে পৌঁছায়। এসময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় আল হেরা জামে মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

পরে ফাহাদের মরদেহ নিয়ে আসা হয় ফাহাদের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা।

এদিকে, ফাহাদের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে মানববন্ধন করছেন এলাকাবাসী। এ সময় জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানও দেন তারা।

প্রতিবেশীসহ দূর-দূরান্ত থেকেও এসেছেন শেষবারের মতো ফাহাদকে দেখতে। স্বজনদের সঙ্গে তাদের চোখেও ছিল অশ্রুধারা। এমনকি কয়েকজন পুলিশ সদস্যকেও কাঁদতে দেখা গেছে। তাদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে রায়ডাঙ্গা গ্রামের পরিবেশ-প্রতিবেশ, যে এটি এখন শোকের গ্রাম।

কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহও। তবে তার কান্নায় ছিল ক্ষোভ। কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না যে-তার ছেলেকে কয়েকজন পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।

তিনি বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যে ছেলেটা বিকেল ৫টায় ঢাকায় গেল, তাকে ৮টার দিকে নির্যাতন করার জন্য ডেকে নিয়ে গেল। ছয় ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালাল, এটা অবশ্যই পরিকল্পিত।

এ ঘটনায় কোনো নেতার ইন্ধন রয়েছে। কেননা দু–একজন নয়, সেখানে ১৫ জনের বেশি ছেলে এই হত্যায় অংশ নিয়েছে। পরিকল্পনা ছাড়া ১০–১৫ জন ব্যক্তি কাউকে মারতে পারে না। হাইকমান্ডের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, বলেন ফাহাদের বাবা।

গত রোববার (০৬ অক্টোবর) দিনগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ফাহাদের সহপাঠীরা অভিযোগ করেছেন, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে ফাহাদকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন।

ফাহাদের ময়নাতদন্তকারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকেরাও জানান, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। ছিলেন শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র।

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার (০৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ্। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।এছাড়া বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১১জনকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়া থেকে ওই বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

বুয়েট ছাত্র,আবরার ফাহাদ,তৃতীয় নামাজের জানাজা,কুষ্টিয়া,কুমারখালী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত