Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

পশ্চিমাঞ্চল রেলে দুর্ভোগ বাড়ছেই, ১০ ঘণ্টা বিলম্ব

প্রকাশ:  ১৮ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৫৩
রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রিন্ট icon

রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ধুমকেতু ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে। কিন্তু সেই ট্রেন ছেড়েছে রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টায়।

সরেজমিনে রাজশাহী স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ধুমকেতু ট্রেনটি সকালে প্ল্যাটফর্মে এলে ট্রেনে কয়েকশ যাত্রী হুড়মুড়িয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। ছোট-বড় ব্যাগ-বস্তা মালামাল নিয়ে নির্ঘুম যাত্রীদের চোখেমুখে রাজ্যের ক্লান্তির ছাপ। সারা রাত মশার কামড় ও গরমে নির্ঘুম রাত কেটেছে অনেকের।

অনেকেই রাতের ট্রেনে ঢাকায় ফিরে যারা সকালে অফিস বা ক্লাস ধরার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু শিডিউল বিপর্যয়ে বেস্তে গেছে সব পরিকল্পনা।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের স্মরণকালের ভয়াবহ সিডিউল বিপর্যয়ে এমনই ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

ঈদের আগে থেকে রেলপথে অচলাবস্থা চলছে। সেই অবস্থা ঈদের পরও কাটেনি, বরং বেড়েছে। ভয়াবহ সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে সকাল ৭টার সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়েছে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে, শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতের ধুমকেতু ছেড়েছে রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টায়। এর আগে শনিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের আন্তঃনগর ট্রেন পদ্মা এক্সপ্রেস ছেড়েছে রাত ১০টায়। প্রতিটি ট্রেনই প্রায় ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা বিলম্বে চলছে।

ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে যাচ্ছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ধুমকেতু এক্সপ্রেসের ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রেনটি পরদিন সকাল ৭টায় রাজশাহীতে এসে পৌঁছায়। দীর্ঘ আট ঘণ্টা স্টেশনে ভারী ব্যাগ নিয়ে রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই অপেক্ষা করতে হয়।

স্টেশনে ক্লান্ত যাত্রীরাপদ্মা এক্সপ্রেসে রওয়ানা দেওয়া এক যাত্রী জানান, পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহী থেকে শনিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি ছাড়ে রাত ১০টায়। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেনটি অতিরিক্ত সময় বিলম্ব করতে থাকে। অবশেষে ট্রেনটি রাজধানী কমলাপুরে পৌঁছায় ভোরে। তার পৌঁছানোর কথা ছিল গতকাল রাত ১০টায়।

যাত্রীদের অভিযোগ, প্রতিটি বগিতে ৬০-৬২ জন যাত্রীর সিট থাকলেও বগিতে অন্তত দেড় থেকে দুই শতাধিক যাত্রী উঠে পড়ছে। যাদের অধিকাংশেরই টিকিট ছিল না। এ ভিড়ের সুযোগে পকেটমার-মলমপার্টিও তৎপর ছিল। অনেকের মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন যাত্রীরা। এসময় কোনো রেলপুলিশ বা চেকারের সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি। আবার কোনো কোনো রেলপুলিশ, আনসার বা চেকারকে টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন অনেক যাত্রী। ট্রেনের ভেতরে দাঁড়াতে না পেরে ছাদে চড়েও অনেক যাত্রীকে কর্মস্থলে ফিরতে দেখা যায় রাজধানীতে।

রাজশাহী থেকে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার এএএম শাহ নেওয়াজ জানান, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়তে হচ্ছে প্রতিটি ট্রেন। ট্রেনের ভেতর যাত্রী উপচে পড়ছে। ছাদও ফাঁকা নেই। তাই গতির চেয়ে এখন যাত্রীদের নিরাপত্তার কথাই আগে ভাবতে হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেনের গতি কমিয়ে আনা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না আর নির্ধারিত সময়ে আসতেও পারছে না। তাই ভয়াবহ সিডিউল বিপর্যয় ঘটছে।

তিনি বলেন, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সিঙ্গেল লাইন যতদিন ডাবল না হবে ততদিন ট্রেনের সিডিউল ঠিক রাখা কঠিন। কেননা একই লাইনে একাধিক ট্রেন চলাচল করে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে একটি ট্রেন ধীরগতিতে চলে যাওয়ার পর অন্যটি সিগন্যাল পায়। এছাড়া রাজধানীতে ফেরার পথে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপে কোথাও কোথাও একেবারেই গতি কমিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। সে কারণে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় কাটছে না।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

রাজশাহী,ট্রেন,রেল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত