• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

'ডলডলে মারগায়ে কারনায়ে' মতি চাচার কণ্ঠে আর শোনা যাবে না

প্রকাশ:  ১৮ জুলাই ২০১৯, ২০:৪০ | আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ১৭:৩৮
আনিসুর রহমান

ডলডলে মারগায়ে কারনায়ে, লেখা পড়া ভালো লাগে না, বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে- রাতের বেলায় বাড়ি-বাড়ি ঘুরে সুমধুর কণ্ঠে এসব গান যিনি গেয়ে বেড়াতেন- সেই মতি চাচা আর আমাদের মাঝে নেই। ৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার তার মরদেহ ভেসে উঠে শীতলক্ষ্যা নদীতে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাকে আজ বিকেলে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও গ্রামে নিজ বাড়িতে কবরস্থ করা হয়েছে। তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলে ও অনেক আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হেয়েছিল ৬৫ বছর। তার পুরো নাম মোজাম্মেল হক মতি।

প্রতিবেশী আবু সায়ীদ ও মরিয়ম জানান, মতি চাচা অনেক বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তখন সারাদিন রাস্তা-ঘাট ও বাড়িবাড়ি হেঁটে গান গাইতেন। আমরা সেই গান শুনে মুগ্ধ হতাম। সবার সাথে সুন্দর ব্যবহার করেতেন, সুন্দর করে কথা বলতেন, কারো কোনো ক্ষতি করতেন না। তবে চিকিৎসার পর গত ৮-৯ বছর ধরে তিনি মোটামুটি ভালোই ছিলেন। গত কয়েকদিন ধরে তিনি আবার পুরোনো মানসিক সমস্যা ও অস্থিরতায় ভুগছিলেন। বাড়িতে তার মন বসতো না। বের হয়ে এদিক-ওদিক চলে যেতেন। বেশ কদিন ধরেই বলছিলেন কোথাও যাবেন, পরে তিনদিন আগে হঠাৎ সুযোগ পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান, এলাকার চামার বাড়ির টেক হয়ে তরগাঁওয়ের কোহিনূর বয়েস স্কুল এলাকার দিকে গিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে নামেন। পরে একসময় হয়তো ভরপুর নদীতে তলিয়ে যান। আশেপাশের মানুষ নাকি হালকা চেঁচামেচির আওয়াজও শুনছিল। কিন্তু বুঝতে পারেনি। তিনদিন বহু খোঁজাখুঁজির পর আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তরগাঁও বান্নি খোলা এলাকা সংলগ্ন ১ নং স্কুলের সামনে নদীর বাঁকে তার লাশ পাওয়া যায়। আমি মতি চাচার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আল্লাহ তাকে বেহেস্তবাসী করুন। আমিন।

মতি চাাচার বড় ছেলের নাম রাকিব। তিনি কোরানে হাফেজ। মেজো ছেলের নাম রাহিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি মাস্টার্স করার পাশাপাশি একটা ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করছেন, আর ছোট ছেলে জাহিদ বিদেশে ছিল এখন বাড়িতে পোল্ট্রি ফার্ম দিয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এআর

মতি
  • আরও পড়তে ক্লিক করুন:
  •  মতি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত