• সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬
  • ||

মাল্টা চাষে সরফরাজ খাঁন এখন দৃষ্টান্ত 

প্রকাশ:  ০২ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৫৩
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর রাণীনগরে বিদেশি ফল মাল্টা চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কৃষক সরফরাজ খাঁন।

বর্তমানে সরফরাজ খাঁনের মাল্টার বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীরা নতুন করে মাল্টার বাগান করার পরামর্শ নিচ্ছেন কৃষক সরফরাজের কাছে।

বর্তমানে এই উপজেলায় ধানের পাশাপাশি অধিক লাভজনক মাল্টা চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই উপজেলা এখন মাল্টা চাষের উপজেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। উপজেলার কৃষকরা ধানে লাগাতার লোকসান দেওয়ায় খুঁজছেন লাভজনক ফসল। আর অল্প সময়েই সেই অধিক লাভজনক ফসল হিসেবে কৃষকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে বিদেশি ফল মাল্টা। তাই উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই মাল্টা চাষের পরিসর। দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভালো জাতের মাল্টা গাছের চারা রোপণ করতে পারলে এবং নিবিড় পরিচর্যায় মাল্টার ফলন ভালো হয়। এই অঞ্চলে উৎপাদিত মাল্টার স্বাদ ও গুনগত মানও খুবই ভালো।

উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের মাল্টা চাষী সরফরাজ খাঁন বলেন, তিনি ১৫শতাংশ পতিত জমিতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দু’বছর আগে বিনামূল্যে তাদের সরবরাহকৃত ভার্মিক পদ্ধতিতে বারি-১ জাতের মাল্টা চারা নিয়ে তৈরি করেন মাল্টা বাগান। বর্তমানে তার বাগানের প্রতিটি মাল্টা গাছে থোকায় থোকায় সবুজ মাল্টা ঝুলছে। গাছ লাগানোর ১৮ মাস পরই গাছে মাল্টা ধরতে শুরু করেছে। স্বাদে ও গুনে বিদেশি মাল্টার মতই।

তিনি আরও বলেন, বাজারে স্বদেশি মাল্টার চাহিদা বেশি থাকায় বর্তমানে তিনি প্রতি কেজি মাল্টা ৭০-৮০টাকা দরে কেজিতে বিক্রি করছেন। চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছে প্রায় ১০ কেজি করে মাল্টা ফল এসেছে। আগামি বছরে প্রতিটি গাছে ৭০-৮০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। তিনি আগামিতে এই বাগানের পরিসর আরও বৃদ্ধি করবেন। প্রতিদিনই তার মাল্টার বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। তারাও এই রকম বাগান তৈরি করার আশা প্রকাশ করছেন। আমিও দর্শনার্থীদের বাগান তৈরি করার সকল পরামর্শ দিয়ে আসছি। প্রথম বছরেই তিনি মাল্টা চাষে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন বলে জানান।

সরফরাজ খাঁনের মাল্টা বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম, জব্বার মিয়াসহ অনেকেই বলেন, মাল্টা চাষে সরফরাজ খাঁন একজন মডেল। তার বাগানে গাছে মাল্টা ফল দেখে মন ভরে গেছে। তিনি দেখিয়ে দিলেন বিদেশি ফলও আমাদের এলাকায় চাষ করা সম্ভব। এটি নাকি অনেক লাভজনক একটি ফসল। তাই আমরাও আগামিতে মাল্টার বাগান তৈরি করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শহীদুল ইসলাম বলেন, এই উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য খুবই পজেটিভ। মাল্টা পুষ্টিকর ও রসালো একটি ফল। বাজারে মাল্টার চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভাল রয়েছে। তাই মাল্টা চাষীরা দাম ভালো পেয়ে অনেক খুশি। ধানে লোকসান হওয়ার কারণে এলাকার মানুষরা দিন দিন অধিক লাভজনক ফসল মাল্টা চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। যারা এই ধরণের বাগান তৈরি করবেন তাদের জন্য আমাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য সব সময় আমার অফিসের দুয়ার খোলা আছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/আরএইচ

নওগাঁ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close