Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

অর্ধেক বাচ্চা মায়ের পেটে রেখে পালাল নার্স!

প্রকাশ:  ১৯ জুলাই ২০১৯, ১৩:০৬
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতলে ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে নার্সদের সিজারে নবজাতকের গলা কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বাচ্চাটির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৪ জুলাই) এই ঘটনাটি ঘটে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে।

জানা যায়, বাচ্চাটির গলা কেটে গেল অবস্থা বেগতিক দেখে ডেলিভারি শেষ না করেই অপারেশন থিয়েটারে মূমুুর্ষ অবস্থায় অর্ধেক বাচ্চা মায়ের পেটে এবং মাথা ও হাত বাইরে রেখে রোগীকে ফেলে যায় নার্সারা পরে অন্য একটি ক্লিনিকে গিয়ে মৃত বাচ্চা প্রসব হয়।

বাচ্চাটির বাবা মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে উপজেলার কুমড়াকাপন গ্রামের বাসিন্দা মোঃআওয়াল হাসান জানান, রোববার ভোরে স্ত্রীর প্রসব ব্যথায় যখন ছটফট করছিলেন তখন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। প্রথমে নার্সরা রোগী দেখে জানায় নরমাল ডেলিভারি হবে। এরপর ১০টার দিকে একজন ডাক্তার এসে চেকআপ করে বলেন নরমাল ডেলিভারিতেই হবে। এর কিছু সময় পর নার্সরা আমাকে জানায় সিজার লাগবে। সিজারের জন্য মেডিসিন আনার জন্য একটা স্লিপ দিয়ে হাসপাতালের একজন ব্যক্তি আমার সাথে দিলেন মেডিসিন আনার জন্য। আমি ওর সাথে না গিয়ে অন্য একটি ফার্মেসি থেকে ঔষধ কিনে নিয়ে আসি।

তিনি আরও জানান, ঔষধ আনার পর নার্সরা বলে রক্ত লাগবে, আগের যে ছেলেকে দিয়ে তারা ফার্মেসিতে পাঠিয়েছিল তাকে দেখিয়ে বলে তার কাছে রক্ত আছে পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। আমি পাঁচ হাজার টাকা না দিয়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে বাইরে থেকে এক পাউন্ড রক্ত নিয়ে আসি। কিন্তু আমি এসে দেখি রোগীকে নরমাল ডেলিভারির জন্য নিয়ে গেছে। এর কিছুক্ষণ পরে নার্স এসে বলে আপনার বাচ্চা আর বেঁচে নেই। মায়ের অবস্থাও ভালো না, মাকে বাচাতে হলে এখানে একটা সই দেন আমি কিছু চিন্তা না করে সই দিলাম। বাচ্চার মাকে বাঁচাতে হবে। যখন ভিতরে গেলাম তখন দেকলাম নবজাতক বাচ্চার হাত আগে বের করা হাতের ডানা ছিড়ে ফেলছে আর বাচ্চার গলার রগসহ গলা টেনে চিরে ফেলছে, রক্ত ঝরছে অবিরত। আমি দৌঁড়ে গেলাম নার্স আনার জন্য এসে দেখি একটাও নার্সও নাই, সবাই পালিয়েছে। আমি চিৎকার শুরু করি তখন হাসপাতালে কর্মরত সুহেব নামে একটি ছেলে আমার সাথে তর্ক শুরু করে সে আমার ঘাড় ধরে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। বলে রোগীকে নিয়ে এখন হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যা। আমার রোগীকে বাঁচানোর জন্য স্থানীয় একটি প্রাইভেট ক্লিনিক ‘আল-হামরা হাসপাতালে’ নিয়ে গিয়ে গেলে সেখানে মৃত বাচ্চা বের বের হয়। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।

এদিকে এই বাচ্চার মা সুমনা বেগম বলেন, আমার স্বামী যখন তাদের বলে দেওয়া মানুষের থেকে রক্ত না কিনে বাইরে রক্ত আনতে যায় তখন নার্সরা আমাকে জোড় করে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। তাদের বললাম, একটু আগে বললেন সিজার লাগবে আমার স্বামী রক্ত আনতে গেছে তখন তারা আমাকে ধমক দিয়ে জোর করে নিয়ে যায় তখন আমার শাশুড়ি সাথে ছিলেন। তারা আমার পেটে জোড়ে জোড়ে চাপ দিতে থাকে এবং পশুর মত বাচ্চাকে টানতে শুরু করে এতে আমার বাচ্চার হাত এবং গলার রগ ছিড়ে যায়।

তিনি আরও বরেন, আমার শাশুড়ি সহজ সরল মানুষ তিনি সব দেখেছেন কিন্তু কিছু বলতে পারছিলেন না। পরে তারা আমাকে ফেলে রেখে চলে যায়। তাদের কথা মত রক্ত না কিনায় আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলছে। এরপর একটি প্রাইভেট ক্লিনিক নিয়ে গেলে সেখানে অপারেশন করে বাচ্চার মৃতদেহ বের করা হয়।

এ বিষয়ে আল-হামরা হাসপাতালের ম্যানেজার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের যে ডাক্তার অপারেশন করেছেন তিনি নিজেও অভাব হয়েছেন এ ধরনের কাণ্ড দেখে এবং বিষয়টি সদর হাসপাতাল কতৃপক্ষকে জানাতেও বলেছেন।

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) রত্নদ্বীপবিশ্বাস তীর্থ জানান, আমি আজ মাত্র যোগ দিয়েছি বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতের তত্ত্ববধায়ক পার্থ সারথী দত্ত কানুনগো জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার দু’দিন আগে থেকে বাচ্চাটির নড়াচড়া ছিল না। বাচ্চা যদি গর্ভে মারা যায় অনেক সময় ফুলে যায় সে অবস্থায় কেটে বের করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সেদিন ৯টি সিজার হয় হাসপাতালে এবং তখন ৩ জন বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন নার্সরা সিজার করেনি, ডাক্তাররাই করেছেন।

পূর্বপশ্চিম/অ-ভি

অর্ধেক,বাচ্চা,মৌলভীবাজার,সদর,হাসপাতল,নার্স,নবজাতক
apps

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত