Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

‘আসামিরা পরিকল্পিতভাবে নুসরাতকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে’

প্রকাশ:  ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:১৬ | আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৪
ফেনী প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon
ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান হত্যা মামলার সাক্ষ্য ও জেরা কার্যক্রম শেষে বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্র পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন সরকারী কৌঁসুলী হাফেজ আহম্মদ। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, আসামীরা মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে ৬ এপ্রিল পরিকল্পিত ভাবে নুসরাতকে ডেকে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে মারা যায়।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে বুধবার মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রথম দিন সরকারী কৌসুলী হাফেজ আহম্মদ তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাঁর অসমাপ্ত বক্তব্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

আদালতে তিনি বলেন, ৬ এপ্রিল সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নুসরাত পরীক্ষার হলে যায়। তাঁর বান্ধবী নিশাত সুলতানাকে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে মারধর করা হচ্ছে বলে উম্মে সুলতানা পপি ওরফে চম্পা তাঁকে ডেকে নিয়ে যায়। ছাদে বোরকা পরা চারজন অবস্থান করছিলেন। তারা হলেন- শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের আহম্মদ, জাবেদ হোসেন ও কামরুন নাহার মনি। তাঁরা মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নুসরাতের মায়ের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। নুসরাত রাজী না হলে তাঁকে ছাদের ওপর শুয়ে ফেলা হয় এবং ওড়না ছিঁড়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তাঁরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

পিপি বলেন, ঘটনা শুরু হয় ২৭ মার্চ। ওই দিন মাদরাসার পিয়ন নুরুল আমিনকে দিয়ে অধ্যক্ষ নুসরাতকে তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দেয়, জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানী করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

সরকারী কৌঁসুলী বলেন, ২৮ অক্টোবর অধ্যক্ষ সিরাজের পক্ষে ও বিপক্ষে সোনাগাজীতে মানববন্ধন করা হয়। অধ্যক্ষের পক্ষে মাকসুদ আলম কাউন্সিলার, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের, শিক্ষক আফছার উদ্দিন, মহি উদ্দিন শাকিল, জাবেদ, পপি, মনি, রানা, মো. শামীম সক্রীয় ভাবে মানববন্ধনে অংশগ্রহন করে এবং শিক্ষার্থীদেরকে জোর করে মানববন্ধনে যেতে বাধ্য করা হয়।

তিনি আদালতে বলেন, আসামীদের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেই দেখা যায়, ১ এপ্রিল ও নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, ইমরান হোসেন রানা, হাফেজ আবদুল কাদের, বিবি জোহরা এবং ৩ এপ্রিল মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন, শাহাদাত হোসেন শামীম, নুর উদ্দিন, রানা, জাবেদসহ কয়েকজন কারাগারে অধ্যক্ষের সাথে দেখা করেন। ওইদিন শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুর উদ্দিনের সাথে অধ্যক্ষ একান্ত ভাবে কথা বলেন। ওই সময় অধ্যক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দিতে বলেন। যদি রাজী না হয়- প্রয়োজনে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে বলা হয়। ৪ এপ্রিল মাদরাসার হোষ্টেলে একাধিক সভা করা হয়। শাহাদাত হোসেন শামীম কেরোসিন করবে, কামরুন নাহার মনি বোরকা নিয়ে আসবে এবং কারা ছাদে থাকবে, কারা সাইক্লোন শেল্টারের নীচে থাকবে এবং কারা মাদরাসার গেইটে থাকবে সব দায়িত্ব ঠিক করা হয়। ওই বৈঠকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা মুক্তি পরিষদ গঠন করা হয়।

এতে নুর উদ্দিনকে আহবায়ক, শাহাদাত হোসেন শামীম যুগ্ম আহবায়ক ও মহি উদ্দিন শাকিলকে সদস্য সচিব করা হয়। বৈঠকে জাবেদ জোবায়ের, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা,আবদুর রহিম শরীফ, মো. শামীমসহ অনেকেই ছিলেন। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে আট জনের নাম উল্লেখ সোনাগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যায়। ১০ এপ্রিল মামলাটি পুলিশ হেড কোয়াটারের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়। এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম তদন্ত শেষে ২৯ মে ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ৫ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রভূক্ত ১৬ আসামীর মধ্যে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১২জন ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

ফেনী,সোনাগাজী,মাদরাসা ছাত্রী,হত্যা মামলা,আদালত
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত