Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

ফের কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশ:  ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩৯
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

ফের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে। বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামাদি সরবরাহের টাকা আত্মসাৎ করে শিক্ষকদের উপজেলা সদর থেকে তা গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।

জানা যায়, শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সারাদেশে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়। এরমধ্যে কুলাউড়া উপজেলায় ২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১০টি মাদরাসা ও ৬টি মাধ্যমিক স্কুল এন্ড কলেজে এই সরঞ্জামাদি সরবারহ করা হয়। বরাদ্ধকৃত সরঞ্জামের মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞানের ১৬টি, গণিতের ২টি, জীব বিজ্ঞানের ৪৩টি ও রসায়নের ৫৬টি সরঞ্জামাদি রয়েছে।

অবশ্য এই বরাদ্দ নিয়েও অনেক বিতর্ক রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে ও মাদরাসায় অনেক প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যেগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগের কোন অস্তিত্বই নেই। বিশেষ করে মাদরাসায়। সেসব প্রতিষ্ঠানে আদৌ বিজ্ঞান বিভাগ খোলা হবে কি না তারও কোন নিশ্চয়তা নেই।

বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামগুলো সরকারি খরচে বিদ্যালয় পর্যন্ত সরবরাহকৃত প্রতিষ্ঠান পৌঁছে দেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র গ্রহণ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সেই সব সরঞ্জাম উপজেলা থেকে গ্রহণ করার জন্য শিক্ষকদের টেলিফোনে জানান। বিষয়টি জানতে পেরে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের প্রধান কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে গ্রহণ করেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, উপজেলা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত পৌঁছানো বাবদ পরিবহণ খরচের পুরোটাই আত্মসাৎ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে বছর শেষে সরকারি বই বিদ্যালয় পর্যন্ত না পৌঁছিয়ে পরিবহণ খরচ আত্মসাৎ করেন।

একাধিক শিক্ষক জানান, বিজ্ঞানের সরঞ্জামগুলো বিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও তাকে কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে সরঞ্জামগুলো নেয়ার জন্য বলা হয়। তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে সেগুলো গ্রহণ করেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি সভাপতি মো. আব্দুল কাদির জানান, সরঞ্জাম ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান প্রতিটি বিদ্যালয়ে সেগুলো পৌঁছে দেয়ার কথা কিন্তু তারা উপজেলায় রেখে চলে যায়। সরঞ্জামগুলো মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে রেখের যাওয়ার কিংবা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস তা গ্রহণ করার কোন বিধান নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনোয়ার জানান, সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাদেরকে সহায়তার অনুরোধ করে। আমি একাডেমিক সুপারভাইজার সফিকুল ইসলামকে সরঞ্জামগুলো গ্রহণের জন্য বলেছি। কয়েক ধরণের সরঞ্জাম হওয়ায় আসলে প্রতিটি স্কুলে স্কুলে তা পৌঁছানোও কঠিন। পরিবহন খরচ সংশ্লিষ্ট কোম্পানী পরিশোধ করলে, তা প্রত্যেক প্রতিষ্টানে পৌঁছে দেয়া হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সাল ও চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক দিবসে সরকার কর্তৃক উপজেলার ৩৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়। বইগুলো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত বহন বাবদ প্রত্যেক বছর একটি বরাদ্দ আসে। কিন্তু উপজেলার সব কয়টি মাধ্যমিক স্কুল সেই বরাদ্দ থেকে একটি টাকাও এখনো পাননি। সব টাকা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনোয়ার নিজে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ছুড়েন মাধ্যমিক প্রধান শিক্ষকগণ।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনোয়ার ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কুলাউড়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৮ বছর থেকে সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করেই তিনি স্বীয় পদে কুলাউড়ায় কর্মরত রয়েছেন। সপ্তাহে অফিস করেন দুই থেকে তিনদিন। চাকরি করেন কুলাউড়ায় আর বসবাস করেন মৌলভীবাজারে। প্রতি সপ্তাহে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আসেন। কিন্তু অফিসে এসে দেখতে পান শিক্ষা অফিসারের চেয়ার আছে, অফিসার নেই। এভাবে দীর্ঘদিন থেকে কাজের সুবিধা নিতে আসা বিভিন্ন শিক্ষকদের নানা ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এ নিয়ে কুলাউড়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষকরা তার এমন কর্মকান্ডে নানা প্রশ্ন তুলেছেন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/পিআই

অর্থ আত্মসাত,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস,কুলাউড়া
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত