• সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

পুলিশ পারেনি ৬ মাসেও, ১৫ দিনে হত্যা রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই

প্রকাশ:  ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৩৯ | আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৫১
বরিশাল প্রতিনিধি

মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে বরিশালের উজিরপুরে মাদক সেবীদের হাতে খুন হওয়া স্কুল ছাত্র ইসরাফিল হাওলাদার নয়ন হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার নারায়ণগঞ্জ থেকে নয়ন হত্যায় অন্যতম অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম আমিনকে গ্রেফতার করে (পিবিআই)। এছাড়া বৃস্পতিবার বরিশাল আদালতে নয়ন হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আমিনুল।

পিবিআই’র পরিদর্শক মো. মাহফুজুর রহমান জানান, মাদক (ড্যান্ডি) সেবনের কথা প্রকাশ করে দেয়ায় স্কুলছাত্র নয়নকে মাদকসেবীরা হত্যা করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

উজিরপুরের বামরাইল এবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ইসরাফিল হাওলাদার নয়ন। সে একই উপজেলার ভরসাকাঠী গ্রামের সোবাহান হাওলাদারের ছেলে।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানন্দিতে আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, গত ২৭ এপ্রিল ড্যান্ডি সেবনের তথ্য ফাঁস করার পর ওইদিন দুপুরে নয়নকে হত্যার পরিকল্পনা করে আশিক। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওইদিন সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে নয়নকে ডেকে নেয় বখাটে আশিক। এরপর ভরসাকাঠী গ্রামে গির্জাঘর নামে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নয়নের হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। পরে মারধর করে তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে নয়নের বাবা-মায়ের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আশিক। মুক্তিপণ না দিলে নয়নকে হত্যা করা হবে বলে আশিক হুমকি দেয় মোবাইল ফোনে।

এদিকে, ওই দিন রাত ৯টার দিকে পাশের গ্রাম রমজানকাঠীর একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয় নয়নকে। সেখানে আমিনুল ও মমিনুল নয়নের পা চেপে ধরে এবং আশিক একটি ধারালো ছুরি দিয়ে নয়নকে এলোপাথাড়ি কোপায়। এরপর ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তার লাশ বস্তায় ভরে ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেয় তারা।

পরদিন ২৮ এপ্রিল সকালে স্থানীয়দের দেয়া খবরে পুলিশ রমজানকাঠী সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর পাশ থেকে স্কুলছাত্র নয়নের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে। সেদিনও ঘাতকরা বাড়িতেই অবস্থান করেছিল।

এ ঘটনায় নয়নের বাবা সোবাহান হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ। কিন্তু তাদের তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পিবিআই’র তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নয়ন হত্যার প্রকৃত ঘটনা।

সোবাহান হাওলাদারের অভিযোগ, বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ মামলার শুরু থেকেই তদন্তে গাফেলতি করে আসছিল। তারা প্রকৃত খুনিদের বাদ দিয়ে নির্দোষ মানুষকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করে। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবিতে ইতিপূর্বে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলো স্থানীয়রা।


পূর্বপশ্চিমবিডি/পিআই

পিবিআই,বরিশাল,নয়ন হত্যা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close