• রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

ক্লাসে ঢুকে অর্ধশতাধিক ছাত্রের চুল কেটে দিলেন স্কুল সভাপতি

প্রকাশ:  ২৭ আগস্ট ২০১৯, ১৩:১৮
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সরিষাবাড়ি হাইস্কুলের অর্ধশতাধিক ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবাদুল হক। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৬ আগস্ট) ভুক্তভোগী ছাত্ররা ক্লাস বর্জন করে সভাপতির বিচার দাবি করেছে। সভাপতির এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও।

গতকাল এ নিয়ে সরিষাবাড়ী হাইস্কুলে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এবাদুল হক ক্ষমা চান। এ সময় তিনি নাপিতের কাছ থেকে সুন্দর করে ছাত্রদের চুল কেটে নেওয়ার খরচও বহন করার ঘোষণা দেন।

গত রোববার (২৫ আগস্ট) দুপুরে এবাদুল হক ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের চুল কাঁচি দিয়ে নিজের মতোন করে কেটে দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওলিউজ্জামান এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল হক বলেছেন, তারা ঘটনাটি শুনেছেন। তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, কয়েকজনের মাথার চুল বড় ছিলো । কিন্তু রোববার স্কুল পরিদর্শনে এসে এবাদুল হক বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে নিজে ছাত্রদের মাথার চুল কেটে দেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এবাদুল হক পাশের একটি সেলুন থেকে কাঁচি আনান। এরপর নিজেই শ্রেণিকক্ষে ঢুকে এবড়োথেবড়োভাবে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেন। এ ঘটনায় অনেক ছাত্র লজ্জায় সোমবার স্কুলে আসেনি। শিক্ষার্থীরা সভাপতির বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে না ফেরার ঘোষণা দিয়েছে।

সভাপতির এমন কাণ্ডে সোমবার অনেক অভিভাবক প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রতিবাদ জানান। তাদের মধ্যে অভিভাবক সালাম হোসেন ও তাহের আলী বলেন, গত সপ্তাহেই তারা তাদের ছেলেদের চুল কাটিয়েছেন। এরপরও এবাদুল হক তাদের চুল কেটে দিয়েছেন। এখন ছেলেরা লজ্জায় স্কুলে আসছে না। তারা আরও বলেন, ছেলেমেয়েরা কোনো অপরাধ করলে তারা অভিভাবকদের জানাতে পারতেন। কিন্তু সভাপতি নিজেই চুল কাটতে পারেন না। তারা সভাপতির বিচার চান।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফসার আলী সরদার বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় এ ঘটনায় স্কুলে জিওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে একটা বৈঠক করা হয়। বৈঠকে সভাপতি ঘটনার জন্য ভুল স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান হোসনে আরা বেগম বলেন, অভিযোগ পেয়ে তিনি স্কুলে যান। সেখানে সভাপতিও উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি সবার সামনে ঘটনার জন্য জন্য ক্ষমা চান। তিনি বাচ্চাদের নতুন করে চুল কেটে নেওয়ার খরচ বহন করতে চান।

এ ঘটনার বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল হক জানান, স্কুলছাত্রদের মাথার চুল কাটার ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু ক্লাস বর্জন বা অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সভাপতি বা শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের মাথার চুল কাটার অধিকার নেই। আমি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অভিযুক্ত এবাদুল হক উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রদের চুল কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সকালে তিনি বলেছিলেন, তিনি দুই মাস আগে সভাপতির দায়িত্বে এসেছেন। তিনি চান স্কুলের একটা নিয়ম থাকুক। তিনি সব সময় ছাত্রছাত্রীদের নিজের সন্তানের মতো দেখেন। তাই চুল ছোট করে দেওয়া হয়েছে। তবে গতকাল বৈঠকের পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পূর্বপশ্চিমবিডি/পিএস

রাজশাহী,স্কুল সভাপতি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close