• শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

আখাউড়ায় ব্যাচ ৯৪ আনন্দ ভ্রমণ

প্রকাশ:  ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৫:৪৬
মহিউদ্দিন মিশু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

তিতাস নদী। হ্যা আমি বাঙালি ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের কথাই বলছি। আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণে এসে যৌবনে ফিরেছে সেই তিতাস নদী। শরতের প্রকৃতিতে এখনো কাশ ফুলের দেখা না মিললেও দেখা মিলেছে তিতাসে ছোট ছোট ঢেউয়ের। ফুলে ফেঁপে উঠে এখন তার যৌবন মেলে ধরেছে তিতাস। যৌবনদীপ্ত তিতাসের বুকে হাবুডুবু খেতে ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা আখাউড়া উপজেলার ‘এসএসসি ব্যাচ ৯৪’ বন্ধুরা মাতোয়ারা।

ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানেই তো বন্ধু বান্ধব নিয়ে হৈ-হুল্লোড়, ঘুরাঘুরি, জম্পেশ আড্ডা। নাড়ির টানে যারা আখাউড়ায় (এসএসসি ব্যাচ ৯৪) ঈদে বাড়িতে এসেছে তাদেরকে নিয়ে ঘুরতে বের হবেন মনস্থির করলেন জুয়েল ভাই। যেই চিন্তা সেই কাজ। মূহুর্তে সব বন্ধুকে ফোনে ডেকে পাঠালেন শহরের সড়ক বাজারের শেখ জামালের অফিসে। ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় একে একে উপস্থিত হলেন সাউথইস্ট ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার জুয়েল, এডিশনাল এসপি দুলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সোহাগ, রানার গ্রুপ চট্টগ্রাম ডিভিশন হেড অফ মার্কেটিং মবিন, কুমিল্লা কারাগারের ডেপুটি জেলার শিপন, টিভিএস হোন্ডা কোম্পানী ম্যানেজার সাব্বির, ফার্মাসিষ্ট রূপম, ইতালি প্রবাসী সবুজ এবং আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সফিক। বন্ধুরা মিলে ঠিক করলেন ঈদের একদিন পর তাদের ‘ব্যাচ ৯৪’ বন্ধুদের নিয়ে তিতাস নদীতে আনন্দ ভ্রমণে বের হবেন।

ব্যাংকার জুয়েল বলেন, যেই বন্ধুটির সাথে অনেক দিন ধরে অভিমান, সেই বন্ধুটির রাগ ভাঙ্গানোর সময়টাও এই ঈদের ছুটিতে। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংসার, চাকরিসহ কর্মব্যস্ততার কারণে কাছের বন্ধুদের সাথে অনেকটা আড্ডা দেওয়ার মত সময় হয় তো হয়ে উঠে না। কিন্তু এই ঈদে বন্ধুদের সাথে সব দুরত্ব ঘুচিয়ে দিনটিকে বন্ধুত্বপূর্ণ ও স্মৃতিময় করে তুলতে হবে। সুতুরাং তাদের সীদ্ধান্তের কথা অর্ধশতাধিক বন্ধুকে ফোনে জানিয়ে দেয়া হলো। ডাকা হয় তাদের আদরের ছোট ভাই হৃদয়ের মধ্যমণি আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মিশুকে। ব্যাংকার জুয়েল ভাই সাফ জানিয়ে দিল, যত ব্যস্ততাই থাকুক মিশু তোমাকে আমাদের ভ্রমণ সঙ্গী হতেই হবে। ব্যস, আমি রাজি। কারণ, বড় ভাইদের আদর পেতে আমি দারুণ হৃত।

তিতাস নদী পানিতে থৈ থৈ। নদীমাতৃক বাংলাদেশে এই বর্ষায় তিতাস তার রূপের মায়াজাল মেলে ধরেছে। আখাউড়া তিতাস রেলওয়ে ব্রীজ এলাকা কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে স্পট। দিন কী দিন মানুষের পছন্দের তালিকায় সবার ওপরেই এখন তিতাস পাড়। ছোট-বড় সবার কাছে সমান পছন্দ তিতাস নদী ও রেলওয়ে ব্রীজ এলাকা। নদীর পাড়ে এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ভ্রমণ পিপাসুরা আর তাদের মুগ্ধ করছে যৌবনা তিতাস।

তিতাস নদের মায়াজালে নিজেদের হারাতে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় আমরা একত্রিত হয়ে শহরের বড় বাজার নৌঘাটে চলে যাই। কর্মব্যস্তময় জীবনের দৈনন্দিন জীবনাচারে নির্মল প্রকৃতির যে বিরাট অনুপস্থিতি তা কিছুটা ঘুঁচাতে ভরা বর্ষায় তিতাস নদীতে নৌকা ভ্রমণের শিহরণ শুধু আমাকেই নয় উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে তুলছিলো। কৈশোরের শিক্ষাজীবনের সোনালী অতীত পেরিয়ে পরিণত বয়সে এসে পুনর্মিলন, আর সেই পুনর্মিলনের উপলক্ষ যদি হয় নৌকা ভ্রমণ তখন আনন্দের সীমা থাকে না। এ কথা ভাবতে আমাদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সেই কবে শিক্ষা জীবন পেরিয়ে আমরা আজ যে যার মতো সবাই কর্মজীবনে পা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও আনন্দের এমন পুনর্মিলনে আবেগে-উচ্ছ্বাসে মত্ত হয়েছিলেন সবাই। তিতাস নদীর বুকে এই নৌকা ভ্রমণে বছরের সেরা দিনটি উদযাপন করেন ‘ব্যাচ ৯৪’ সাবক শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৫০ জনের এই নৌকা ভ্রমণে স্কুল জীবেনর স্মরনীয় সব স্মৃতি থেকে স্মৃতিচারণ এই আনন্দযজ্ঞে যোগ করে বিশেষ মাত্রা।

প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত তিতাসের বুকে ঘুরতে সকলের অজান্তেই কখন রাত সাড়ে ৮টা হয়ে গেল টেরই পেলোম না আমরা। রাতের নৈস্বর্গিকতায় তিতাসের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে নৌকা থেকে নেমে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন ষ্টেশন এসে গরম চায়ে চুমুক দিয়ে উচ্ছ্বস্বিত সব বন্ধুরা। আনন্দের এই ভ্রমণ যাতে প্রতি বছর অব্যাহত থাকে সেই সিদ্ধান্ত নেন কৈশোরের সহপাঠিরা। শুধু ঈদ আনন্দই নয়, একটি সম্বয়ক কমিটি গঠন করে সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকান্ড করারও অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন ‘এসএসসি ব্যাচ ৯৪ বন্ধুরা’।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া,মহিউদ্দিন মিশু,ভ্রমণ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত