Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অপরাধে ছাত্রলীগ নেতাকে গণধোলাই

প্রকাশ:  ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৫৯ | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:১০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুমন (২৩) কে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসী তাকে এ গণধোলাই দেন তারা।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাত্রলীগ নেতা এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বোনকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় এক সপ্তাহ আগে ছাত্রলীগ নেতা সুমন ও তার সহযোগীরা ছাত্রীর ভাই শওকত খানকে উপজেলা সদরে প্রহার করেছিলেন। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে গ্রামবাসীরা উত্ত্যক্তকারী ছাত্রলীগ নেতাকে উত্তম-মধ্যম দেওয়া হয়। এ নিয়ে মাধবপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে পাল্টা হামলার আশঙ্কায় রয়েছেন গ্রামবাসীরা।

স্কুলছাত্রীর ভাই শওকত খান অভিযোগ করে বলেন, তার বোন কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সে স্কুলে আসা ও যাওয়ার পথে কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুমন মিয়া ও তার সহযোগিরা উত্ত্যক্ত করে। এজন্য তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। ফলে গত সপ্তাহে উপজেলা সদরের আতিক মেকানিকের দোকানের সামনে পেয়ে সুমন ও তার সহযোগী মঈন উদ্দীন তাকে প্রহার করেছিল। এ কারণে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বনগাঁও গ্রামে সুমনকে ডেকে গ্রামবাসীরা তাকে (শওকতকে) প্রহার সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় সুমন গ্রামবাসীর সাথে উচ্চ বাক্য বিনিময় করলে গ্রামবাসীরা তাকে গণধোলাই দেন। জবাবে ঘণ্টাখানেক পর সুমনের সহযোগীরা স্কুলছাত্রীর দুই আত্মীয়কে প্রহার করে। সাথে সাথে হুমকি দিয়ে গেছে শক্তহাতে আবারও তারা হামলা চালাবে।

স্কুলছাত্রীর ভাই আরও বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিবের সমর্থক বলে সুমনের বিরুদ্ধে কেউ কোনও কথা বলতে পারে না।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পূর্বে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সুমনের নেতৃত্বে মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বোরহান মিয়ার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাঠ করেছিল। পরবর্তীতে সামাজিক বিচারের ১৫ হাজার টাকা জরিমানাও দিয়েছিলেন এ ছাত্রলীগ নেতা।

তাছাড়া সম্প্রতি সুমনের যোগ সাজেসে তার এক সহযোগী একই গ্রামের হাবিব মিয়া মুঠোফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে সিলেটের কানাইঘাট এলাকার এক মেয়েকে কমলগঞ্জে নিয়ে আসার পর থানায় আটকা পড়েছিল। পরে বিষয়টি সামাজিক সমাধানে মেয়ের স্বজনরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সুমন সব অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, আমার উপর কোনও কারণ ছাড়াই হামলা করা হয়েছে। আমার সাথে শওকতের নির্বাচন নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিব মুঠোফোনে জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে শওকতের নেতৃত্বে গ্রামের কিছু লোক সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করেছে। তাছাড়া সুমনের উপর অন্যান্য অভিযোগ সঠিক নয় বলেও ছাত্রলীগ সম্পাদক জানান।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, সকালে মাধবপুরে একটি ঘটনা ঘটেছে শুনেছেন। এ ঘটনায় সুমন একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা তদন্ত করে দেখছি।

এ প্রসঙ্গে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বলেন, এমন কর্মকান্ডে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়। এসবের সাথে জড়িত থাকলে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত