• সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬
  • ||

ছাত্রীনিবাসের সহকারী সুপারের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ:  ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:২৯
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের সহকারী সুপার ও বিএম কলেজ শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে হলের ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হলের দেড় শতাধিক ছাত্রী সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে হল চত্বরে বিক্ষোভ করে।

পরে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীদের সাথে আলোচনায় বসেন কলেজ অধ্যক্ষ ও শিক্ষক পরিষদের নেতারা। কিন্তু সেখানে বসেও শিক্ষক নেতা আব্দুর রহিম ছাত্রীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ছাত্রী নিবাসে। এসময় তারা শিক্ষক রহিমকে অপসারণের দাবি জানান।

জানা গেছে, মেয়েদের দিকে কুনজর, রাত ১১টার পর মেয়েদের রুমে প্রবেশ করা, রাতে টয়লেট থেকে মেয়েদের ডাকা, ছাত্রীদের সাথে আপত্তিকর কথা বলা, ছাত্রীদের সার্চ করার নামে আপত্তিকর স্থানে হাত দেওয়াসহ কলেজ অধ্যক্ষর সাথে বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের আবাসিক ছাত্রীরা ২১টি অভিযোগ করেন সহকারী হল সুপার ও শিক্ষক নেতা আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে। বিষয়টি হল সুপার আবু সাদেক মো: শাহ আলমকে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি বিষয়টিতে কর্ণপাত করেনি। এরপরেই কলেজ অধ্যক্ষের কাছে শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ২১টি অভিযোগ তুলে ধরে এর সমাধানের জন্য ছাত্রীনিবাসের আবাসিক ছাত্রীরা দরখাস্ত করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে কলেজ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদার, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলামিন সরোয়ারসহ অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসেন। সেখানে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হওয়ার পর শিক্ষক আব্দুর রহিম উত্তেজিত হয়ে ছাত্রীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিলে ছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুনরায় কলেজ অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে জানিয়েছেন বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের বেশ কয়েকজন ছাত্রী।

ছাত্রীনিবাসের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার হলের এক ছাত্রীর রুমে প্রবেশ করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা চালায় সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিম। এরপরে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামা চাপা দিতে মীমাংসা বৈঠকে সোমবার রাতে ছাত্রীনিবাসে বসেন। সেখানে বসেও কলেজের শিক্ষকরা এই বিষয় কাউকে না বলার জন্য ছাত্রীদের জানান।

এই বিষয়ে জানতে সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিমকে কল করা হলে তিনি জানান, ছাত্রীরা রুমে রুমে হিটার ব্যবহার করতো। যারা রুমে রুমে রান্না করতো তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এই অভিযোগগুলো করছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কলেজ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদারকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/পিএস

বরিশাল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close