Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

ভারী বর্ষণে ভূমিধসের শঙ্কা: পাহাড়ে মাইকিং, আশ্রয়কেন্দ্র চালু

প্রকাশ:  ০৭ জুলাই ২০১৯, ০২:৪৭
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

বৈরি আবহাওয়া আর ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যাওয়ার জন্য মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ‘মৃত্যুঝুঁকি’ নিয়ে বাস করা লোকজনের জন্য নগরের বিভিন্ন এলাকায় আটটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীও।

শনিবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে নগরের সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং কার্যক্রম শুরু হয়। এসব লোকজনকে সরিয়ে নিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সরকারি সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন পাহাড়গুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরিয়ে নেওয়া লোকজনকে যাতে অসুবিধায় পড়তে না হয়, এজন্য আকবর শাহ এলাকায় পাহাড়তলি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফয়’স লেক এলাকার ফিরোজ শাহ ই-ব্লক স্কুল, পলিটেকনিক কলেজ এলাকায় চট্টগ্রাম মডেল হাই স্কুল, জালালাবাদ হাউজিং এলাকায় জালালাবাদ বাজার সংলগ্ন শেড, ট্যাংকির পাহাড় এলাকায় আল হেরা ইসলামিয়া মাদ্রাসা, মিয়ার পাহাড় এলাকায় রৌফাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝর্ণা পাহাড় এলাকায় লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পোড়া কলোনি এলাকায় ছৈয়দাবাদ স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

নগরের ৬টি সার্কেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত ৬ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার সমন্বয়ে এসব আশ্রয়কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে আশ্রয় নিতে আসা লোকজনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির মজুদ রাখা হয়েছে।

পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের শঙ্কা থাকায় লোকজনকে সরিয়ে নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করার পাশাপাশি তারা যাতে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে এ জন্য ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো লোক ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বাস করতে পারবে না। তাদের আশ্রয়কেন্দ্র অথবা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় চলে আসতে হবে। রাতে কেউ যাতে পাহাড়ে থাকতে না পারে- এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পাহাড়ের মালিক বা তদারকি সংস্থাকে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। প্রয়োজনে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করবেন। যেকোনো মূল্যে প্রাণহানি ঠেকাতে চাই আমরা।

এদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রামে। আগামী ২৪ ঘণ্টা আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, ভারী বৃষ্টির সঙ্গে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে থেমে থেমে ভারী বর্ষণের কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানির নিচে তলিয়ে যায় আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। এতে দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের শঙ্কা থাকায় লোকজনকে সরিয়ে নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করার পাশাপাশি তারা যাতে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে এ জন্য ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

বৈরি আবহাওয়া আর ভারী বর্ষণ,পাহাড় ধসের আশঙ্কা,চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত