Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

নূর হোসেনের বিপক্ষে আদালতে স্বাক্ষী দিতে আসেনি কেউ

প্রকাশ:  ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২০:১৫
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon
ফাইল ছবি

অস্ত্র ও চাদাঁবাজিসহ এগারোটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন। কিন্তু এসব মামলার স্বাক্ষীদের কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

সোমবার (১৮ আগস্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শেখ রাজিয়া সুলতানার আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ছিলো। অস্ত্র ও চাদাঁবাজিসহ এগারোটি মামলায় স্বাক্ষ্য গ্রহণের নির্ধারিত তারিখ থাকলেও কোনো মামলায় সাক্ষীরা কেউ না আসায় আদালত আগামি ১ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য্য করেন।

এর আগে পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে নিয়ে আসা হয়। হাজিরা শেষে নূর হোসেনকে পুনরায় কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

নূর হোসেনের মামলার আইনজীবী এ্যাডভোকেট খোকন সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ এগারোটি মামলার হাজিরা দিতে নূর হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। কিন্তু সাক্ষীরা আদালতে না আসায় তাকে আবার জেল হাজতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে ১ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহরণ করা হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আদালতের সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। অপহরণের তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল ও ১ মে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে সাতজনের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলাম ও এ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়।

নিহত নজরুলের শ্বশুর সেসময় অভিযোগ করেন, র‌্যাবের তিন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা ও মেজর আরিফ হোসেন ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে এ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

এরপর ২০১৪ সালের ১১ মে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, সদস্য মাহবুবুর রহমান ইসমাইল ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পালের রিট আবেদনে হাই কোর্ট তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়। নির্দেশের পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৫ মে পুলিশকে চিঠি দিয়ে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিওর (সিআরপিসি) অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলে। ওই দিন রাতেই মিলিটারি পুলিশের সহায়তায় ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবন থেকে তারেক সাঈদ ও মেজর আরিফ হোসেনকে গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ। পরদিন রাতে নৌ-বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা মাসুদ রানাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের কাছে তুলে দেয়।

পরে আইন শৃংখলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে পুরো ঘটনা। এ ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন। ঘটনার পর নূর হোসেন পালিয়ে ভারত গেলে ওই বছরের ১৪ জুন কলকাতার দমদম বিমানবন্দর সংলগ্ন বাগুইআটি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তাকে নূর হোসেনকে জেল হাজতে পাঠায়।

নূর হোসেনের মামলার আইনজীবী এ্যাডডভোকেট খোকন সাহা আরো জানান, সাত খুনের মামলায় গ্রেফতারের পর পর এই মামলাটি ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, সন্ত্রাসী ও চঁদাবাজির অভিযোগে বিভিন্নজনের পক্ষ থেকে একের পর এক আরো এগারোটি মামলা দায়ের করা হয়। প্রতিটি মামলায় নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে নির্ধারিত তারিখে হাজির করা হয়ে থাকে। মামলাগুলো বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।

এদিকে দেশব্যাপী আলোচিত সাত হত্যা মামলাটি তদন্ত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৫ জনকে আসামি করে ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী অভিযোগ গঠন করে আদালত। গত ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন আদালতে চা ল্যকর সাত খুনের মামলায় সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সাবেক তিন র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামিকে মৃত্যুদন্ড দেয়। দুই মামলায় ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি নয়জনকে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড।

দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করলে হাইকোর্ট নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রায়ে কাউন্সিলর নুর হোসেন এবং সাবেক র‌্যাব অধিনায়ক তারেক সাঈদসহ ১৫ জনের মৃত্যুদন্ডের আদেশ বহাল রাখেন। বাকি ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। এছাড়া ৯জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডের রায় হাইকোর্টেও বহাল রয়েছে। গত ১৯ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় আনা দুই মামলায় ১ হাজার ৫৬৪ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করা হয়। রায় প্রদানকারী বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম রায়ে স্বাক্ষর করেন। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর চলতি বছরের ৩ মার্চ মৃত্যুদন্ডাদেশ থেকে খালাস চেয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন দন্ডপ্রাপ্তরা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/আরএইচ

নারায়ণগঞ্জ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত