Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

ভ‌্যান চালক থেকে কোটিপতি পলিথিন আলী!

প্রকাশ:  ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩৯
সিলেট প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

ভ্যান চালক হিসেবে জীবিকা শুরু করলেও এখন প্রশাসন চালায় আলী হোসেন। প্রাথমিকের গণ্ডি না পেরোলেও সেই আলী হোসেন এখন দৈনিক পত্রিকার প্রকাশক। রয়েছে নামে বেনামে বিলাস বহুল একাধিক বাড়ি, গাড়ি। সিলেটে নিষিদ্ধ পলিথিন সাম্রাজ্যে এখন একক আধিপত্য পলিথিন আলীর।

অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মাসিক চুক্তির মাধ্যমে অপ্রতিরোধ্য পলিথিন সাম্রাজ্যের একক আধিপত্য এই আলীর হাতে। সুযোগ বুঝে আলী হোসেনও অবৈধ ব্যবসায়ের বিস্তার ঘটিয়ে চলেছেন ইচ্ছেমতো। এখন আর পলিথিন নয়, রয়েছে নকল জর্দ্দা ও কেমিক্যাল তৈরির কারখানা। সাথে আছে প্রকাশিত অনিয়মিত দৈনিকের নামে বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদা আদায়। প্রতিনিধি কার্ড প্রদান নিয়ে বাণিজ্য। বিভিন্ন মোটর সাইকেল বা সিএনজিতে “বাংলাদেশ মিডিয়া” নামক পত্রিকার স্টিকার টাঙ্গিয়ে মাসোহারা বাণিজ্য। রয়েছে র‌্যাব বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে টাকা আদায়সহ আরো একাধিক অভিযোগ।

প্রায় ২০ বছর আগে সুনামগঞ্জ থেকে জীবিকার উদ্দেশ্যে সিলেটে আসেন আলী হোসেন। বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার ৩নং বারা ইউনিয়ের ইসলামপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মুজিবুর রহমান। বর্তমানে আলী হোসেন নগরের দক্ষিণ কুশিঘাট এলাকার বাসিন্ধা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলীর এক সময়ের অত্যন্ত নিকটজন জানান, এক সময় পিতা-পুত্র দু’জনেই ভ্যান গাড়ি চালাতেন। ২০০০ সালের জুন মাসের দিকে লাউয়াইস্থ জনৈক হারুনের হাত ধরে সাইকেল নিয়ে বাজারে-বাজারে ভেজাল সিগারেট, জর্দা,পলিথিন বিক্রির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন আলী হোসেন। এর মধ্য দিয়েই আলীর উত্থান পর্ব শুরু হয়। একসময় লালদিঘীর পাড়ের ব্যবসায়ী দিলু মিয়ার হাত ধরে প্রশাসনিক জগতে পরিচয় ঘটে আলী হোসেনের। তারপর থেকেই পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি আলী হোসেনকে।

পলিথিন আলী কৃষকদলের ১৪নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মহানগর কৃষকদলের অর্থসম্পাদক।

২০১৬ সালে সিলেটের স্থানীয় দৈনিক ‘সবুজ সিলেট’ পত্রিকায় কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয় আলীর। বিএনপির রাজনীতি এবং সরকার বিরোধী একাধিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও সরকারি দলের লোকদের সাথে গভীর সখ্যতা রয়েছে আলী হোসেনের। আলী হোসেনের সাথে সিলেট সিটি কর্পোরেশেনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরানের আশীর্বাদ রয়েছে, এমন একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়েছে পত্র-পত্রিকায়।

লালদীঘীর পাড়ের ব্যবসায়ী আলীম উদ্দিন জানান, আলী প্রকাশ্যেই নিজেকে কামরানের লোক পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।

২০১৫ সালের ২৩এপ্রিল আওয়ামী লীগ নেতা ছড়ারপারের আবুল কালাম আলীর উপর পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, আলী মহানগর ১৪ নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং লালদিঘিরপাড়ে অবৈধ ফেন্সিডিল, নকল জর্দাসহ নিষিদ্ধ পলিথিনের গডফাদার। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০-১২টি মামলা রয়েছে। সরকার উৎখাতে তার দোকানের ম্যানেজারসহ লোক দিয়ে বন্দরবাজার এলাকায় ককটেল ও পেট্রোল বোমার বিস্ফোরণ ঘটনায়।

এঘটনায় কোতয়ালী থানায় মামলা হয়, যাহার নং ৩৮/১৫ইং। পুলিশ এ ঘটনায় আলীর ম্যনেজার আমজাদকে গ্রেফতার করার পর এমন তথ্য পায়।

সম্প্রতি এরকম আরো একটি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ব্যবসায়ী সামছুল ইসলাম ডিস্কো। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পলিথিন আলী কালিঘাটের তার অফিসে নিয়ে জোরপূর্বক জাল স্বাক্ষর নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

চলতি মাসের ৬ জানুয়ারি নগরের দক্ষিণ সুরমার সুরমাব্রীজ সংলগ্ন স্থানে কয়েকজন যুবক কর্তৃক আটক করা হয় আলীর পলিথিনবাহী ট্রাক। খবর পেয়ে ভোররাতে সেখানে হাজির হন একদল লোক। আলী হোসেন এ সময় দুটি সিএনজি এবং দুটি মোটর সাইকেলযোগে দলবল নিয়ে আসেন। পলিথিন আলী এ সময় দম্ভোক্তি করে বলেন, ``আমি চালাই প্রশাসন, আমার সাথে তাফাল্লিং নয়”। এই সুযোগে বোঝাই ট্রাক চলে যেতে চাইলে উপস্থিত এক যুবক বাঁধা প্রদান করলে, আলীর লোকজন সদলবলে হামলা করে ঐ যুবকদের উপর। দৃশ্যটি ক্যমেরাবন্দি করেন এক সাংবাদিক। তখন আলীর লোকজন ঐ সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। অস্ত্র ও লাটি সোটা হাতে থাকা আলীর লোকজন এ সময় সাংবাদিককে রক্তাক্ত করে তার হাতে থাকা মোবাইল এবং ক্যামেরা নিয়ে বীরদর্পে স্থান ত্যাগ করে।

এ সময় সিএনজি অটোরিক্সায় ঘটনাস্থলে আসেন টহলে থাকা দক্ষিণ সুরমা ফাঁড়ির তিন পুলিশ। তাদের মাধ্যমে ফাঁড়ির ইনচার্জ বেনু বাবুকে জানান ঐ সাংবাদিক। সে সময় প্রতিকারের ব্যবস্থা না করে আহত সাংবাদিককে বাড়ি পৌঁছে দিতে কনস্টেবলদের নির্দেশ করেন ফাঁড়ি ইনচার্য।

আনীত অভিযোগ অস্বিকার করে অভিযুক্ত আলী হোসেন বলেন, এটি আমার বিরুদ্ধে পিযুষ গ্রুপের একটি চক্রান্ত। ঐ তারিখে শাহপরাণ ট্রেডার্সের নামে চালানকৃত বোঝাই ট্রাকের সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে, সিলেটে পাঠানো ঢাকা রহমানীয়া ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী জানায়, বোঝাই ট্রাকের মালিক ছিলো সিলেটের আলী হোসেন।

ঘটনাটি চলতি বছরের ৬জানুয়ারির। এইদিনের ঘটনা স্বীকার করে দক্ষিণ সুরমা ফাঁড়ির ইনচার্জ বেনু দেব জানান, তাৎক্ষণিকভাবেই আসামী এবং অবৈধ ট্রাক ধরার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তবে আহত সংবাদকর্মীর সাথে ঘটনার দিন তিনি কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন।

পলিথিনবাহী বোঝাই ট্রাক আটকের সংবাদ শুনেছেন, এমন তথ্য জানিয়ে এসএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা জানান, বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন মহলে অবগত করেছি।

তিনি সাংবাদিক রক্তাক্তের ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে বলেন, এমন ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তবে, অপরাধীকে যথাযথভাবে আইনী প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এদিকে আলী হোসেনের নকল মেমো জর্দায় এখন সয়লাভ সিলেট। বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকা ‘মমো’ জর্দাকে নকল করে ‘মেমো’ নাম দিয়ে বাজারে বিক্রী করছেন তিনি। এই নকল জর্দায় ক্ষতিকর ক‌্যামিকেল থাকায় অনেকেই এই জর্দা খেয়ে শারীরিক অসুস্থতার সম্মুখীন হয়েছেন।

এবিষয়ে মুঠোফোনে আলী হোসেন'র সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ই-মি

সিলেট,কোটিপতি,মামলা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত