Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬
  • ||

ঈদের ছুঁটিতে ভ্রমণ

প্রকাশ:  ০৫ জুন ২০১৯, ১০:৪৩
হাবিব সরোয়ার আজাদ
প্রিন্ট icon

ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কুলঘেষা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর নৈসর্গিক অপরুপ দৃশ্যবলীতে প্রকৃতি তার নিজ হাতেই সাজিয়েছেন হাওরের রাজধানী সুনামগঞ্জ জেলাকে ।

তাই এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে লাখো পর্যটকগণকে আকৃষ্ট করবে সমুদ্র সাদৃশ্য বিশাল জলরাশীর টাঙ্গুয়া হাওর -সুন্দরবন লেক হাবেলি রাজবাড়ি সহ সুনামগঞ্জের ৩৩ দর্শনীয় স্থান।

জেলার প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্য্যরে ভাণ্ডার তাহিরপুরের পাহাড়,টিলা, সীমান্তনদী , চুনাপাথর খনি প্রকল্প, শহীদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রী লেক), সমুদ্র সদৃশ্য টাঙ্গুয়ার হাওর, জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান, হলহলিয়ার রাজবাড়ি, লালঘাট ঝর্ণা,রাজাই ঝর্ণা, সুন্দরবন লেক সহ প্রতি বছর দু’টি ঈদে ৩১টি দর্শনীয় স্থান দেখতে কয়েক লাখ দেশী -বিদেশী পর্যটক, ভ্রমন পিপাসুদের আগমন ঘটে সুনামগঞ্জের হাওর ও সীমান্ত জনপদে।

এবার শবে কদর,পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটি সহ ৯ দিনের ছুটি থাকায় এসব দর্শনীয় স্থান দেখতে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ লোকের সমাগম ঘটবে তাহিরপুর সহ গোটা জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে।

কোন কোন পর্যটক ৪ জুন রাত থেকেই তাহিরপুর, বাদাঘাট, ট্যাকেরঘাটে অবস্থান করছেন ঈদেও ছুটি কাঁটানোর ফাকে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে। পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়ন সোসাইটির এক গবেষণায় প্রকৃতির রাজ্য তাহিরপুরেই শুধুমাত্র প্রকৃতির রুপ দেখতে ও প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহার ছুটির দিনগুলোতে প্রায় দু’ থেকে আড়াই লাখের মত দর্শনার্থী এবং পর্যটকের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে প্রতি বছর।

অন্যান্য বছরর তুলানায় এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে পওে ৯ দিনের ছুটিতেও বরাবেরর মত তাহিরপুর সহ জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান গুলোতে গড়ে দুই থেকে আড়াই লাখের মত দেশি বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীর আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে ৪ জুন থেকে। ৮ জুন শনিবার ছুটি শেষ হলেও আগে পিছে ৯ দিনের ছুটি শেষে ৯মে অফিস আদালত বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে।

সেক্ষেত্রে ঈদের দিন থেকে ঈদের ছুটির শেষ বিকেল পর্যন্ত লাখো পর্যটকের আগমণের অপেক্ষায় রয়েছে সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সম্পদ ও স্যেন্দর্য্যরে ভান্ডারখ্যাত মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে থাকা তাহিরপুরের হযরত শাহ আরেফিন(রহ;) আস্থানা, ওপারের মেঘালয় পাহাড়ে হযরত শাহ আরেফিন (রহ:)’র ইবাদত খানার পাহাড়ি গুহা সাথে ঝর্ণা ধারা, ২৩ কিলোমিটার দৈর্ঘের রুপ বৈচিত্র সম্পদে ভরপুর মরুময় দৃশ্যাবলীর সীমান্তনদী জাদুকাঁটা, সবুজের অভায়ারণ্য বারেকটিলা, এশিয়ার সর্ব বৃহৎ জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান, রাজারগাঁও অদ্বৈত প্রভুর আখড়াবাড়ি, গড়কাটি ইসকন মন্দির, হলহলিয়ায় হাবেলি রাজবাড়ি, কড়ইগড়া-রাজাই আদিবাসী পল্লী, কড়ইগড়া মাঝের টিলা, রাজাই টিলা, রাজাই ঝর্ণা ধারা, টেকেরঘাটের বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশন, বড়ছড়া বীর শহীদদের বধ্যভুমি, ভারতঘেষা ভাঙ্গারঘাট কোয়ারী, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প থাকা শহীদ সিরাজ বীর উওম লেক (নীলাদ্রী লেক), ৭১’র মুক্তিযোদ্ধের ৪নং সেক্টরের ৫-নং সাব সেক্টরের টেকেরঘাটের শহীদ স্মৃতিস্থম্ভ, কাঁচ বালির টিলা, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প, শহীদ সিরাজ বীর উওমের সমাধীস্থল, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে টেকেরঘাট পাহাড়ি ছড়া, লাকমা ছড়া, লালঘাট ছড়া, লালঘাট ঝর্ণাধারা, চারাগাঁও শুল্কষ্টেশন ,লামাকাঁটা গ্রাম সংলগ্ন সুন্দরবন কোয়ারি (লেক), বাগলী ছড়া নদী, বাগলী শুল্ক ষ্টেশন, শনি-মাটিয়াইন হাওর ও ওয়ার্ল্ড হেরিটেইজ রামসার সাইট মাদার ফিসারিজ অব টাঙ্গুয়ার হাওর সহ নানা দর্শনীয় স্থানগুলো। এছাড়াও জেলার ছাতকে রয়েছে বৃটিশ আমলে স্থাপিত ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, চুন ফ্যাক্টরী, বৃটিশ আমলের ইংলিশ টিলা, লাফার্জ সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, রুপওয়ে, পেপার মিল, মণিপুরী সম্প্রদায় অধ্যুষিত ছনবাড়ির লাগোয়া সীমান্তনদী সোনাইঘেষা বাগান বাড়ি।

দোয়ারাবাজার উপজেলায় রয়েছে, বাঁশতলা শহীদ মিনার ও বীর শহীদদের কবরস্থান, টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড, সীমান্তনদী খাসিয়ামারা, আদিবাসী পল্লী ঝুমগাঁও।

জেলার সদর উপজেলায় রয়েছে মরমী কবি সাধক পুরুষ হাসন রাজার বাড়ি ও মিউজিয়াম, পুরাতন কালেক্টরেট ভবনে ঐহিহ্য জাদুঘর,ডলুরা শহীদ মিনার ।

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের যে কোন স্থান থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হয়ে সরাসরি বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, লেগুনা, অটোরিক্সা করে তাহিরপুর উপজেলা সদর কিংবা লাউড়েরগড় ও বিন্নাকুলিঘাটে পৌছে মোটর সাইকেল কিংবা ল , ষ্পিডবোর্ড ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ভাড়া নিয়ে ইচ্ছে মত ঘুরাফেরা করা যায় তাহিরপুর সহ জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান গুলোতে।

কোন পর্যকট কিংবা দর্শনার্থী রাতে থাকতে চাইলে জেলা সদও ছাড়াও তাহিরপুর উপজেলা সদরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলা, উপজেলা পরিষদের রেষ্ট হাউস, হোটেল টাঙ্গুয়া ইন, টাঙ্গুয়ার হাওরে হাওর বিলাস রেষ্ট হাউস, বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটের তারেক আবাসিক হোটেল, বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশনের জয়বাংলা বাজারে হোটেল খন্দকার আবাসিক, টেকেরঘাটের অতিথি ভবন ও জেলা প্রশাসন কতৃক নব নির্মিত শহীদ সিরাজ কটেজে নির্ধারিত ভাড়ায় গ্রæপ কিংবা স্বপরিবারে থাকতে পারবেন। পর্যটক কিংবা দর্শনার্থীরা স্থানীয় এলাকায় থাকা আত্বীয়-স্বজন ছাড়াও পূর্ব পরিচিত কেউ থাকলে যাতায়াত কিংবা থাকা খাওয়ার ব্যাপারে তাদের সাথেও ভ্রমণে আসার পূর্বে পরামর্শ করে নিতে পারেন। এছাড়াও জেলা সদর ও শিল্পনগরী ছাতক শহরে ভালো মানের একাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। জেলা সদর থেকে একই পদ্ধতিতে দোয়ারাবাজার পার্শ্ববর্তী শিল্পনগরী ছাতকে যাতায়াত করা যায়।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান জানান, দেশি বিদেশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপক্তা দিতে সুনামগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিস্ট দর্শনঅয় এলাকার থানা পুলিশ আন্তরিক রয়েছেন।

সুনামগঞ্জ ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো মাকসুদুল আলম বললেন, পর্যটকগণ সীমান্তঘেণা যে কোন দর্শনীয় স্থান দেখতে চাইলে কোন অবস্থাতেই যেন বাংলাদেশ -ভারত সীমান্ত অতিক্রম না করেন। প্রয়োজনে পর্যটকরা কোন রকম নিরাপক্তাহীনতা অনুভব করলে সীমান্তের বিওপি বা আশেপাশে থাকা বিজিবির টহল দলের সহযোগীতাও নিতে পারেন।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জের যে কোন দর্শনীয় স্থানে পর্যটক কিংবা ভ্রমণ পিপাসুরা ভ্রমণে আসলে জেলা প্রশাসন তাদেরকে সার্বিক সহযোগীতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

পিপিবিডি/আরএইচ

ঈদ
apps

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত