• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

রোহিঙ্গাকন্যার কান ফোঁড়ানোর রাজকীয় অনুষ্ঠান, ১ কেজি সোনা ও ৪৫ লাখ টাকা উপহার!

প্রকাশ:  ৩১ আগস্ট ২০১৯, ১৫:৩২ | আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৯, ১৫:৪৫
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদের কিশোরী কন্যার কান ফোঁড়ানোর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে এক কেজি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৫ লাখ টাকা পেয়েছে।শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনা সত্য।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ শুক্রবার রাতে জানান, এ ঘটনার পর কয়েক দফা অভিযান চালানো হয় রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদকে ধরতে। কিন্তু তিনি তাঁর বাহিনী নিয়ে টেকনাফের গহিন পাহাড়ে লুকিয়ে আছেন। ফলে ধরা যায়নি।

ওসি বলেন, সেখানে অতিথিদের কেউ এনেছে স্বর্ণালংকার, কেউ এনেছে রুপা। অনেকে নগদ টাকা, এমনকি ছাগল নিয়েও এসেছে। এ রকম উপহারসামগ্রী পাওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসীও জানে বলে তিনি জানান।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিন নুর মোহাম্মদ তাঁর কন্যার কান ফোঁড়ানোর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। গরু-ছাগল জবাই করে আয়োজন করা হয় ভোজ অনুষ্ঠানের। আমন্ত্রিতদের সবাই রোহিঙ্গা ডাকাত, সন্ত্রাসী এবং ইয়াবা কারবারি।

তিনি আরো জানান, ১৯৯২ সালে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জাদিমুরা এলাকায় প্রথমে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে সেখানে জমি কিনে ঘরবাড়ির মালিক হয়ে যান। এপারে আশ্রয় নেওয়ার পর ওপারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে সীমান্তে গড়ে তোলে বিশাল ডাকাত বাহিনী।

এই ডাকাত বাহিনী অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই, মানবপাচারসহ সীমান্তে ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়ে। আর দুই বছর আগে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা ঢলের পর নুর মোহাম্মদ ডাকাতের প্রতাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এলাকার পাঁচ-ছয়টি রোহিঙ্গা শিবির, টেকনাফের বিস্তৃত পাহাড়, সীমান্তের নাফনদ ও নাফনদের ওপারে রাখাইনের অভ্যন্তরে থাকা ইয়াবা কারখানা ও গবাদি পশুর বাজার নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা। এসব অপকর্ম করে বাহিনীর সদস্যরা কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়।

পূর্বপশ্চিমবিডি/পিএস

কক্সবাজার,রোহিঙ্গা,স্বর্ণ উপহার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close