• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

রাণীনগরে বন্ধ হচ্ছে না বাল্যবিবাহ

প্রকাশ:  ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৩০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর রাণীনগরে কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না বাল্যবিবাহ। দিন যত যাচ্ছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে এ সংখ্যা। এর কারণ হিসেবে অনেকেই প্রশাসনের নজরদারীকে দায়ি করছেন। আবার ভ্রাম্যমাণ আদালতে কঠোর শাস্তি না দেওয়ার বিষয়টিকে দোষারোপ করছেন সচেতন মহল।

জানা গেছে, উপজেলার বাল্যবিবাহ খ্যাত এলাকা হিসেবে পরিচিত কালিগ্রাম ইউনিয়নের মধূপুর, ছাতারদীঘি, ছাতাপুকুর, অলংকারদীঘি, ভেটিগ্রাম ও পারইল ইউনিয়নের পারইল, বিশিয়াসহ এর আশেপাশের গ্রামগুলো। প্রতি সপ্তাহে এই এলাকার গ্রামগুলোতে বাল্যবিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছেই।

সম্পর্কিত খবর

    সম্প্রতি ছাতারদীঘি, ছাতারপুকুর ও মধুপুর গ্রামে ৪টি বাল্যবিবাহ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যে সব ঘটনা প্রশাসন জানতে পারে সেগুলোতে গিয়ে বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করে এনে অর্থ জরিমানা না হয় জেল প্রদান করে। কিন্তু এই রকমের শাস্তি অভিযুক্তদের কাছে কিছুই নয়।

    সম্প্রতি একই দিনে ছাতারপুকুর ও ছাতারদিঘী গ্রামে বাল্যবিবাহ হচ্ছে খরব দিলে নির্বাহী কর্মকর্তা একটি বিয়ে থেকে কাজী ও মেয়ের দুই মামাকে এনে অর্থদণ্ড করে। পরদিনই ওই মেয়েকে পাশ্ববর্তী আদমদীঘি উপজেলাতে নিয়ে গিয়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে দেওয়া হয়।

    উপজেলার ছাতারপুকুর গ্রামের দুলালের জনৈক মেয়েটি ভেটি মাদরাসার ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপর বিয়েতে নির্বাহী কর্মকর্তা না গিয়ে দুইজন পুলিশ সদস্যকে পাঠালে তারা সেখান থেকে কিছু অর্থ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই চলে আসেন। এতে করে একই জায়গায় প্রশাসনের দ্বিমুখী ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই এলাকাগুলোতে কোনোভাবেই কমছে না বাল্যবিবাহ দেওয়ার ঘটনা।

    উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন শুধু বিয়ের সময়ই নয় বিয়ের পরও যদি বর ও কনের পক্ষকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলে অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়াও উপজেলার যে সব চিহ্নিত কাজীরা অর্থের লোভে নকল কাগজপত্র তৈরি করে বিয়ে সম্পাদন করে আসছে তাদেরকেও সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকেও বিয়ের ক্ষেত্রে সৎ মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে তবেই এই সমস্যা থেকে উত্তোরণ পাওয়া সম্ভব।

    এছাড়াও সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনকে বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা দরকার। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এই বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

    রাণীনগর সরকারি শের-এ বাংলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোফাখ্খার হোসেন খাঁন পথিক বলেন, যতই দিন যাচ্ছে উপজেলাতে বাল্যবিবাহ দেওয়ার ঘটনা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসেনর চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উদাসীনতায় এই ঘটনাগুলো বেশি বৃদ্ধি হচ্ছে। কারণ বিয়ে রেজিস্ট্রি করার সময় বয়স প্রমাণের জন্য অবশ্যই ইউনিয়ন পরিষদের সদনপত্র প্রয়োজন হয়। তারা কিভাবে একটি মেয়ের বিয়ের বয়স না হলেও জন্মসনদ প্রদান করে। এ ধরণের বিয়ে রোধ করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    এর পাশাপাশি প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে। শুধু অর্থদণ্ডই নয়, সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করতে হবে যেন আশেপাশের মানুষরা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সর্বোপরি প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার মানুষদের বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সচেতন ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে পজেটিভ ভূমিকা পালন করতে হবে।

    মধুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর বলেন চলতি বছরে তার বিদ্যালয় থেকে ১০ম শ্রেণির ১০জন, ৯ম শ্রেণির ৮জন, ৮ম শ্রেণির ৩জন ও ৭ম শ্রণির ৩জন মেয়ের বাল্যবিবাহ দেওয়া হয়েছে। যদি প্রশাসন সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে দীর্ঘমেয়াদী জেল দিয়ে দৃষ্টান্তর স্থাপন করেন তাহলে তা দেখে হয়তোবা অনেকেই সর্তক হবেন।

    এছাড়াও প্রবণ এলাকাগুলোতে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক ও শাস্তি সম্পর্কে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। যখই বিয়ের খবর পাই তখনই ছুটে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসছি। প্রশাসনের একার পক্ষে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। সমাজের সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তবে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

    পূর্বপশ্চিমবিডি/ই-মি

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

    সারাদেশ

    অনুসন্ধান করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close