• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
  • ||
শিরোনাম

পানির নিচে পানি উন্নয়ন বোর্ড, দেখালেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশ:  ০৫ জুন ২০১৯, ১০:৫৩ | আপডেট : ০৫ জুন ২০১৯, ১০:৫৯
হবিগঞ্জ সংবাদদাতা

সামান্য বৃষ্টি হলেই হবিগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এর আশপাশের এলাকায় তো রীতিমতো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যারা পানি ব্যবস্থাপনায় কাজ করেন তারা নিজেরাই বর্ষা মৌসুমে পানির নিচে অবস্থান করেন।

মঙ্গলবার (০৪ জুন) নিজ জেলা হবিগঞ্জে এসে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরে ফেসবুকে লাইভ করেছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। প্রায় তিন ঘণ্টায় এ ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে ৭ হাজার বার। মন্তব্য করেছেন ৩ হাজার ৯ জন। আর ভিডিওটি দেখেছেন ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ।

এক ব্যবসায়ী জানান, অল্প বৃষ্টি হলেই জমে যায় পানি। সেখানে চলাচল কষ্টকর হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, একটু বৃষ্টি মানেই তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।

ওই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, আগামীকাল ঈদ আর আজ চারিদিকে পানিতে ডুবে গেছে, ব্যবসা করব কীভাবে আর পানিতে কাস্টমার আসবে কীভাবে?

কী কারণে এই পানি জমে যায়? সেটাও স্পষ্ট করলেন ব্যরিস্টার সুমন। ফেসবুক লাইভের সামনে এসে এক গণমাধ্যমকর্মী বলেন, আশপাশের যেসব খাল রয়েছে সেসব সম্পূর্ণ দখলে চলে গেছে। এ সব দখল করেছেন স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকার্তারা যোগসাজশ করে।

হবিগঞ্জের সায়েদুল হক সুমন ২০০৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করার পর ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চলে যান। সেখানে সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার অ্যাট ল’ করেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর। আইনজীবী হলেও সুমন পরিচিতমুখ হয়ে উঠেছেন অনিয়মের বিরুদ্ধে তার ‘ফেসবুক লাইভ আন্দোলন’ এর মাধ্যমে।

অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘ফেসবুক লাইভ’ আন্দোলন নিয়ে সায়েদুল হক সুমন বলেন, প্রযুক্তির এমন সদ্ব্যবহারের কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। শিক্ষাজীবন থেকেই আমি বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত। কাজ করতে করতেই দেশে আধুনিক প্রযুক্তির প্রচলন ঘটে। মনে হচ্ছিল ছোট একটা ভালো কাজ করে যদি প্রচার করা যায়, তাহলে আরো হাজারটা ভালো কাজ হবে। একপর্যায়ে ধীরে ধীরে ফেসবুক লাইভে কথা বলার সাহস পাই। ভালো সাড়াও আসে সব জায়গা থেকে।

লাইভে ব্যারিস্টার সুমন জনপ্রতিনিধিদের দোষারোপ করে জলাবদ্ধা সৃষ্টি হওয়ার কারণ জানতে চান। তিনি বলেন, যাদের পানি ব্যবস্থাপনায় কাজ করার কথা তারাই পানির নিচে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা সার্কিট হাউজ পানির নিচে। শহরের প্রধান সড়কে হাঁটু পানি। শায়েস্তানগর হকার্স মার্কেট পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ঈদের মৌসুমেও তাদের ব্যবসা বাণিজ্য ভেস্তে গেছে।

এ সময় তিনি হকার্স মার্কেটের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, অল্প বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, একটু বৃষ্টি মানেই তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া। আগামীকাল ঈদ, আজ দোকানের চারপাশ পানিতে ডুবে গেছে, ব্যবসা করব কীভাবে। পানিতে ক্রেতা আসবে কীভাবে?

কী কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে সে চিত্র তুলে ধরেন গণমাধ্যম কর্মী রফিকুল হাসান চৌধুরী তুহিন। তিনি বলেন, হবিগঞ্জ শহরে প্রচুর খাল, নালা, ডোবা ছিল। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো না। এখন এগুলো দখল হয়ে গেছে। হবিগঞ্জের পানি নিষ্কাশনের সবচেয়ে বৃহৎ জলাশয় পুরোনো খোয়াই নদীটি দখল করে অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ দখলকারীদের কারও বৈধতা নেই। এর কুফল মূলত আজকের জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।

ফেসবুক লাইভ নিয়ে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, প্রযুক্তির এমন সদ্ব্যবহারের কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। শিক্ষাজীবন থেকেই আমি বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত। কাজ করতে করতেই দেশে আধুনিক প্রযুক্তির প্রচলন ঘটে। মনে হচ্ছিল ছোট একটা ভালো কাজ করে যদি প্রচার করা যায়, তাহলে আরও হাজারটা ভালো কাজ হবে। একপর্যায়ে ধীরে ধীরে ফেসবুক লাইভে কথা বলার সাহস পাই। ভালো সাড়াও আসে সব জায়গা থেকে।

পিপিবিডি/অ-ভি

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত