Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

৫৪ বছর সচল হচ্ছে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ট্রেন চলাচল

প্রকাশ:  ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩১
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

নীলফামারীর সীমান্ত এলাকা চিলাহাটি থেকে আবারও রেল যোগাযোগ সচল হচ্ছে ভারতের হলদিবাড়ির সাথে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অংশে পরিত্যক্ত আট কিলোমিটার রেলপথে লাইন বসানোর উপযোগী করতে কাজ শুরু হয়েছে।

এর ফলে বাংলাদেশ-ভারত রেলপথের এই রুটটি ৫৪ বছর ধরে বন্ধ থাকার পর আবারো রেল সেবার সুফল পাবেন নীলফামারীর মানুষ।

সুত্র জানায়, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতার আগে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি দিয়ে সরাসরি কলকাতায় যোগাযোগ ছিল। দার্জিলিং মেইল নামে ট্রেনটি এই পথ দিয়ে দর্শনা হয়ে চলাচল করতো। দেশ ভাগের পর চিলাহাটি থেকে একটি মাত্র ট্রেন (পাসপোর্ট ট্রেন) হলদিবাড়ি হয়ে জলপাইগুড়ি হয়ে কলকাতা যাতায়াত করতো। ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর একমাত্র ট্রেনটিরও চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়ার পর আর সচল হয়ে উঠেনি।

ইংল্যান্ডের রোনাল্ড ম্যাক ডোনাল স্টিভেনশন নামে একজন সিভিল প্রকৌশলী চিলাহাটি-হলদীবাড়ি রেলপথ নির্মাণে বিশেষ ভুমিকা পালন করেন। এ পথের গুরুত্ব ছিলো অনেক বেশি এবং চিলাহাটি ছিলো গুরুত্বপুর্ন একটি জায়গা।

রেলবিভাগ সুত্র জানায়, চিলাহাটি থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশে আট দশমিক দশ(৮.১০) কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন, ব্রীজ নির্মাণ এবং চিলাহাটি রেলস্টেশনের আধুনিকায়নে ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয় ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে(একনেক)। যা অনুমোদন দেন একনেক সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্প অনুমোদনের পর রেললাইন স্থাপনের কাজ করছে ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত রেললাইনের উপর অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে স্থাপন কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ চালু করণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে উদ্যোগে নেয়া হয়।

২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের সময় পরিত্যক্ত রেলপথটি সচলের উদ্যোগ নেয়া হয় দুই সরকারের তরফ থেকে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ অংশে এবং ২০১৭ সালের শুরুর দিকে ভারত অংশের জরিপ কাজ সম্পন্ন করা হয়।

রলওয়ে সুত্র বলছে, রাজশাহী থেকে সরাসরি ব্রডগেজ রেলপথ চালু রয়েছে নীলফামারী চিলাহাটি স্টেশন পর্যন্ত। নতুন কাজ সম্পন্ন হলে ভারতের হলদিবাড়ি হয়ে জলপাইগুড়ি, নিউ জলপাইগুড়ি এবং শিলিগুড়ি লাইনে ফের সরাসরি ট্রেন চলাচল করবে।

এখন ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচল করে কলকাতা-গেদে-দর্শনা-হার্ডিঞ্জ ব্রীজ হয়ে। হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেল পথ চালু হলে হার্ডিঞ্জ ব্রীজ হয়ে ফের অতিতের পথে শিলিগুড়ি-কলকাতা রেল চলাচল শুরু হবে। সাথে ঢাকা নিউ জলপাইগুড়ি(শিলিগুড়ি) ট্রেন চলাচল করবে সরাসরি।

রেলপথ স্থাপন শেষ হলে প্রথম ধাপে চলাচল করবে পণ্যবাহী রেল। দ্বিতীয় ধাপে যাত্রীবাহী ট্রেন। যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে ঢাকা হতে নিউ জলপাইগুড়ি(শিলিগুড়ি) ও নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বাংলাদেশের দর্শনা সীমান্ত হয়ে কলকাতার শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেন চালানো হবে। চিলাহাটির ব্যবসায়ী রুবাইয়াত হোসেন বলেন, এই রুটে মালবাহী ট্রেন চালু হলে উপকৃত হবেন ব্যবসায়ীরা। এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। ঘটবে দুই বাংলার মেলবন্ধন।

চিলাহাটি স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আবু মুসা মাহমুদুল হক বলেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষিত চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ট্রেন চলাচলের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে আমাদের। রেল চলাচল শুরু হলে এই অ লের মানুষরা সরাসরি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেতে পারবে খবু সহজে। এই অ লের অনেক মানুষ চিকিৎসার জন্য কিংবা ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন স্থল বন্দর হয়ে ভারতে প্রবেশ করে থাকেন। ট্রেন চলাচলের পর স্থলবন্দরটি চালু হয়ে গেলে সহজেই ভারতে যেতে পারবেন তারা।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়নের প্রসার করবে। তিনি বলেন, রেলপথ চালু করণের ফলে পরিত্যক্ত রেলের জায়গায় ৭৮টি পরিবার বসবাস করতো। তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব পরিবার অতিদরিদ্র। তাদের পুর্ণবাসনের জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মারুফ জামান কোয়েল বলেন, নীলফামারীবাসীর জন্য এটি খুশির খবর। ৫৪ বছর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টার ফলে এটি সচল হচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটবে রেল চালু হওয়ার ফলে। বিশেষ করে স্থল বন্দরটি চালু হলে এই অ লে শিল্পায়নের সম্প্রসারণ ঘটবে। সৈয়দপুর বিমান বন্দর, উত্তরা ইপিজেড সমৃদ্ধ আরো। গড়ে উঠবে শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং কর্মসংস্থান তৈরি হবে অনেক মানুষের। সেভেন সিস্টার খ্যাত অ লগুলোর সাথে যোগাযোগ সৃমদ্ধ হবে নীলফামারীর সাথে।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তি জানান, হলদিবাড়িতে শুল্ক স্টেশন চালু হলে চিলাহাটি স্থলবন্দরের কাজ দ্রুত শুরু হবে। কারণ চিলাহাটিতে স্থলবন্দরের জন্য যা প্রয়োজন তার অনেকটাই রয়েছে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ট্রেন যোগাযোগ পূণঃস্থাপনের জন্য গৃহিত প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে বাংলাদেশ অংশের রেলপথে।

দ্রুত যাতে স্থলবন্দরটি চালু করা যায় সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রনালয়ের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং দ্রুতই আলোর মুখ দেখতে পারেন জেলাবাসী।

পূর্বপশ্চিমবিডি/আরএইচ

নীলফামারী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত