Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

ভাতা কার্ড দেওয়ার নামে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশ:  ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩১
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

নওগাঁর আত্রাইয়ে বিশিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য বিউটি বেগম ও তার সহযোগী নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, পঙ্গু ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, মাতৃত্ব ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে লোক ঠকিয়ে অর্থ আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও সুবিধা ভোগীদের নিকট হতে পথের মাঝে গতিরোধ করে শারীরিক নির্যাতন ও টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা ইউএনও বরাবর আবেদন করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার বিশা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. বিউটি বেগম ও তার সহযোগী নাজমা বেগম সুপরিকল্পিতভাবে কৌশলে প্রায় শতাধিক পুরুষ ও মহিলাকে ঠকিয়ে অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, পঙ্গু ভাতা, স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতা, মাতৃত্ব ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সংরক্ষিত ইউপি সদস্য বিউটি বেগম ও তার সহযোগী নাজমা বেগম গ্রামের সহজ সরল ও নিরীহ লোকদের বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দিতে চেয়ে অফিস খরচ চাইলে ভুক্তভোগীরা কেহ এনজিও হতে ঋণ নিয়ে, কেহ গহনা বিক্রি করে, কেহ শেষ সম্বল বাড়ীর ভিটে বন্দক রেখে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত তাদের হাতে তুলে দেন। ভাতার কার্ড কবে হবে জানতে চাইলে হবে বলে কাল ক্ষেপন করে আরো অর্থ দাবি করায় নিরুপায় হয়ে প্রতিকার চেয়ে ইউএনও বরাবর আবেদন করেন তারা। তাদের আবেদনের ব্যাপারে জানতে পেরে বিভিন্ন সময় নানান রকম ভয়ভিতি দেখানোসহ প্রাণনাসের হুমকি দিচ্ছে বলে জানান তারা।

ভুক্তভোগী জোসনা বেগম জানান, বাড়ীর ভিটা বন্দক রেখে কার্ড করে নেওয়ার জন্য সাড়ে চার হাজার টাকা বিউটিকে দিয়েছি। আরো সাত হাজার টাকা পরে দিতে চেয়েছি। প্রায় আড়াই বছর হয়ে গেলো এখনো কার্ড হয়নি। কবে হবে জানতে চাইলে বলে বাকি সাত হাজার টাকা দেওয়ার পর খোজ নিয়েন।

ভুক্তভোগী চাম্পা জানান, কার্ড করে নেওয়ার জন্য আমার শেষ সম্বল বলতে দুই কানের দুল বানিয়েছিলাম সেটা বিক্রি করে পাঁচ হাজার আর জামাইয়ের কাছে থেকে তিন হাজার টাকা ধার নিয়ে মোট আট হাজার টাকা বিউটির হাতে তুলে দিই দুই বছর আগে। কবে কার্ড পাব জানতে চাইলে আমাক শিখায়ে দেয় টাকা আপনার গ্রামের মেম্বারেক দিছেন বলা লাগবে। আমিতো টাকা তোমাক দিয়েছি আমারে গ্রামের মেম্বারেক দিইনি বললে বলে যান আপনার কার্ড হবে না।

জানার জন্য বিউটি বেগম ও নাজমা বেগমের বাড়ীতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টেরপেয়ে বাড়ীতে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দেয়। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে বিউটি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। নাজমার মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ও সমাজসেবা অফিসার মো. আরিফ হোসেন জানান, কার্ড করতে কোন প্রকার খরচ লাগে না। আমাদের নাম ভাঙ্গিয়ে কেহ যদি অর্থনৈতিক ফায়দা লুটে তার দায় শুধু তাদের।

বিশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। কেহ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছানাউল ইসলাম বলেন, বিউটির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসএইচ

নওগাঁ,ভাতা কার্ড দেওয়ার নামে
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত