Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

রক্তে ভিজে চুপসে গেছে ‘জিঞ্জির দিয়ে শরীরে আঘাত’

প্রকাশ:  ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:২৮
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে আর নিজ শরীর রক্তাক্ত করে কুলাউড়ার পৃথিমপাশার শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানরা পালন করলো ১০ মহরম পবিত্র আশুরা।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ আড়াইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পালন করে আসা মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের নবাব বাড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়েছে। তবে অনান্য বছরের তাজিয়া মিছিলে হাতির বহর থাকলেও এবার প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ১টি মাত্র হাতি ছিলো।

অপরদিকে আজ ১০ মহরম বেলা সাড়ে ৩টায় পৃথিমপাশা নবাব বাড়ির হোসেনি দালান থেকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে বের হয় সু-সজ্জিত তাজিয়া মিছিল। শিয়া সম্প্রদায়ের কয়েক’শ পুরুষ যুদ্ধের নানা অনুসঙ্গ, তাজিয়া, কালো, লাল ও সবুজ নিশান উড়িয়ে মিছিলে অংশ নেয়। পা নগ্ন রেখে মিছিলে অশংগ্রহণকারীরা শোকের প্রতীক কালো পোষাক পরিধান করে।

কারবালার নির্মম হত্যাকাণ্ড ও ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) শাহাদৎ বরণের শোকে কাতর হয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানরা ধারালো ছোরাগুচ্ছ রশিতে বেধে নিজের শরীরেকে অবলীলায় রক্তাক্ত করে। ফলে বুক ও পিঠ থেকে ঝরছে রক্ত।

কারও কারও কালো জামা রক্তে ভিজে চুপসে গেছে আর সাদা জামা হয়ে ওঠে রক্তে লালে-লাল। তবুও ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হচ্ছে আকাশ-বাতাস। তাজিয়া মিছিলে বুক চাপড়ে, জিঞ্জির দিয়ে শরীরে আঘাত করে প্রকাশ করা হয় মাতম।

১০ মহরম বেলা ৩টায় পৃথিমপাশা নবাব বাড়ির হোসেনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিলসহ ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা নিজের শরীর রক্তাক্ত করে মিছিলটি রবিরবাজার পদ্মাদিঘির পারের দিকে এগোতে থাকে। সেই মিছিলের সাথে যোগ দেয় তরফি সাহেব বাড়ির আলম মিছিল। উভয় মিছিল একত্রি হয়ে রবিরবাজার পদ্মদিঘির পারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মহরমের সেই বিষাদময় দিনে ইমাম হোসেনের করুণ মৃত্যুর প্রতিবাদে হায় হোসেন হায় হোসেন মাতম করে আবারও নিজের শরীর রক্তাক্ত করে কারবালার শোকে শোক পালন করেন।

এতে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে বেষ্টিত ছিল পৃথিমপাশার নবাব বাড়ি। কুলাউড়ার থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা জোরদার করে সর্বত্র। অনুষ্ঠানে কয়েক লক্ষ মানুষের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে ঐতিহ্যবাহি নবাব বাড়ি। স্পর্শকাতর জায়গায় মোতায়েন করা হয় একাদিক থানার পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও গ্রাম পুলিশ। সাদা পোষাকে ছিলো জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা। সব রকমের অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো নবাব বাড়ি জুড়েই তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মিছিলে অংশ নিয়ে ধারালো ছোরাগুচ্ছ দিয়ে নিজ মাথা রক্তাক্ত করেন মৌলভীবাজর-২ আসন থেকে তিন বারের নির্বাচিত সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য এবং উক্ত অনুষ্ঠানের মোতাওয়াল্লী এড. নওয়াব আলী আব্বাছ খান। কথা হয় উনার সাথে। তিনি বলেন, আজকের এই দিনটির জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। সেই ১৩ বছর ধরে ধারালো ফলক দিয়ে পিঠে আঘাত করে আসছি।

তাজিয়া মিছিলে অংশ নেওয়া জয়নাল হোসনে শাহীনের সাথে কথা হয়- আপনার মাথায় বেস রক্ত ঝরছে, এটা অনেক কষ্টের কাজ না! নবাব আলী সাজ্জাদ খান বলেন- ‘যিনি ইসলামের জন্য জীবন দিয়েছেন, তার জন্য রক্ত ঝরানো কোনো কষ্টের কাজ না। প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেই ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম করতে থাকেন তিনি। ধারালো ছোরাগুচ্ছের আঘাতের ফলে মাথার বিভিন্ন অংশ কেটে রক্ত বের হচ্ছে কিন্তু সেদিকে তার কোনো ভ্রক্ষেপ নেই।

অপরদিকে ১ মহরম থেকে ১০ মহরম পর্যন্ত নবাব বাড়িতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল জিগির আজগার, কোরআনে তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, কাঙ্গালী ভোজসহ নফল নামায ও রোজা।

কথিত আছে প্রায় ১ হাজার ৩৩২ বছর আগে আরবি মহরম মাসের ১০ তারিখ মহানবী হযরত মুহাম্মদের (সা.)এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তার ৭২ অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। সে দিন থেকেই দিনটি অত্যন্ত তাৎপযর্ম শোকাবহ, হৃদয়বিদারক হয়ে উঠে মুসলিম উম্মার জন্য এবং সত্য ন্যায় ও ইসলামের আদর্শকে উর্ধ্বে তুলে ধরার দিন ১০ মহরম। এ দিনের শোক স্মৃতিকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলমানরা দিনটিকে পবিত্র আশুরা হিসাবে পালন করে আসছে।

এদিকে শান্তিপূর্ণভাবে আশুরা পালিত হওয়ায় নবাব বাড়ির পক্ষ থেকে প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উক্ত অনুষ্ঠানের মোতাওয়াল্লী মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক এমপি নবাব আলী আব্বাছ খান ও পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবাব আলী বাকর খান।

পূর্বপশ্চিমবিডি/আরএইচ

মৌলভীবাজার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত