Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

পুলিশ সুপারের মহানুভবতায় ঠাঁই হলো বৃদ্ধার

প্রকাশ:  ১১ আগস্ট ২০১৯, ১৪:১০
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

শনিবার সকাল। প্রতিদিনের মতো গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় প্রচণ্ড রোদের মধ্যে পিচঢালা পথে শুয়ে ভিক্ষা করছিলেন এক বৃদ্ধা। ওইসময় যানজট নিরসনে রাস্তায় কাজ করছিলেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। হঠাৎ করেই তার চোখ পড়ে ওই বৃদ্ধার দিকে।

শামসুন্নাহার এগিয়ে যান ওই বৃদ্ধার দিকে। জানতে পারেন বৃদ্ধার নাম শান্তি চৌধুরী। বয়স ৭২। বৃদ্ধার শরীর জুড়ে বলিরেখা। কথা অস্পষ্ট। চোখেও ঝাপসা দেখেন।

শামসুন্নাহার বৃদ্ধার কাছে জানতে চান জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কেন তাকে ভিক্ষা করতে হচ্ছে? কিছু সময় নীরব থাকেন শান্তি। পরে একের পর এক বলতে থাকেন তার জীবনের নানা ঘটনা।

শান্তির কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এসপি। পরম দরদ ও যত্মে পুলিশের একটি গাড়িতে করে এসপি তাকে পাঠিয়ে দেন গাজীপুর সদরের মণিপুর এলাকার গিভেন্সি গ্রুপের প্রতিষ্ঠিত বয়স্ক ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে। অবশেষে এই বৃদ্ধার ঠাঁই হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে।

গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখালী এলাকার ননী চৌধুরীর স্ত্রী শান্তি চৌধুরী। স্বামী প্রয়াত হয়েছেন বহু আগেই। শান্তি চৌধুরীর অর্থবিত্ত যা ছিল সব কিছু একদিন দিয়ে দেন মেয়ের জামাইকে। শর্ত ছিল জীবনের শেষ দিনগুলো যেন শান্তি চৌধুরী মেয়ের কাছে শান্তিতে থাকতে পারেন। কিন্তু তা আর হয়নি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শান্তি চৌধুরীর শেষ দিনগুলো কাটছিল পিচঢালা পথে শুয়ে ভিক্ষা করে। দ্বিতীয় একটা পক্ষ শান্তিকে দিয়ে ভিক্ষা করাতো।

শান্তি চৌধুরী পুলিশকে জানিয়েছেন, তার একটি ছেলে আছে। নাম লিটন চৌধুরী। পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে থাকেন তিনি। প্রায় ১০ বছর আগে একমাত্র মেয়ে বাপ্পী চৌধুরীর স্বামী বাবুল মল্লিককে জমাজমি যা ছিল সব বিক্রি করে টাকা দিয়ে দেন। শর্ত ছিল জীবনের শেষ দিনগুলো তাদের সান্নিধ্যে থাকবেন। সহায় সম্বল সব নেওয়ার পর বাড়ি থেকে শান্তিকে বের করে দেওয়া হয়। বেঁচে থাকার তাগিদে চলে আসেন গাজীপুর। বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, এক সময় তার সব ছিল। এখন কিছুই নেই। তবে ছেলে মেয়ে আছে। তারা তাকে ঠাঁই দেয়নি।

জয়দেবপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সুপারের মহানুভবতায় বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হয়েছে শান্তি চৌধুরীর। এখন হয়তো তিনি কিছুটা শান্তি পাবেন। পুলিশের গাড়িতে করে শান্তিকে প্রথমে তার কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে তিনি শান্তিকে ওই বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে আশ্রয় করে দেন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

গাজীপুর
apps

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত