Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
  • ||

ফেনীতে হজ যাত্রীদের নিয়ে সিভিল সার্জন অফিসের হয়রানি

টাকা দিলে টিকা মেলে!

প্রকাশ:  ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:৩৭
ফেনী প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

চলতি বছর হজ গমনেচ্ছুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদান গত মাসের ১৬ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ যাত্রীদের ম্যানিনজাইটিস বা ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকাদান সারা দেশের ন্যায় সরকারিভাবে বিনামূল্যে জেলা শহরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য ও টিকাদান কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

মূলত আমাদের দেশের কোনও লোক থেকে অন্য দেশের লোকদের মাঝে যাতে করে কোনও সংক্রামক না ছড়াতে পারে কিংবা ম্যালেরিয়া, জন্ডিসসহ আবহাওয়া জনিত কোনও রোগ যাতে এ দেশের হাজীদের মাঝে সংক্রমিত হতে না পারে এ জন্যই প্রত্যেক হাজীদেরকে পূর্বেই দু’টো করে এ ভ্যাকসিন বা টিকা দিতে হয় বাধ্যতামূলক ভাবে।

জানা গেছে, প্রত্যেক হজ যাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ম্যানিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিয়ে জেদ্দা বিমানবন্দরে দেখানোর জন্য স্বাস্থ্য সনদ সংগ্রহ করতে হয়। হজ যাত্রীকে টিকা নিতে যাওয়ার সময় প্রাক-নিবন্ধন বা নিবন্ধনের ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে প্রতিটি হজ¦ যাত্রীকে।

এদিকে হজ মৌসুমে এ সকল হজ যাত্রীদের ভ্যাকসিন বা টিকা নিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ফেনী সিভিল সার্জন অফিসের লোকজন নানা ভাবে হয়রানি শুরু করে দিয়েছে। ‘টাকা দিলে টিকা মেলে’ এ যেন সিভিল সার্জন অফিসের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি হাজীদের জন্য দু’টো টিকা বা ভ্যাকসিন সরকারি ভাবে মিনামূল্যে দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও এ অফিসের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন রুপ।

ভূক্তভোগী, হজ কাফেলার কর্মকর্তা ও হজ এজেন্সিসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা সিভিল সার্জন অফিসের স্টোনো বাবুল চন্দ্র দাসই টিকা দানের ব্যাপারে হাজীরা প্রায় সময়ই তার কাছে হয়রানির শিকার হতে হয়।

উক্ত অফিসে ভ্যাকসিন রিজার্ভ থাকার পরেও উক্ত বাবুল চন্দ্র দাস হাজীদেরকে কিংবা হজ কাফেলার লোকজনকে অনেকটা ধমকের সুরে বলেন, ‘অন যান, টিকা শেষ অই গেছে, কাইল্যা আইয়েন, আঁই ব্যস্ত আছি।’ এ রকম টালবাহানা করেন। কিন্তু ঠিকমতো ২০০ টাকা ফি দিলে কৌশলে টিকা দান রুমে নিয়ে টিকা প্রয়োগ করে থাকেন।

মো. আলী আজম নামের এক হাজী গত ৭ জুলাই উক্ত অফিসে টিকা দানের জন্য সকাল ১০টায় গেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দুপুর ২টার সময় ২০০ টাকা ফি দিয়ে টিকার কাজ সম্পন্ন করেন বলে জানান।

এদিকে উক্ত অফিসের স্টোনো বাবুল চন্দ্র দাসের সাথে হাজীদের টিকা দানের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ফেনী সিভিল সার্জন অফিসের প্রয়োজনের তুলনায় ভ্যাকসিন সরবরাহ কম, এখানে প্রথম ধাপে ৩৬০, দ্বিতীয় ধাপে ৮০০, তৃতীয় ধাপে ২৫০ ও চতুর্থ ধাপে ১৫০টি ভ্যাকসিন বা টিকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। টাকার বিনিময়ে হাজীদেরকে টিকা প্রদানের বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

ভুক্তভোগী ও ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা জানান, ফেনী জেলার জন্য বরাদ্ধকৃত টিকা গুলো পাশ্ববর্তী জেলার লোকদের মাঝেও টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তারা বলেন, হাজীরা মূলতঃ আল্লাহর মেহমান, যেখানে সরকারি ভাবে বিনামূল্যে হাজীদেরকে এ ভ্যাকসিন বা টিকা দেয়ার কথা সে ক্ষেত্রে অযথা আল্লাহর মেহমানদেরকে কষ্ট দেয়া এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন যেন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করণে এটাই ধর্মপ্রাণ হজগামী লোকদের কামনা।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী আবদুল মান্নান জানান, এখানে সকল হাজীদেরকে বিনামূল্যে টিকা দান করা হয়। কিন্তু কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকেন আমাদের অজান্তে তাহলে এটা খুবই দুঃখজনক।

সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজজামান প্রশিক্ষণে ঢাকা থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

পূর্বপশ্চিম/অ-ভি

apps

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত