• রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়িয়েছে বিএসএফ

প্রকাশ:  ১৫ আগস্ট ২০১৯, ০২:০৬
বেনাপোল প্রতিনিধি

জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই উপত্যকায় উত্তেজনার পারদ ক্রমশ বাড়ছে। পাক উসকানি এবং অশান্তির আশঙ্কায় উপত্যকা জুড়ে নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।এরই মধ্যে ওই দেশের গোয়েন্দা সূত্রে খবর, স্বাধীনতা দিবসের আগে যেকোনো সময় ভারতে বড়সড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জঙ্গি সংগঠন জইশসহ পাকিস্তানের মদতপুষ্ট একাধিক জঙ্গি সংগঠন।

দেশের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে নিরাপত্তা আরো আঁটোসাঁটো করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিমান মন্ত্রণালয়ের অসামরিক বিমান পরিবহন সুরক্ষা ব্যুরো ‘দ্য ব্যুরো অব সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি’ (বিসিএএস)।

প্রতিটি রাজ্যের পুলিস-প্রশাসনকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের কেউ যেন অবৈধ পথে ভারতে প্রবেশ করে হামলা চালাতে না পারে সে লক্ষে সীমান্তসহ গোটা রাজ্যে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জঙ্গি হামলা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশংকায় পাক-ভারত সীমান্তের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ভারত সরকার।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সেই আশঙ্কা আগেই প্রকাশ করা হয়েছে। আর গোয়েন্দা সংস্থার সেই সতর্কবার্তা পাওয়ার পর পরই কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং সিআইডি রাজ্যের সর্বত্র নজর রাখতে শুরু করেছে। ১৫ আগস্ট যাতে কোনোভাবেই জঙ্গিরা হামলা চালাতে না পারে, তার জন্য আগে থেকে সতর্ক কলকাতা পুলিশ। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতো বটেই, বাংলাদেশ পেরিয়ে যাতে কোনো জঙ্গি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তি এ রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকেও কড়া নজর রেখেছেন গোয়েন্দারা।সতর্ক করা হয়েছে বিএসএফকেও।

রাজ্য ও কেন্দ্রের এমন নির্দেশ পেয়ে মঙ্গলবার থেকে ভারত-বাংলাদেশ পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকার বাসস্ট্যান্ড ও রেল স্টেশন এলাকার বাস ও ট্রেনে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ, জিআরপি ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী, বিএসএফ। জঙ্গি হামলার ভয়ে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আগে প্রতিবছরই ভারত সরকার সীমান্ত সিল করে থাকে। এবার পুলিশ, বিএসএফ, জিআরপি ও গুপ্তচর সংস্থা বেশ সক্রিয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণের সাতক্ষীরা থেকে শুরু করে পশ্চিমে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। একই সাথে পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলাদেশ সীমান্তের সংলগ্ন রাজ্যগুলোর সড়ক ও রেলপথসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সৈন্য ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সেই সাথে বিমান ও জলপথেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কলকাতাসহ আশেপাশের হোটেল ও আবাসিক এলাকাগুলোতেও চলছে কড়া নজরদারি।

ভারতগামী ও ভারত থেকে আগত বাংলাদেশি পাসপোর্টযাত্রীদের ব্যাগ নানাভাবে তল্লাশি করছে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর লোকজন। ভারতীয় পুলিশ বাজার, স্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড ছাড়াও জনবহুল এলাকায় কড়া নজরদারির আওতায় রেখেছে। ২৪ পরগণা জেলার যশোর, টাকি ও ৩৪ জাতীয় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। যেকোনো সীমান্ত দিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশ করে বোমা হামলা চালাতে পারে কেন্দ্রের এমন নির্দেশের আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা। এ কারণে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে দিল্লিসহ সকল রাজ্যে।

ভারতীয় পুলিশ সূত্রের খবর পুলিশ, গোয়েন্দাদের সঙ্গে জিআরপি ও বিএসএফ এবার অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে সাইকেল, অটোরিকশা, ট্যাক্সি, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও ট্রেন স্টেশনে যাতায়াতকারীদের ব্যাগ ও গাড়ি নানা কৌশলে তল্লাশি করছে। জিআরপি বোমা নিস্ক্রিয় যন্ত্র, কুকুর ও ধাতব তল্লাশি যন্ত্র নিয়ে স্টেশন চত্বর পরীক্ষা করছে। স্টেশনে ওঠার মুখে যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি চলছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ প্রতিটি থানা এলাকায় পুলিশের টহল জিপের সংখ্যা বাড়িয়ে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত ফোর্স এনে নজরদারিতে বসিয়েছে। সারারাত পুলিশের জিপ বিভিন্ন রাস্তায় টহল দিচ্ছে।

বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিরা অনুপ্রবেশ করতে না পারে এই আশঙ্কায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসএফ ও সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) বাহিনী। উত্তর ২৪ পরগণার নদী সীমান্ত এলাকায় জলযানে চেপে পাহারা দিচ্ছে বাহিনীর সদস্যরা। সন্ধ্যার পর ভারতীয় নাগরিকদের সীমান্ত এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সীমান্ত থেকে ভারতের অভ্যন্তরগামী সকল সড়কে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ক্রটি হয়েছে কিনা অথবা অবহেলা করা হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য সীমান্ত গোয়েন্দার নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীদের সন্ধার পর বিনা কারণে সীমান্ত এলাকায় ঘোরাফেরা না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে বিএসএফ। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত সীমান্ত এলাকায় জোরদার করা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

বেনাপোল চেকপোস্টে কথা হয় ভারত থেকে আসা নাহিদ পারভেজ, আলমগীর হোসেন, তাইজুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, জসিম উদ্দিন, এর সাথে তারা জানান, বুধবার দেশে ফেরার সময় সারা পথে তল্লাশি করেছে ভারতীয় পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন। ব্যাগ খুলে মালপত্র তল্লাশি করেছে। শিয়ালদহ রেলস্টেশনেও অনেক পুলিশ দেখেছি। ভারতের হরিদাসপুর সীমান্তে বিএসএফ টহল দিচ্ছে। পথে পথে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করছে তারা। অনেকের শরীরেও তল্লাশি করছে। হোটেলেও তল্লাশি চালিয়েছে গোয়েন্দার লোকজন। আমাদের পাসপোর্ট দেখে তারা কিছু বলেনি। তাই চলে এলাম নিজ ভূমিতে।

এ ব্যাপারে যশোর ৪৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সেলিম রেজা জানান, ভারতে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। বর্ডার আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। অবৈধভাবে কেউ যেন ভারতে যেতে না পারে এবং চামড়াসহ কোনো পণ্য পাচার হতে না পারে সে লক্ষে সীমান্তে বিজিবি সব সময় সতর্কাবস্থায় রয়েছে৷

পূর্বপশ্চিমবিডি/জি্এম

ভারতের স্বাধীনতা দিবস,বেনাপোল চেকপোস্টে,সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট,বিএসএফ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত